ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি, আশ্বাসে
আস্থা নেই পার্বত্য নেতাদেররাঙামাটি প্রতিনিধি
পার্বত্য চট্টগ্রামে 'ভূমির প্রকৃত মালিকরাই মালিকানা পাবেন' বলে গত সপ্তাহে যে আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, তার ওপর নিজেদের অনাস্থার কথা জানালেন পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর নেতারা। তারা বলছেন, ক্ষমতার সাড়ে তিন বছর মেয়াদ পার করলেও পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে 'শুধু কিছু কমিটি বা চেয়ারের অদল বদল ছাড়া' আর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সরকার।
বর্তমান ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনকে 'সাহায্য ও সহযোগিতা' করতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান প্রসঙ্গে জনসংহতি সমিতি, ইউপিডিএফের দুই নেতা এবং চাকমা রাজা জানান, কমিশন আইন সংশোধন ও প্রথাগত নিয়মে পাহাড়ে ভূমি সমস্যার সমাধান করতে হবে। বর্তমান কমিশন যে সব সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভূমি জরিপ বা শুনানি সেগুলো স্থগিত করতে হবে। তাছাড়া পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের ব্যাপারে সরকারকে কথায় নয় কাজে দেখানোর দাবি করেছেন পার্বত্য নেতারা। পার্বত্যাঞ্চলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলোর ভূমি ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ২৭৬ হেডম্যানের উদ্দেশে গত ৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পার্বত্য এলাকার ভূমির মালিকানা আপনারা যেন পান- আমরা তা চাই। আমি চাই, ভূমির প্রকৃত মালিকরাই মালিকানা পাবে।
রাঙামাটিতে এক কর্মশালায় অংশ নেয়া হেডম্যানদের উদ্দেশে ঢাকায় নিজের সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে কমিশনকে 'সাহায্য-সহযোগিতা' করার আহ্বান জানিয়ে হেডম্যানদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ধারণা করে সমস্যা সৃষ্টি না করাই ভালো। আমি যতদিন আছি- ততদিন কোনো চিন্তা নাই।
পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইনে বেশ কিছু সংশোধনী আনতে পার্বত্যাঞ্চলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলোর এক দশকের দাবি যেখানে এখনো পূরণ হয়নি, অন্যদিকে আইন সংশোধনের আগ পর্যন্ত ভূমি কমিশনের কাজে সরকারি স্থগিতাদেশ থাকার পরও কমিশন যেখানে একের পর শুনানি আহ্বান করছে, আর পার্বত্য প্রতিনিধি সদস্যদের বয়কটের মুখে তা ভেস্তে যাচ্ছে।
অসামরিকীকরণের পর পার্বত্য চুক্তির দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ উপাদান- ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির যখন এই অবস্থা, তখন ভূমি কমিশনকে 'সাহায্য-সহযোগিতা' করতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানের ব্যাপারে এবং প্রকৃত মালিকদের মালিকানা পাওয়ার আশ্বাসের ব্যাপারে কী ভাবছেন পার্বত্য নেতারা?
সরকারের সঙ্গে পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরকারী সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-প্রচার ও তথ্য সম্পাদক সজীব চাকমা বললেন, প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বান আমরা স্বাগত জানাই। কিন্তু তার কথায় আমরা আস্থা রাখতে পারছি না। কারণ বিগত সাড়ে তিন বছরে কিছু কমিটি বা চেয়ারের অদল বদল ছাড়া চুক্তি বাস্তবায়ন এক চুল পরিমাণও এগোয়নি।
সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান প্রসঙ্গে সজীব চাকমা বললেন, আমরা সবসময় সরকারকে সহযোগিতা করে আসছি, বরং সরকারই সহযোগিতা করছে না। পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইনে পার্বত্য চুক্তির সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ধারাগুলো সংশোধন করার দাবি জানিয়ে আসছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ, কিন্তু সরকার অসঙ্গতি দূর করা এবং আইন সংশোধনের ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বরং ভূমি জরিপ ও শুনানির মাধ্যমে চুক্তি বিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করছে ভূমি কমিশন।