অজ্ঞান পার্টির টার্গেট
ঈদে ঘরমুখো মানুষরাজধানীতে এমন অন্তত অর্ধশত চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা সূত্রযাযাদি রিপোর্ট
ঈদে ঘরমুখো মানুষের সর্বস্ব লুটে নিতে রাজধানীতে তৎপর হয়ে উঠেছে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা। বিশেষত বাসটার্মিনালগুলোয় এদের তৎপরতা সবচে বেশি। সারা রাজধানীতে এমন অন্তত অর্ধশত অজ্ঞান পার্টি সক্রিয় রয়েছে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা সূত্র।
সূত্রের দাবি, অজ্ঞান পার্টির কর্মকা- নিয়ন্ত্রণে রাখতে এরই মধ্যে নানামুখী প্রশাসনিক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযানও চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন বিভাগ।
এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার রাজধানীর মহাখালী বাসটার্মিনাল থেকে অজ্ঞান পার্টির ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-২ এর একটি দল। এর আগে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ রোববারও ৬ জনকে আটক করে।
সূত্রমতে, ঈদ মৌসুম ছাড়াও রাজধানীতে অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা থাকে। তবে ঈদ মৌসুমে তাদের তৎপরতা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এদের খপ্পরে পড়ে সাধারণ মানুষ তাদের সর্বস্ব হারায়। ঈদের সময় অজ্ঞান পার্টি ও ছিনতাইকারীদের তৎপরতা রোধ করতে গত ১৭ জুলাই থেকে পুলিশ ও র্যাবের বিশেষ টিম মাঠে নামানো হয়েছে। ঈদের ছুটির দিন পর্যন্ত ওই টিম মাঠে থাকবে।
গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা মগবাজার, সায়েদাবাদ বাসটার্মিনাল, মহাখালী বাসটার্মিনাল, গাবতলী বাসটার্মিনাল, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল, কমলাপুর রেলস্টেশন, যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা, রামপুরা, বনানী, কাকলী, উত্তরা, গুলশান, বনানী চেয়ারম্যান বাড়ি, আরামবাগ দেওয়ানবাগ শরীফের পাশে, ফার্মগেট, আসাদ গেট, শাহজাহানপুর, খিলগাঁও, খিলগাঁও ফ্লাইওভার, ফকিরাপুল বাজার, দৈনিক বাংলা মোড়, মতিঝিল কালভার্ট ও মিরপুর ১০ নাম্বার গোলচত্বর এলাকায় বেশি তৎপর রয়েছে।
তাদের পাশাপাশি পকেটমারদের তৎপরতাও আগের চেয়ে বেড়েছে রাজধানীতে। এছাড়া বাসস্ট্যান্ডগুলোতে ল্যাগেজ টানাটানি করে সর্বস্ব হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র। তাদের সামলাতে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার রাজধানীর প্রতিটি থানার অফিসার ইনচার্জদের নিয়ে বিশেষ বৈঠক করেছেন। বৈঠকের পর থেকেই থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দারাও ছদ্মবেশে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছেন।
পুলিশ ও র্যাবের পক্ষ থেকে অপরিচিত লোকদের কাছ থেকে কোনো কিছু না খাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিভিন্ন বাসটার্মিনাল এবং কমলাপুর রেলস্টেশন ও সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে টানা পার্টির সদস্যরা যাত্রীদের লাগেজ নিয়ে যাতে টানাহ্যাঁচড়া করতে না পারে সেদিকে বিশেষ নজর রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে পুলিশকে।
মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (সদর) হাবিবুর রহমান বলেন, রমজানের আগে নিরাপত্তাবিষয়ক সভায় অজ্ঞান পার্টিসহ মলম পার্টির সদস্যদেও দৌরাত্ম কমাতে বা গ্রেপ্তারে থানা পুলিশসহ গোয়েন্দা পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তারপরও কিছু ঘটনা আমাদের নজরে আসছে।
তিনি বলেন, অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। রমজানের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ২০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে রোববার গোয়েন্দা পুলিশের দক্ষিণের একটি টিম ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
র্যাব-২ এর কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন আহম্মেদ বলেন, অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের তৎপরতা বাড়ার কারণে র্যাবের তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। এরই অংশহিসেবে সোমবার অজ্ঞান পার্টির ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বলেন, এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোখলেছুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তারকৃত অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, রাজধানীতে তাদের মত অন্তত ৫০ টি গ্রুপ কাজ করছে। তাদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।