সাপের বিষেই দুরারোগ্য
ব্যাধির নিরাময়যাযাদি ডেস্ক
সাপকে তার বিষের জন্য মানুষ যতই ভয়ই পাক না কেন, শেষ পর্যন্ত এ বিষের জন্যই সাপের দ্বারস্থ হতে হবে মানুষকে। বৃটিশ বিজ্ঞানীরা তাদের একটি গবেষণায় শেষ পর্যন্ত এ সিদ্ধান্তেই এসে পেঁৗছেলেন। অদূর ভবিষ্যতে ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, আর উচ্চ রক্তচাপের মতো দুরারোগ্য ব্যাধির মোক্ষম নিরাময় খুঁজে পাওয়া যাবে সাপের বিষের মধ্যেই।
সাপের বিষ থেকে মানবদেহের উপযোগী ওষুধ প্রস্তুত করা খুব একটা নতুন কিছু নয়। প্রস্তুতকারকদের বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিষের ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান বাদ দিতে হয়। তবে বাদ দেয়া এসব বিষাক্ত রাসায়নিকও বিশেষ প্রক্রিয়ায় শোধিত হয়ে আরো অনেক প্রাণঘাতী রোগের চিকিৎসার অবলম্বন হয়ে দাঁড়াতে পারে। বৃটিশ বিজ্ঞানীদের গবেষণার ফল সেই ইঙ্গিতই দিয়েছে। গবেষণায় তারা দেখেছেন, সাপের বিষের প্রোটিনকে চাইলেই নিরাপদ মানবদেহের জন্য সহনীয় প্রোটিনে পরিণত করা যায়। সাপের দেহেও বিষের এ ধরনের রূপান্তর ঘটে।
গবেষক নিকোলাস কেজওয়েল বলেন, 'বিবর্তনের খুব জটিল একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিষের এমন নানামুখী গুণের উদ্ভব হয়েছে। ...সাপের বিষ ধারণ করা গ্রন্থির ধরণ এমন যে, এটি প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক অণু উৎপাদন করে যাচ্ছে। কখনো কখনো শিকারকে আক্রমণ করার জন্য বিষাক্ত রাসায়নিকের অণু তৈরি করছে। আবার কখনো কখনো সাপের দেহের অন্য কোনো প্রয়োজনীয় কাজের জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক প্রস্তুত করছে। অর্থাৎ কেবল শত্রুপক্ষকে আক্রমণ করাই বিষের কাজ নয়।' সাপের গ্রন্থিতে বিষাক্ত রাসায়নিকের এই রূপান্তর কিভাবে ঘটে তা জানতে পারলেই বিজ্ঞানীদের সামনে অনেক ওষুধবিহীন অসুখ নিরাময়ের পথ উন্মোচিত হবে।
ড. উলফগ্যাং উস্টার বলেন, 'সাপের বিষ সাধারণত মানুষের রক্তচাপ আর হৃদযন্ত্রের ক্রিয়ার ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়, যার ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি মারা যায় বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, কেবল বিষাক্ত উপাদানটি বাদ দিলে এই বিষ ওই অঙ্গগুলোর জন্য বেশ উপকারী। তাছাড়া ডাক্তাররা রোগীর ওপর প্রয়োগকৃত ওষুধকে যেভাবে দেহের ভেতরের গন্তব্যস্থলে পেঁৗছে দিতে চান, এই বিষগুলো ঠিক সেসব পথই ব্যবহার করে। এখন ওষুধ প্রস্তুতকারকদের কেবলমাত্র বিষাক্ততার জন্য দায়ী প্রোটিনটিকে পরিবর্তন করে একে মানবদেহের উপযোগী করে তুলতে হবে।'
বিষ নিষ্ক্রিয়করণের এ প্রক্রিয়া বেশ কঠিন কিছু হবে না বলেই বিজ্ঞানীরা মনে করেন। কারণ সাপের বিষের সঙ্গে মানুষের দেহের উপযোগী প্রোটিনের ভিন্নতা সামান্যই। কেবল সাপই নয়, আরো বেশকিছু বিষাক্ত প্রজাতি; যেমন টিকটিকি এবং বিপজ্জনক সরীসৃপও মানবজাতির জন্য রোগ নিরাময়ের সুসংবাদ বয়ে নিয়ে আসতে পারে।
তবে সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ এই যে, কেবল কারখানায় রূপান্তরিত বিষই মানুষের জন্য উপকারী, স্বাভাবিক সর্পদংশন মানবদেহের জন্য মৃত্যু বা অসুস্থতা ছাড়া আর কিছু বয়ে আনছে না। তথ্যসূত্র : বিবিসি অনলাইন