শনিবার, মে, ২৫, ২০১৩: জ্যৈষ্ঠ ১১, ১৪২০ বঙ্গাব্দ: ১৪ রজব , ১৪৩৪ হিজরি, ০৭ বছর, সংখ্যা ৩৪২ |
| গুগল ওয়েব অনুসন্ধান | অনুসন্ধান |
|
|
লিরার রঙ-পেন্সিলরঙ-পেন্সিল লিরার খুব পছন্দ। বিভিন্ন রঙের পেন্সিল দেখে ওর মনটা আনন্দে ভরে ওঠে। অাঁকতে ভালোবাসে প্রকৃতির মতো আকাশের রঙ কী হবে রংধনুর সাতটি রঙ মিলিয়ে অাঁকতে পারে, ছবি অাঁকাতে খুব বেশি ভালোবাসে। অাঁকার পোকা যাকে বলে_ গেল মাসে স্কুলে ড্রইংয়ে প্রথম হয়েছে ম্যাডাম তাকে একটা পেন্সিল রঙের বক্স উপহার দেন। ও তো মহাখুশি আগের থেকে এখন অাঁকার মাত্রা আরো বেড়ে যায়। ওর আরো বহু গুণ আছে। খেলতে ভালো বাসে। স্কুলে প্রতিযোগিতা হয়। মেধাপরীক্ষার তালিকায় প্রথম স্থান কেউ নিতে পারে না। অনেক সুন্দর নাচে, গান ভালো গায়, খাবারের কথা বলতে হয় না নিজে থেকে খেয়ে নেয়। সবজি, মুরগি, দুধ, ফল বেশি বেশি খায়, দুধে বাড়ে শক্তি। এটাও ভালোভাবে জানে এ জন্য দুধ খেতে ভালোবাসে।কণা রহমান ![]() রঙ-পেন্সিল লিরার খুব পছন্দ। বিভিন্ন রঙের পেন্সিল দেখে ওর মনটা আনন্দে ভরে ওঠে। অাঁকতে ভালোবাসে প্রকৃতির মতো আকাশের রঙ কী হবে রংধনুর সাতটি রঙ মিলিয়ে অাঁকতে পারে, ছবি অাঁকাতে খুব বেশি ভালোবাসে। অাঁকার পোকা যাকে বলে_ গেল মাসে স্কুলে ড্রইংয়ে প্রথম হয়েছে ম্যাডাম তাকে একটা প্রেন্সিল রঙের বক্স উপহার দেন। ও তো মহাখুশি আগের থেকে এখন অাঁকার মাত্রা আরো বেড়ে যায়। ওর আরো বহু গুণ আছে। খেলতে ভালো বাসে। স্কুলে প্রতিযোগিতা হয়। মেধাপরীক্ষার তালিকায় প্রথম স্থান কেউ নিতে পারে না। অনেক সুন্দর নাচে, গান ভালো গায়, খাবারের কথা বলতে হয় না নিজে থেকে খেয়ে নেয়। সবজি, মুরগি, দুধ, ফল বেশি বেশি খায়, দুধে বাড়ে শক্তি। এটাও ভালোভাবে জানে এ জন্য দুধ খেতে ভালোবাসে।ক্লাসে যেতে বিলম্ব হলে পিছনে বসতে হবে। এ কারণে সবার আগে স্কুলে যেতে চাই। খুব তারাহুড়ো করে জামা, জুতা, মোজা পরে টাই পরতে পরতে বের হচ্ছে। বড়আপা নাস্তা খেয়ে বের হতে হয়, না খেয়ে বের হতে নেই। রুটি, জেলি খেয়ে যা, লিরা বাধ্য মেয়ে বড়রা যা বলেন মনোযোগ দিয়ে শোনেন। আপুর হাত থেকে রুটি খেয়ে স্কুলের উদ্দেশে বেরিয়ে পড়ল। স্কুলে পেঁৗছানোর কিছু আগে বোরকা পরা এক মহিলা মা-মণি স্কুলে যাচ্ছ? ভালো আছ? আমি তোমার আন্টি। তোমাদের বাসায় যাব। অনেক দিন আগে তোমাদের বাসায় এসেছিলাম। তোমার মনে নেই? তোমাদের বাসায় আমাকে নিয়ে চলো। না আমার স্কুলে যেতে দেরি হয়ে যাবে। আপনি একাই চলে যান। মহিলার হাতে ১০০ লিচু বড় বড়। তুমি লিচু পছন্দ কর তোমার জন্য লিচু নিয়ে এসেছি। নাও কয়টা খাও লিরার কানে স্বর্ণের দুল দেখে বলে তোমার দুল খুলে গেছে পড়ে যাবে আমি লাগিয়ে দিচ্ছি। না আমিই পারব। দাও খুলে তোমার ওড়নায় বেঁধে দিই। ও রাজি না হওয়াতে ওর মুখের কাছে কিসের যেন পাউডার উড়িয়ে দিল, লিচুর পাতা দিয়ে গুঁড়াগুলো ওর মুখে এসে পড়ল। আর কিছু বলতে পারে না। যখন ঘুম ভাঙে চারিদিকে তাকিয়ে দেখে একটা বদ্ধ ঘরের মধ্যে কোনো জানালা দেখা যায় না গোডাউনের মতো দেখতে রুমটা, কোনো মানুষের সাড়া-শব্দ পাচ্ছে না। খুঁজতে খুঁজতে একটা দরজা দেখতে পেল, দরজা ধাক্কা দিতেই দেখে টয়লেট। ভেতরে গিয়ে বালতি আর মগ। বালতি ভরা পানি মাথার পেছন দিকটায় ভেন্টিলেটার, বালতির পানি মগ দিয়ে তুলে আস্তে আস্তে টয়লেটের মধ্যে ফেলে দেয়। বালতি উল্টিয়ে তার ওপরে দাঁড়িয়ে বাইরে দেখার চেষ্টা করল। কিছুই দেখা যায় না। তবে অনেকটা ওপরে তা বুঝতে পারছে। ভয়ে কোনো কিছু বলতে পারছে না। কীভাবে বের হবে। কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছে না। মনে মনে সাহস জোগাচ্ছে। ভয় পেলে চলবে না। সাহস রাখতে হবে। ও বুঝতে পারল ওকে আটকে রাখা হয়েছে। ধৈর্যহারা হলে চলবে না। নিজে বাঁচার পথ বের করতে হবে। কান্না আসছে কিন্তু কাঁদলে কোনো ফায়দা হবে না। হঠাৎ বুদ্ধি বের করল। ব্যাগ থেকে খাতা আর রং-প্রেন্সিল বের করে লিখতে শুরু করল। আমাকে বাঁচাও, বাঁচাও। লিখে কিছুক্ষণ ভেন্টিলেটারের ফাঁকা দিয়ে বালতির ওপরে দাঁড়িয়ে ধরে রাখল এতে কোনো লাভ নেই এত ওপরে কারো দৃষ্টি পড়বে না। মাথার ওড়না খুলে স্কেলের সঙ্গে বেঁধে বাইরের দিকে হাত বাড়িয়ে দোলাতে লাগল আর এক হাতে আমাকে বাঁচাও লাল রঙ দিয়ে লিখে রাখল ঘণ্টাখানেক। এরপরে আর একটি বুদ্ধি বের করল খয়েরি, হলুদ, কালো রং-পেন্সিল দিয়ে কাগজে লিখে নিচে ফেলে দিতে লাগল। কোনো পথচারীর হাতে পড়তে পারে। তার কিছুক্ষণ পরে দেখে ১০-১২ জন মানুষ আর ৩-৪ জন র্যাব দরজা খুলে লিরাকে উদ্ধার করল। লিরার কাছ থেকে বাবা, মায়ের ঠিকানা জেনে তাদের হাতে লিরাকে তুলে দিল, লিরা বাবার বুকে কান্নায় ভেঙে পড়ল, মেয়েটার চোখেমুখে পানি নেই শুকিয়ে গেছে, সারাদিন কিছু খায়নি, মমতাময়ী মা ওকে দেখে কোনো প্রশ্ন করতে দিল না বাবাকে। বাড়িতে নিয়ে খেতে দেবে, বিশ্রামে দেবে, এই চিন্তা করে। তারা বাড়ি ফিরল আইন শৃঙ্খলাবাহিনী। পথচারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তারা তাদের বুকের মানিক ফিরে পেয়েছে এটাই সব। পরের দিন খবরের কাগজে দেখতে পেল ওই বোরকা পরা মহিলাসহ সন্ত্রাসী গ্রুপের তিনজনকে আটক করেছে। বুদ্ধির জোরে বেঁচে গেল। সন্ত্রাসীরা ধরা পড়ল। এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন |
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সর্বাধিক মতামত
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্ননির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে সংলাপের আয়োজনে বিএনপির অনুরোধে সরকার সাড়া দেবে
বলে কি মনে করেন?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল |