যশোরে গুলি ও বোমায়
বিএনপি নেতা খুনযশোর প্রতিনিধি
গুলি ও বোমা মেরে বৃহস্পতিবার রাতে দুর্বৃত্তরা হত্যা করেছে যশোরের নওয়াপাড়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ লুৎফর রহমানকে। এর প্রতিবাদে শুক্রবার যশোর শহরে লাশ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে স্থানীয় বিএনপি। একই দিনে নওয়াপাড়ায় অর্ধদিবস হরতালও পালন করে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনগুলো।
এদিকে লুৎফর রহমানকে হারিয়ে পরিবারের সদস্যরা শোকে মূহ্যমান হয়ে পড়েছেন। বারবার মূচ্র্ছা যাচ্ছেন আপনজনরা। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে অস্ত্রধারীদের গুলিতে নওয়াপাড়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ লুৎফর রহমান নিহত হন। ওই সময় তিনি নওয়াপাড়া থেকে দুই কিলোমিটার দূরে ধোপাদী মোড় নামক স্থানে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বর্ষা ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে বসে ছিলেন। এ সময় সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা কয়েকটি বোমা ফাটিয়ে চারদিকে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এরপর লুৎফর রহমানের দোকানে ঢুকে তাকে লক্ষ্য করে পেছন থেকে গুলি করে। এতে সঙ্গে সঙ্গেই তিনি মাটিতে ঢলে পড়েন। দ্রুত অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মেডিকেল অফিসার ডা. আলাউদ্দিন জানান, গুলিটি লুৎফর রহমানের পেছনের ঘাড় হয়ে গলা ভেদ করে গেছে। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ ঘটনার পরপরই গোটা নওয়াপাড়া শহরের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং ব্যবসায়ী ও পথচারীরা দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করে। এ সময় গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে আসে। লুৎফর রহমানের মৃত্যুর খবর শুনে তাদের মাঝে কান্নার রোল পড়ে যায়। ওই রাতেই ঘটনাস্থল ধোপাদীসহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়। পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি গাজী আজিবর রহমান জানান, লুৎফর রহমানকে সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করেছে। পরে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে মোটরসাইকেলে করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।
ছাত্রদল সভাপতি হাবিবুর রহমান মোল্লা জানান, দুটি মোটরসাইকেলে করে ৬ জন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত লুৎফর রহমানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে আসে। এরপর দুইজন সন্ত্রাসী দোকানে ঢুকে তার পেছন থেকে কাঁধে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে। মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে এলাকায় বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির মাধ্যমে তারা দ্রুত পালিয়ে যায়। এ সময় এলাকাবাসী সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করলে তারা বেঙ্গল রেল ক্রসিং নামক স্থানে জনতার উদ্দেশ্যে বোমা নিক্ষেপ করে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।
এদিকে হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে শুক্রবার নওয়াপাড়া বাজারে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলো অর্ধদিবস হরতাল পালন করেছে। হরতাল চলাকালে নওয়াপাড়া বাজারের যশোর-খুলনা মহাসড়কের ওপর এক প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করা না হলে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম হায়দার ডাবলু, বিএনপি নেতা ফিরোজ আহমেদ, ছাত্রদল নেতা হাবিবুর রহমান, শাহীন প্রমুখ। এদিকে শুক্রবার সকালে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিহতের ময়নাতদন্ত শেষ হয়। এরপর দুপুরে বিএনপি নেতাকর্মীরা লাশ নিয়ে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে। পরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আবুল হোসেন আজাদ, ইঞ্জিনিয়ার টিএস আয়ুব, জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামসুল হুদা, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন প্রমুখ। সমাবেশ থেকে আগামীকাল যশোরে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়েছে। সমাবেশ ও মিছিল শেষে বিএনপি নেতাকর্মীরা লুৎফর রহমানের মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
ঘটনার ব্যাপারে অভয়নগর থানার ওসি কাজী আবদুল ছালেক জানান, অপরাধীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এখনো এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়নি। নিহত লুুৎফর রহমানের গ্রামের বাড়ি নড়াইল জেলার লোহাগাড়া উপজেলার ইতনা গ্রামে। ধোপাদী মোড়ে তার একটি নিজস্ব বাড়ি রয়েছে। সেখানেই তার পরিবার বসবাস করেন। তিনি স্ত্রী, ৩ মেয়ে ও ১ ছেলে রেখে গেছেন।