পরবর্তী সংবাদ
মেঘনার প্রতিবাদ ও আমাদের বক্তব্যগত ১২ এবং ১৪ আগস্ট যায়যায়দিনে প্রকাশিত 'মেঘনার ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জালিয়াতি' ও 'মেঘনার মানি লন্ডারিং তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু' শীর্ষক দু'টি প্রতিবেদনের কিছু অংশের প্রতিবাদ করেছে মেঘনা গ্রুপ। প্রতিবাদে মেঘনা দাবি করেছে, তাদের জড়িয়ে যেসব অনিয়মের অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে তা আদৌ সত্য নয় বরং তা তাদের জন্য মানহানিকর।
মেঘনা গ্রুপের প্রতিবাদ হুবহু তুলে দেয়া হলো : এতে বলা হয়, 'মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্র্রিজ দীর্ঘদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে ৩০টি শিল্প ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে এবং 'ফ্রেশ ব্রান্ড' নামে উৎপাদিত পণ্য সুনামের সঙ্গে দেশে-বিদেশে বাজারজাত করে আসছে। উক্ত ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলো ডিউটি, ট্যাক্স, ভ্যাট ইত্যাদি খাতে সরকারের কোষাগারে প্রতিবছর শতশত কোটি টাকা পরিশোধ করে জাতীয় অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখছে। সেখানে মেঘনা গ্রুপের 'মার্কিন ডলার জালিয়াতি' সংক্রান্ত 'যায়যায়দিন'
(প্রথম পৃষ্ঠার পর)
পত্রিকায় গত ১২ আগস্ট ২০১২ইং তারিখে প্রকাশিত সংবাদ সম্পূর্ণ অবিশ্বাস্য, মিথ্যা ও সত্যের অপলাপ মাত্র। উক্ত প্রতিবেদক অতি উৎসায়ী হয়ে একই বিষয়ের ওপর ১৪ আগস্ট, ২০১২ইং 'মেঘনার মানি লন্ডারিং তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু' শিরোনামে আরো একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে প্রতীয়মান হয় যে, কোনো একটি বিশেষ মহলের ইঙ্গিতে রিপোর্টার সাখাওয়াত হোসেন প্রভাবিত হয়ে এ জাতীয় সংবাদ প্রকাশে তৎপর হয়েছেন।
প্রকৃত তথ্য এই যে, আমদানিকৃত জাহাজটি আমাদের কর্তৃক গত ২৯/০৮/২০১১ইং তারিখে গ্রহণ করে গধৎরহব গবৎপধহঃরষব উবঢ়ধৎঃসবহঃ এ গবমযহধ চৎরফব নামে ০৪/০৯/২০১১ইং তারিখে রেজিস্ট্রেশন করা হয়। জাহাজটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ঈড়সসবৎপরধষ গধহধমবৎ হিসেবে অরমরহধ ওহাবংঃসবহঃ খঃফ., ঝরহমধঢ়ড়ৎব কে নিয়োগ দেয়া হয় এবং এ জন্য অরমরহধ ওহাবংঃসবহঃ খঃফ. এর সঙ্গে একটি ইধৎবনড়ধঃ ঈযধৎঃবৎ চুক্তি সম্পাদন করা হয়। উক্ত চুক্তির আলোকে অরমরহধ ওহাবংঃসবহঃ খঃফ. কর্তৃক জাহাজটি পরিচালিত হচ্ছিল। উল্লেখ্য যে, উক্ত চুক্তি অনুযায়ী জাহাজের পরিচালন ও সধরহঃবহধহপব ব্যয় মিটানোর পর অবশিষ্ট অর্থ আমাদের নিকট প্রেরণ করবে এবং এই অনুযায়ী গত ১৪/৩/১২ইং তারিখে মার্কিন ডলার ১,৫০,০০০.০০ অরমরহধ ওহাবংঃসবহঃ আমাদের অনুকূলে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের করপোরেট ব্রাঞ্চে প্রেরণ করেছে। জাহাজের মোট আয় ও ব্যয় ইধৎবনড়ধঃ ঈযধৎঃবৎ চুক্তি অনুসারে হিসেব করে অবশিষ্ট অর্থ আমাদের অনুকূলে প্রেরণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, ইতোমধ্যে উলি্লখিত জাহাজ পরিচালনাকালীন আন্তর্জাতিক শিপিং ব্যবসায় মন্দাভাব শুরু হওয়ায় আশঙ্কাজনক হারে ঞ.ঈ. জধঃব/ ভাড়াও কমতে থাকে, উপরন্তু এরই মধ্যে গবমযহধ চৎরফব জাহাজটি বেশ বড় অঙ্কের ব্যয়ে অনেক সধরহঃবহধহপব ড়িৎশ সম্পন্ন করার বিশেষ প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়ায় জাহাজটির পরিচালনা আর্থিক বিবেচনায় মোটেই ভবধংরনষব হচ্ছিল না বিধায় এটা বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং এরই ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক জাহাজ ক্রয়-বিক্রয়ের স্বনামখ্যাত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা ও হবমড়ঃরধঃব করে ওহঃবৎহধঃরড়হধষ চৎবাধরষরহম গধৎশবঃ জধঃব অনুযায়ী দর সাব্যস্তপূর্বক গত ১২/৬/২০১২ইং তারিখে ঘধাধষসধৎ (টক) খঃফ. এর কাছে জাহাজটি বিক্রি করা হয়। এক্ষেত্রে কোনো ব্যত্যয় হয়েছে বলে আমরা মনে করি না। বিশাল ব্যবসায়িক ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্যই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা ব্যাংকের কিস্তি প্রদানের কোনো খেলাপ করিনি। তাই যায়যায়দিনের রিপোর্টার মনগড়া নিজস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য অত্যন্ত অশালীন ভাষায় ব্যাংক, মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্ট, ডিজি শিপিংয়ের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ও কর্মকর্তাদেরকে জড়িয়ে যেভাবে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে তা অত্যন্ত আপত্তিকর ও দুঃখজনকই নয় বরং শিষ্টাচার বহির্ভূত। এম.ভি প্রাইড জাহাজের মাধ্যমে বহনকৃত র'সুগার সম্পর্কে তথ্য এই যে, ইউনাইটেড সুগার মিলস্ লিমিটেডের নামে ১৩৩৫০ মে.টন জঅড ঈঅঘঊ ঝটএঊজ আমদানি করা হয় তা ঋঙই ঈড়হঃৎধপঃ এর আওতায় অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড করপোরেট শাখার এলসি নাম্বার ০০০১/১০/০২/০২৯৭, তারিখ ০৭/১১/২০১০ইং এর মাধ্যমে আমদানি করা হয়। উক্ত জঅড ঈঅঘঊ ঝটএঊজ বহন করার জন্য আমদানিকারক টহরঃবফ ঝঁমধৎ গরষষং খঃফ. এবং অরমরহধ ওহাবংঃসবহঃ খঃফ. এর মধ্যে একটি ঠড়ুধমব ঈযধৎঃবৎ চুক্তি সম্পাদিত হয়। উক্ত ঠড়ুধমব ঈযধৎঃবৎ চুক্তি অনুযায়ী ঋৎবরমযঃ ঈযধৎমব বাবদ অরমরহধ ওহাবংঃসবহঃ খঃফ. এর অনুকূলে মার্কিন ডলার ৯,৩৪,৫০০.০০ ঝঃধহফধৎফ ঈযধৎঃবৎবফ ইধহশ, উযধশধ এর মাধ্যমে নিয়ম মোতাবেক অগ্রণী ব্যাংকের ঘঙঈ নিয়ে টহরঃবফ ঝঁমধৎ গরষষং খঃফ. কর্তৃক পরিশোধ করা হয়েছে।
২০১১ সালে জাহাজটি ক্রয় করার সময় তৎকালীন আন্তর্জাতিক বাজারে চৎবাধরষরহম জধঃব অনুযায়ী দর যাচাই করে আন্তর্জাতিক জাহাজ ব্যবসায় জড়িত স্বনামখ্যাত প্রতিষ্ঠান থেকে জাহাজটি ক্রয় করা হয়। জাহাজের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোন দেশের তৈরি, কী সাইজের জাহাজ, কত বছরের পুরনো, উডঞ কত, ক্রেন, এবহংবঃ ইত্যাদি বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়েই মূল্য নির্ধারিত হয় যা এ দেশে অন্যান্য সমুদ্রগামী জাহাজ ক্রেতাদের সঙ্গে চেক করে যাচাই করা যায়। ইতোমধ্যে বাংলাদেশে প্রায় ৫২টি জাহাজ গত কয়েক বছরে বিভিন্ন শিল্পোদ্যোক্তা ক্রয় করেছেন।
মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের বিরুদ্ধে 'যায়যায়দিন' পত্রিকায় সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলকভাবে একাধিকবার এ ধরনের বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশন করে একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ও তার কর্ণধারের সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা করা হয়েছে যা অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক।'
প্রতিবেদকের বক্তব্য
গত ১২ ও ১৪ আগস্ট দৈনিক যায়যায়দিনে যথাক্রমে প্রকাশিত 'মেঘনার ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জালিয়াতি' এবং 'মেঘনার মানি লন্ডারিং তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু' শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদে মেঘনা শিপ বিল্ডার্সের জালিয়াতির ৮টি পয়েন্ট উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে-
১. মেঘনা শিপ বিল্ডার্স অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে এলসি (ঋণপত্র) খুলে ওভার ইনভয়েসিং করে বাজারদরের চেয়ে প্রায় ১৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিরিক্ত মূল্যে ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দিয়ে একটি সমুদ্রগামী জাহাজ ক্রয় করে।
২. মেঘনা শিপ বিল্ডার্স জাহাজ গ্রহণের পর থেকে এক বছর জাহাজের অবস্থান ও পরিবহন ভাড়া আদায়সংক্রান্ত কোনো তথ্য চুক্তি অনুযায়ী ঋণদাতা অগ্রণী ব্যাংককে জানায়নি। যা ৭ আগস্ট অগ্রণী ব্যাংকের দেয়া চিঠিতে [বৈবাবি/আমদানি (ক্যাশ)/৪১৪/২০১২] সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
৩. অগ্রণী ব্যাংকের কাছে ঋণ থাকা সত্ত্বেও মেঘনা শিপ বিল্ডার্স অবৈধভাবে গোপন যোগসাজসে ডিজি শিপিংয়ের অধীন মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্ট থেকে 'জাহাজটির কোনো দায়বদ্ধতা নেই' মর্মে প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করেছে। এ ব্যাপারে অগ্রণী ব্যাংক গত ৭ আগস্ট মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্টের প্রিন্সিপাল অফিসার ক্যাপ্টেন মো. হাবিবুর রহমানকে যে চিঠি (পিবি/এফইএক্স /ইএক্সপি/এএডি/০১৩৮/ ২০১২) দিয়েছে তাতে এ জালিয়াতির চিত্র সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
৪. এই প্রত্যয়নপত্রকে পুঁজি করে মেঘনা শিপ বিল্ডার্স মেঘনা প্রাইড জাহাজটি ঋণদাতা অগ্রণী ব্যাংককে না জানিয়ে গোপনে ঘধাধষসধৎ (টক) খঃফ এর কাছে বিক্রি করে।
৫. ক্রয়মূল্যের অর্ধেকের চেয়ে কম দামে জাহাজ বিক্রির টাকা পুরোটাই আত্মসাতের উদ্দেশ্যে তা অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে না এনে তা ইস্টার্ন ব্যাংকে ইনওয়ার্ড রেমিটেন্স করা হয়।
৬. অগ্রণী ব্যাংককে ফাঁকি দিয়ে গোপনে জাহাজ বিক্রির সময় বিক্রিত জাহাজের কোনো মর্টগেজ বা দায়বদ্ধতা নেই মর্মে মেঘনা শিপ বিল্ডার্স ইস্টার্ন ব্যাংকের কাছে 'সি ফর্ম' এবং মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্টের দায়মুক্তির প্রত্যয়নপত্র দাখিল করে। যার উদ্ধৃতি দিয়ে ইস্টার্ন ব্যাংকের ট্রেড সার্ভিসের এরিয়া হেড সৈয়দ সাজ্জাদ হায়দার চৌধুরী ১৩ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ অপারেশনস ডিপার্টমেন্টের জেনারেল ম্যানেজারকে চিঠি (ইবিএল/এসডি/ সিএমও/০৮৭৭/২০১২) দিয়েছেন।
৭. মেঘনা প্রাইড জাহাজটির অফিসিয়াল কাগজপত্রে এর মালিকানা মেঘনা শিপ বিল্ডার্স অ্যান্ড ডকইয়ার্ডের নামে রয়েছে। অথচ তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে জাহাজটির ওনার (মালিক) হিসেবে মার্কেন্টাইল শিপিং লাইন্স, ঢাকা, বাংলাদেশের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ম্যানেজার হিসেবেও একই প্রতিষ্ঠানকে দেখানো হয়েছে।
৮. মেঘনা শিপ বিল্ডার্স অ্যান্ড ডকইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. গোলাম মোস্তফা জাহাজটি কেনার সময় বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান সিঙ্গাপুরের মেসার্স সিলভিয়া শিপট্রেডস প্রাইভেট লিমিটেডের সিইও বাংলাদেশি নাগরিক মজিবুর রহমান মিলনের সঙ্গে গোপন অাঁতাত করে অর্থ পাচারের উদ্দেশ্যেই ওভার ইনভয়েস করে এর ক্রয় মূল্য ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেখিয়ে ছিলেন; যার মাধ্যমে পরে ১৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে নিয়ে যান।
সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে এই ৮টি অভিযোগ উত্থাপন করা হলেও মেঘনা গ্রুপের পাঠানো প্রতিবাদ পত্রে প্রকাশিত সংবাদের শুধু ১, ২ ও ৪ এই তিনটি পয়েন্টে উলি্লখিত অভিযোগ খ-নের চেষ্টা করা হয়েছে।
তবে যায়যায়দিনের ১ নাম্বার পয়েন্টে উত্থাপিত মেঘনার ওভার ইনভয়েসিংয়ের ব্যাপারে আমাদের বক্তব্য যে সত্য, তা তাদের জাহাজ ক্রয় ও বিক্রি দামে বিশাল ব্যবধানের মধ্যে স্পষ্টত প্রমাণিত হয়েছে। এ সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী মেঘনা শিপ বিল্ডার্স ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে মেঘনা প্রাইড জাহাজটি ক্রয় করেছে। যা তারা গত বছরের ২৯ আগস্ট গ্রহণ করে। ওই জাহাজটি তারা চলতি বছরের ১২ জুন বিক্রি করেছে মাত্র ১০ মিলিয়ন ৩০ লাখ মার্কিন ডলারে। এ হিসেবে মাত্র দশ মাসে জাহাজের দাম কমেছে ১১ মিলিয়ন ৭০ লাখ মার্কিন ডলার অর্থাৎ ৫৩ দশমিক ১৮ শতাংশ, যা জাহাজ বেচাকেনার ইতিহাসে বিরল। এখানে উল্লেখ্য যে, মেঘনা জাহাজ কেনার পর আন্তর্জাতিক বাজারে জাহাজের দাম বেশ কিছুটা বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।
যায়যায়দিনের অনুসন্ধান অনুযায়ী ওই সময় জাহাজটির মূল্য ছিল ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সে অনুযায়ী দশ মাস পরে জাহাজটির দাম বেড়ে ১০ মিলিয়ন ৩০ লাখ ডলার হতে পারে।
মেঘনার প্রতিবেদনে মেঘনা প্রাইড জাহাজটির মূল্য ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ছিল বলে কোনো প্রমাণাদি দেয়নি। তবে ইন্টারন্যাশনাল সার্চ অনুযায়ী ওই মানের জাহাজের মূল্য তৎকালীন সময় কমবেশি ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ছিল।
যায়যায়দিনের ২ নাম্বার পয়েন্টের অভিযোগের ব্যাপারে মেঘনার ব্যাখ্যাও একেবারেই অযৌক্তিক। তার প্রমাণ- মেঘনা গ্রুপের প্রতিবাদপত্রের বক্তব্য অনুযায়ী তাদের জাহাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সিঙ্গাপুরের অরমরহধ ওহাবংঃসবহঃ খরসরঃবফ কে কমার্শিয়াল ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। অথচ যায়যায়দিন সিঙ্গাপুরে তদন্ত করে জানতে পেরেছে, সিঙ্গাপুরের অ্যাকাউন্টিং করপোরেট রেগুলেশন অথরিটি- অঈজঅ র নথিতে অরমরহধ ওহাবংঃসবহঃ খরসরঃবফ নামে কোনো কোম্পানির নিবন্ধন নেই। তাহলে একটি অনিবন্ধিত সিঙ্গাপুরি কোম্পানির সঙ্গে মেঘনা শিপ বিল্ডার্স কিসের ভিত্তিতে ইধৎবনড়ধঃ ঈযধৎঃবৎ চুক্তি করল?
অপরদিকে মেঘনার নিজস্ব ওয়েবসাইটে জাহাজের ম্যানেজার হিসেবে মার্কেন্টাইল শিপিং লাইন্স দেখানো হয়েছে।
মেঘনা তার প্রতিবেদনে বলেছে, মেঘনা প্রাইড জাহাজটি ক্রয় ও বিক্রয়ের মধ্যবর্তীকালীন ৭ মাসে তারা জাহাজ ইধৎবনড়ধঃ ঈযধৎঃবৎ ঐরৎব হিসেবে মাত্র দেড় লাখ মার্কিন ডলার ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকে রেমিট করেছে। এ হিসেবে জাহাজটির প্রতিমাসে চার্টার হায়ার ছিল মাত্র ২১ হাজার ৪২৮ ডলার। অর্থাৎ প্রতিদিন ৭১৪ দশমিক ২৮ ডলার। অথচ ২২ মিলিয়ন ডলারে কেনা এতবড় জাহাজে প্রতিদিন অন্তত ৮ থেকে ১০ হাজার ডলার চার্টার হায়ার পাওয়ার কথা। সেখানে প্রতিদিন মাত্র ৭১৪ দশমিক ২৮ ডলার চার্টার হায়ার পাওয়ার বিষয়টি শুধু অবিশ্বাস্যই নয়; ভীষণভাবে হাস্যকরও।
দেশের প্রচলিত আইনানুযায়ী, বাংলাদেশের পতাকাবাহী কোনো জাহাজে মালামাল পরিবহন ভাড়া ডলারে বিদেশে পাঠানোর কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু মেঘনার প্রতিবাদপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, তারা তাদের নিজস্ব ইউনাইটেড সুগার মিলসের ১৩ হাজার ৩৫০ মেট্রিক টন র'সুগার পরিবহন ভাড়া তাদেরই নিযুক্ত জাহাজ পরিচালনাকারী কমার্শিয়াল ম্যানেজার সিঙ্গাপুরের অরমরহধ ওহাবংঃসবহঃ খরসরঃবফ (সিঙ্গাপুরের অ্যাকাউন্টিং করপোরেট রেগুলেশন অথরিটি- অঈজঅ তে যার কোনো নিবন্ধন নেই) অনুকূলে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করেছে। নিজেদের প্রতিষ্ঠানের মাল নিজেদের জাহাজে পরিবহন করে তার ভাড়া দেশের প্রচলিত আইন ভেঙে কেন ডলারে বিদেশে পাঠানো হলো তার কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
এদিকে মেঘনার প্রতিবেদন ইউনাইটেড সুগার মিলের বিদেশ থেকে আমদানিকৃত র'ক্যান সুগারের ঋৎবরমযঃ ঈযধৎমব নিয়ম অনুযায়ী অগ্রণী ব্যাংকের ঘঙঈ নিয়ে পরিশোধ করা হয়েছে বলে দাবি করা হলেও তা যে সম্পূর্ণ মিথ্যা, তা ওই ব্যাংকের পাঠানো গত ৭ আগস্টের চিঠিতে [বৈবাবি/আমদানি (ক্যাশ)/৪১৪/২০১২] সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। ওই চিঠিতে এমভি মেঘনা প্রাইডের ঋৎবরমযঃ ঈযধৎমব কেন সিঙ্গাপুরের আইজিনা ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডকে (অরমরহধ ওহাবংঃসবহঃ খরসরঃবফ) দেয়া হয়েছে সে রহস্য জানতে চাওয়া হয়েছে। তবে মেঘনা এই চিঠির উত্তর এখন পর্যন্ত অগ্রণী ব্যাংককে দেয়নি।
মেঘনার প্রতিবেদনে যায়যায়দিনের ৪ নাম্বার পয়েন্টের অভিযোগের যে ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে তাও অত্যন্ত অযৌক্তিক। ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানকে না জানিয়ে মেঘনা গোপনে অর্ধেকেরও কম দামে জাহাজ বিক্রির পর বিক্রীত অর্থ অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে না এনে ইস্টার্ন ব্যাংকের মাধ্যমে সংগ্রহ করে তাদের জালিয়াতির সুস্পষ্ট প্রমাণ দিয়েছে। জাহাজ কেনাবেচায় জাল-জালিয়াতি, প্রতারণা ও মানি লন্ডারিংয়ের কোনো ষড়যন্ত্র না থাকলে মেঘনা কর্তৃপক্ষ ব্যাংকের সঙ্গে ঋণের চুক্তি অনুযায়ী জাহাজ বিক্রির আগে তা তাদের অবহিত করত এবং নিয়মানুযায়ী অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমেই জাহাজ বিক্রির টাকা সংগ্রহ করত। কিন্তু এর একটিও মেঘনা কর্তৃপক্ষ করেনি।
দৈনিক যায়যায়দিনে মেঘনার জালিয়াতি সম্পর্কিত যে দু'টি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তা তথ্যভিত্তিক এবং পুরোপুরি সঠিক। এ ব্যাপারে যায়যায়দিন তার অবস্থানে অনড়।
 
পরবর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নবিসিএসে এমসিকিউ তুলে দেয়ার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি_ এতে আপনার সমর্থন আছে কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2010 The Jaijaidin