তিস্তা সড়ক সেতুর কাজ শেষ পর্যায়েকাউনিয়া (রংপুর) সংবাদদাতা চলতি জুন মাসেই তিস্তা সড়ক সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হচ্ছে। মাত্র শূন্য দশমিক ৫ ভাগ কাজ শেষ হলেই সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। সেতুটি চালু হলে তিন জেলার মানুষের কষ্ট লাঘব হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র আশা করছে, আগামী জুলাই মাসের যে কোনো সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিস্তা সড়ক সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।
কুয়েত ফান্ড ফর আরব ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সড়ক ও জনপথ বিভাগ তিস্তা সড়ক সেতুর নির্মাণ ব্যয় ৮৭ কোটি ৬ লাখ ৪ হাজার ৩৬ টাকা নির্ধারণ করে। এরমধ্যে কুয়েত ফান্ড ৮৫ শতাংশ এবং দেশি ফান্ড ১৫ শতাংশ। কিন্তু দফায় দফায় সময় বৃদ্ধির কারণে প্রকল্প ব্যয় ৩৪ কোটি ৯৭ লাখ ৯৫ হাজার ৯৩৬ টাকা বেড়ে যায়।
বর্তমানে এ প্রকল্পে ১২২ কোটি ৪ লাখ টাকা পুনর্নির্ধারণ করা হয়। টেন্ডারের মাধ্যমে আমিন-ডেলিম-আসকো জেভি নামের যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পায়। কনসালট্যান্ট হিসেবে বিসিএল-টায়েফ-ইস্টুপ জেভি নামের একটি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ পায়। সড়ক ও জনপথ বিভাগের সেতু-৩ প্রকল্প'র প্রজেক্ট ম্যানেজার জাকির হোসেন জানান, এ প্রকল্পের বাড়তি টাকা দেশীয়ভাবে যোগান দেয়া হবে।
লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের সাথে রংপুরসহ দেশের অন্যান্য জেলাগুলোর যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে কাউনিয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী তিস্তা নদীর ওপর তিস্তা রেলওয়ে সেতুর পাশেই তিস্তা সড়ক সেতুর নির্মাণ কাজ ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হয়। ২০০৯ সালে ৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই সমাপ্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০০৯ সালে প্রথম দফায় মে, দ্বিতীয় দফায় জুন ও তৃতীয় দফায় ডিসেম্বর এবং ২০১০ সালের মে মাস পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি করলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সঠিক সময় অর্থ বরাদ্দ না পাওয়া কারণে কাজে স্থবিরতা দেখা দেয়। গত বছরের ২০ মার্চ তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন সেতুর নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং মৌখিকভাবে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানকে ওই বছরের ৩০ জুনের মধ্যেই কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন। কিন্তু মন্ত্রীর হুশিয়ারিতেও কোনো কাজ হয়নি।