শনিবার, মে, ২৫, ২০১৩: জ্যৈষ্ঠ ১১, ১৪২০ বঙ্গাব্দ: ১৪ রজব , ১৪৩৪ হিজরি, ০৭ বছর, সংখ্যা ৩৪২ |
| গুগল ওয়েব অনুসন্ধান | অনুসন্ধান |
|
প্রজননতন্ত্র ছাড়া বিকিরণ দেহের অন্যান্য অংশে যে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে তাকে বিকিরণের সোমাটিক প্রভাব বলে। যে ব্যক্তি সরাসরি বিকিরণের শিকার হয়, বিকিরণের সোমাটিক প্রভাব তার মধ্যেই দেখা যায়, সন্তানের মধ্যে নয়। তাই বিকিরণের জিনের ওপর প্রভাবের চেয়ে সোমাটিক প্রভাবের ঘটনা আরো বেশি লক্ষ্য করা গেছে। লিখেছে রিয়াদ জামানজিনের ভারসাম্য ও মস্তিষ্কের গতিবিধি'ভোমেরানাসাল' অর্গানের নিউরনগুলো শিকারি প্রাণীর প্রোটিনের সংকেত পেয়ে উদ্দীপ্ত হয়। আর এর ফলেই ইঁদুর ভয় পেয়ে নড়াচড়া বন্ধ করে দেয় এবং চারপাশে ভয়ের উৎস খুঁজতে থাকে... আজকাল অধিকাংশ বিজ্ঞানী এই মত পোষণ করেন যে পশ্চাৎপদ বিকিরণের অতিরিক্ত যে কোনো মাত্রার বিকিরণ মিউটেশন ত্বরান্বিত করে এবং এটিও সত্য যে প্রায় সব মিউটেশনই ক্ষতিকর।যা হোক, শুধু বিকিরণই মিউটেশনের একমাত্র কারণ নয়। অন্যান্য কারণেও মিউটেশন ঘটে থাকে। বিশ্বের সমগ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে মিউটেশনের ফলে সবসময়েই কিছু জিনগত ত্রুটি থেকে গেছে। হাজার হাজার বছর ধরে এ ত্রুটির স্তর প্রায় স্থিতিশীল রয়ে গেছে। একেই বলে জিনের ভারসাম্য। যখন হঠাৎ করে মিউটেশনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে জিনের ত্রুটি বেড়ে যায় তখন নিজের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এর ফলে মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এ মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মানবজাতির একটি অংশের মারাত্মক শারীরিক ত্রুটির বিলুপ্তি ঘটে। আস্তে আস্তে আবার নিজের ভারসাম্য অর্জিত হয় যা পূর্বের অপেক্ষা অনেক নিম্ন স্তরের, যার ফলে জনগণের সার্বিক স্বাস্থ্যগত মান নিচে নেমে যায়। আমাদের ওপরে আপাতত বিকিরণের মাত্রা ক্রমাগত বেড়েই চললে মিউটেশনের হার এবং নিজের ত্রুটিও বাড়তে থাকবে। নতুন একটি ভারসাম্য অবস্থায় পেঁৗছানো তখন সম্ভব হবে না। ধারাবাহিক মিউটেশনের এমন কিছু ক্ষতিকর ফল দেখা দেবে যা জাতিগত স্বাস্থ্যভঙ্গের কারণ হয়ে দেখা দেবে। সাধারণ জনস্বাস্থ্যের অবনতি খুব সহজে লক্ষ্য করা যায় না। আণবিক বোমা পরীক্ষা, তেজস্ক্রিয় আবর্জনা অপসারণ এবং অন্যান্য মানুষের সৃষ্ট বিকিরণের উৎস যে মানবজাতির বিপুল ক্ষতিসাধন করতে পারে তা প্রমাণ করতে বহুকাল উন্মুক্তভাবে বিকিরণের মধ্যে বিচরণকারী এবং বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে কয়েক প্রজন্ম ধরে পর্যবেক্ষণ করতে হয়। তবেই মিউটেশনের ক্ষতিকর ফল উপলব্ধি করা যায়। এ পর্যন্ত আমরা বিকিরণের যেসব ক্ষতিকর ফল সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করেছি, তা সবই অন্যান্য প্রাণীর ওপর পরীক্ষার ফল থেকে। প্রাণীদের ক্ষেত্রে যা ঘটে তা থেকে মানুষের বেলায় কি ঘটতে পারে, তার একটি পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়। সোমাটিক প্রভাব : প্রজননতন্ত্র ছাড়া বিকিরণ দেহের অন্যান্য অংশে যে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে তাকে বিকিরণের সোমাটিক প্রভাব বলে। যে ব্যক্তি সরাসরি বিকিরণের শিকার হয়, বিকিরণের সোমাটিক প্রভাব তার মধ্যেই দেখা যায়, সন্তানের মধ্যে নয়। তাই বিকিরণের জিনের ওপর প্রভাবের চেয়ে সোমাটিক প্রভাবের ঘটনা আরো বেশি লক্ষ্য করা গেছে। সবচেয়ে পরিচিত অল্প মাত্রার আয়নি বিকিরণের সোমাটিক প্রভাব হচ্ছে ক্যান্সার। যখন প্রাণী দেহের কিছু জীবকোষের পরিবর্তন ঘটে এবং তারা অনিয়ন্ত্রিতভাবে বিভাজিত হয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে, তখন ক্যান্সার দেখা দেয়। শরীরের সে অংশে মাংস ফুলে ওঠে এবং শরীরের একটি অংশ দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তবে এটিও ঠিক, বিকিরণই ক্যান্সারের একমাত্র কারণ নয়। নানা ধরনের ক্যান্সার আছে। বিকিরণের ফলে সৃষ্ট ক্যান্সারের ধরন বিকিরণের উৎস, বিকিরণে উন্মুক্ত দেহাংশ এবং বিকিরণ গ্রহণকারী ব্যক্তির বয়সের ওপর নির্ভর করে। খাদ্য, পানীয় এবং প্রশ্বাসের সঙ্গে গৃহীত তেজস্ক্রিয় পদার্থ শরীরের সব অংশে ছড়িয়ে পড়ে। তারা সেখান থেকেই ক্ষতি করতে থাকে। আমাদের শরীরে প্রয়োজন, এমন অনেক বস্তুই আজকাল পারমাণবিক শিল্প-কারখানায় উৎপন্ন হচ্ছে। এসবের অনেক কিছুই তেজস্ক্রিয় হয়ে বেরিয়ে আসে। এদের অনেককে আবার প্রকৃতিতে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। আমাদের শরীর একটি তেজস্ক্রিয়তে পারে না। ফলে সহজেই একটি তেজস্ক্রিয় বস্তু আমাদের দেহের কোনো জীবন্ত তন্তু বা রক্তের অংশে পরিণত হয়। এরা সেখান থেকেই বিকিরণ ছড়াতে থাকে। দৃষ্টান্তস্বরূপ আয়োডিন এবং কার্বনের কথা বলা যায়। এ দুটি পদার্থ আমাদের শরীরের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। অথচ আজকাল প্রকৃতিতে এদের তেজস্ক্রিয় অবস্থায় পাওয়া যায়। তেজস্ক্রিয় স্ট্রনশিয়াম আমাদের শরীরে ঠিক ক্যালসিয়ামের মতো কাজ করে। ক্যালসিয়াম আমাদের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। তেজস্ক্রিয় স্ট্রনশিয়াম অস্থিতে গিয়ে জমা হয় এবং তেজস্ক্রিয়তা বিকিরণ করে। এ বিকিরণ অতি সহজেই রক্তকোষ সৃষ্টিকারী অস্থি-মজ্জায় পেঁৗছে যায় এবং লিউকেমিয়া রোগ সৃষ্টি করে। আমাদের বিকিরণ সম্পর্কিত জ্ঞান, শুধু গবেষণাগারে বিভিন্ন প্রাণী দেহের ওপর বিকিরণের প্রভাবের ফল নয়। মানুষের ওপর স্বল্প মাত্রার বিকিরণ কি ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করতে পারে তাও আজ আমরা সম্যকভাবে উপলব্ধি করার সুযোগ পেয়েছি। ভয়বিষয়ক গবেষণা সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা ভয় নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা তথ্য উন্মোচন করেছেন। এ গবেষণায় তারা অতি কমন একটি বিষয় ব্যবহার করেছেন। তা হচ্ছে, ইঁদুরের বিড়ালভীতির বিষয়টি। একটি অতিপরিচিত বিষয়কে কাজে লাগিয়ে কীভাবে অসাধারণ অর্জন সম্ভব এটি তার একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ। বিজ্ঞানীরা জানতে উদগ্রীব ছিলেন কীভাবে ইঁদুর বেড়ালের অবস্থান বুঝতে পারে এবং ভয়ের সংকেত লাভ করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা এ ক্ষেত্রে সবার আগে সাফল্য দেখিয়েছেন। তারা ইঁদুরের বিড়াল বা কুকুরভীতির কারণ বের করেছেন। ইঁদুরের 'ভোমেরোনাসাল' অর্গান নামে একধরনের সংবেদনশীল অঙ্গ আছে। অন্যদিকে বিড়াল বা কুকুরের মতো শিকারি প্রাণীরা একধরনের প্রোটিন উৎপন্ন করে। ইঁদুর তার বিশেষ এ অঙ্গের সাহায্যে আগেভাগেই এ প্রোটিনের গন্ধকে বিপদের গন্ধ হিসেবে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়। গবেষকরা জানিয়েছেন, শিকারি প্রাণীর মুখে লালা বা স্যালাইভা থেকে একধরনের রাসায়নিক সংকেত পায় ইঁদুর। এ সংকেতই ইঁদুরের জন্য ভীতির কারণ। এ স্যালাইভা মূলত একধরনের প্রোটিন। এ প্রোটিনটির নাম মাপস। এ প্রোটিনটির গন্ধই ইঁদুরের সংবেদনশীল অঙ্গের মাধ্যমে ধরা পড়ে। গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়েছে 'সেল' সাময়িকীতে। গবেষণায় জানা গেছে, 'ভোমেরানাসাল' অর্গানের নিউরনগুলো শিকারি প্রাণীর প্রোটিনের সংকেত পেয়ে উদ্দীপ্ত হয়। আর এর ফলেই ইঁদুর ভয় পেয়ে নড়াচড়া বন্ধ করে দেয় এবং চারপাশে ভয়ের উৎস খুঁজতে থাকে। ইঁদুরের এই অর্জনকে বিজ্ঞানীরা ব্যবহার করেছেন মানুষের ক্ষেত্রে। তারা দেখিয়েছেন মস্তিষ্কের কোন কোন স্নায়বিক গঠন এবং কোন কোন জিন সার্কিট এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত। এতদিন ধরে লিম্বিক সিস্টেমের নিচের দিকের অংশ অ্যামিগডালাকে বলা হতো ভয়ের অন্যতম উৎস। বিজ্ঞানীরা অ্যামিগডালার সঙ্গে আরো একটি বিষয় যুক্ত করেছেন তা হচ্ছে সেরেব্রাল কর্টেক্সের গোলাপি কোষের জালিকা। এ জালিকাগুলো থেকে যে স্নায়বিক সূত্র অ্যামিগডালায় গিয়েছে, তা-ই ধারণ করে ভয়ের সচেতন ও অবচেতন যোগসূত্র। মানুষের ভয় নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করেছেন এরূপ বিজ্ঞানীরা বিড়াল ও ইঁদুরের মাধ্যমে অর্জিত এ সাফল্যকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। নিউইয়র্কের সেন্টার ফর নিউরোসায়েন্সের বিজ্ঞানী জোসেফ লেডক্স জানান, ভয় মানুষের অত্যন্ত সহজাত একটি বৈশিষ্ট্য। এ বৈশিষ্ট্য অন্যান্য প্রাণীর মধ্যেও পরিলক্ষিত হয়ে থাকে। তাই তুলনামূলক স্নায়ুবিজ্ঞানের মাধ্যমে এটি সম্পর্কে গোছানো তথ্য পাওয়া সম্ভব। ভয়ের বিজ্ঞানকে আরো বেশি সুস্পষ্ট করার ক্ষেত্রে এ বিজ্ঞানীরা যে প্রয়াস দেখিয়েছেন তা অবশ্যই সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী লিওন নাং সি বলেন, ভয়ের সঙ্গে জড়িত নতুন জেনেটিক বিন্যাস ও নিউর্যাল সার্কিট আবিষ্কৃত হয়েছে জেনে ভালো লাগছে। তবে আমার ধারণা, ভয়ের সঙ্গে জড়িত প্রায় কয়েক হাজার জিন আবিষ্কার এখনো বাকি রয়ে গেছে। এ জিনগুলো আবিষ্কার হলে আমরা তখন বিভিন্ন প্রক্রিয়া যেমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ, চেতনাবোধ, ভাষা, স্মৃতি-বিস্মৃতির সঙ্গে ভয়কে আরো গোছানো উপায়ে উপস্থাপন এবং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করতে পারব। অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী লরেন্স জেন্ট বলেন, ভয়ের গবেষণায় যে নতুন অর্জন হয়েছে তা অসাধারণ। এ অর্জন সম্ভব হয়েছে ইমেজিং প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের কারণে। এখন আমরা ফাংশনাল এমআরআইয়ের সাহায্যে অনায়াসে মস্তিষ্কের অভ্যন্তরীণ ইমেজিং করতে পারছি। বুঝতে পারছি মস্তিষ্কের কোন অংশ সক্রিয় আর কোন অংশ নিষ্ক্রিয়। ফলে মস্তিষ্কের অজানা তথ্য বের করতে আমাদের সুবিধা হচ্ছে।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন |
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি -এর আরো সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সর্বাধিক মতামত
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্ননির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে সংলাপের আয়োজনে বিএনপির অনুরোধে সরকার সাড়া দেবে
বলে কি মনে করেন?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল |