মতামত :
¦
¦
মংলা শহরে ১৪টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন : দুর্ঘটনার আশঙ্কামংলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা মংলা পোর্ট পৌরসভায় বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না নিয়ে ও ইমারত নিয়ম না মেনে নির্মাণ করা ১৪টি ভবন ধসে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সয়েল টেস্ট ছাড়াই দু'তলার অনুমোদন নিয়ে ১০টি ৩ তলা, দু'টি ৪ তলা ও ২টি ৫ তলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। দীর্ঘ দু'যুগ ধরে এসব ভবনে ব্যাংক-বীমাসহ অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
অনুমোদনহীন ভবনগুলোর মধ্যে সিঙ্গাপুর হোটেল ও স্টার টেইলার্সসহ আরো ২/৩টি ভবনে ইতোমধ্যে ছোট ছোট ফাটল দেখা দিয়েছে। তবে ভবন মালিকরা ফাটলগুলো রং করে ঢেকে দিয়েছেন। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা মংলা শহরের তাজমহল রোডে সুদি কাঞ্চনের ভবনটির। এ ভবনে অসংখ্য ফাটল দেখা দিয়েছে। ভবনটি এক তলার অনুমোদন নিয়ে ৩ তলা নির্মাণ করা হয়। এ ভবনের সামনের কিছু অংশ ভেঙে পড়েছে। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির আশঙ্কায় পৌর কর্তৃপক্ষ ভবনটির উপরের দু'তলা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে। একইভাবে শহরের প্রাণকেন্দ্র চৌধুরীর মোড়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে ওহাব চৌধুরীর নামে বরাদ্দ নেয়া প্লটে দু'তলার অনুমতি নিয়ে ৪ তলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ভবনের দুই ও তিন তলায় ইসলামী ব্যাংক মংলা শাখার কার্যক্রম চলছে। ছাদের উপরে মোবাইল কোম্পানির বিশাল টাওয়ার বসানো হয়েছে। ২০০৮ সালে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের পাশের রাস্তা প্রায় এক ফুট দেবে যায়। ভবন মালিক তড়িঘড়ি করে দেবে যাওয়া স্থানটি ঢালাই করে ঢেকে দিয়েছে। এছাড়া শহরের দুটি আবাসিক হোটেলসহ আরো ১১টি ভবনেরও একই অবস্থা।
মংলা পোর্ট পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী রতন কুমার ম-ল জানান, সবকটি ভবনই ঝুঁকিপূর্ণ। পৌরসভার পক্ষ থেকে এসব অনুমোদনহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন মালিকদের তালিকা করে নোটিশ পাঠানোর প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী কাওসার আলী জানান, লবণ পানি অধ্যুষিত মংলা শহরের ১৪টি ভবনই যথাযথ নিয়ম না মেনে নির্মাণ করা হয়েছে। সঠিক নিয়ম ও মাটি পরীক্ষা ছাড়াই নির্মিত অধিকাংশ ভবনই ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে।
ভবন মালিকদের মধ্যে আবু তৈয়ব, হাবিবুর রহমান, সুদি কাঞ্চন দাবি করেন, তাদের ভবনে কোনো সমস্যা নেই। বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তারা অনুমতি নেননি। তবে পৌর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমোদন নিয়েছেন। বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জায়গা ইজারা নিয়ে কীভাবে তারা পৌর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ভবন নির্মাণের অনুমোদন নিলেন তারা এ প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি। মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সম্পত্তি শাখার উপ-ব্যবস্থাপক ওহিদউদ্দিন চৌধুরী জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এসব ভবন মালিক বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো অনুমোদন নেননি। তাদের কাছে নোটিশ পাঠানা হবে। বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নগ্রামীণ ব্যাংক ভেঙে ১৯ টুকরা করার সরকারি সুপারিশ আদৌ গ্রহণযোগ্য ও বাস্তবসম্মত বলে মনে করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2010 The Jaijaidin