পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ
মেঘনার ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জালিয়াতিদুদক নেমেছে তদন্তেযাযাদি রিপোর্ট মেঘনা গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান মেঘনা শিপ বিল্ডার্স অ্যান্ড ডকইয়ার্ডের জাহাজ আমদানির নামে ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জালিয়াতির ঘটনা অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদক সূত্র জানায়, গত ১২ আগস্ট দৈনিক যায়যায়দিনে 'মেঘনার ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জালিয়াতি' শিরোনামে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর এ সংক্রান্ত তথ্য যাচাই-বাছাই শুরু করে দুদক। দীর্ঘ পর্যালোচনা শেষে পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সত্যতা পেয়ে বিষয়টি আমলে নিয়ে তা অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় অনুসন্ধান টিম গঠনের অনুমোদন দেন দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান।
মেঘনার ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জালিয়াতির সঙ্গে অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালনা বোর্ড ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ডিজি শিপিং কমডোর জোবায়ের আহমেদ এবং মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্টের প্রিন্সিপাল অফিসার হাবিবুর রহমানসহ অন্যরা কে কতটা সম্পৃক্ত এবং জালিয়াতির মাধ্যমে কী পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে তা অনুসন্ধানে দুদকের সহকারী পরিচালক মাহবুবুল আলমকে নিযুক্ত করা হয়েছে। গত ১ অক্টোবর কমিশনের অনুমোদনক্রমে ওই কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেয়া হয়।
অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট দুদক সূত্র জানায়, মেঘনা শিপ বিল্ডার্স অগ্রণী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল ব্রাঞ্চে যে এলসি খুলে সিঙ্গাপুর থেকে ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে সমুদ্রগামী জাহাজ আমদানি করে ওই এলসির যাবতীয় তথ্য চেয়ে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে অগ্রণী ব্যাংককে চিঠি দেয় দুদক। এতে ৯ অক্টোবরের মধ্যে এ
সংক্রান্ত সব নথি দুদকে দাখিল করতে বলা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অগ্রণী ব্যাংক এ সংক্রান্ত নথি দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার হাতে পেঁৗছে দেয়। তবে তাতে গুরুত্বপূর্ণ বেশকিছু তথ্য না থাকায় এ সংক্রান্ত কাগজপত্র দ্রুত পাঠানোর জন্য আবারো অগ্রণী ব্যাংককে তাগিদ দিয়েছে দুদক।
দুর্নীতি দমন কমিশনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, মেঘনার জালিয়াতির ঘটনা পর্যালোচনায় বিপুল অঙ্কের অর্থ বিদেশে পাচারের যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই অনুসন্ধানের শুরুতেই এ বিষয়টিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মানিলন্ডারিং ডিপার্টমেন্টের মাধ্যমে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহে চিঠি দেয়া হয়েছে। এর পরপরই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখা এ ব্যাপারে তথ্য অনুসন্ধান শুরু করে।
এদিকে মেঘনা শিপ বিল্ডার্স অ্যান্ড ডকইয়ার্ড ঋণের টাকায় কেনা মেঘনা প্রাইড জাহাজটি অগ্রণী ব্যাংকের কাছে মর্টগেজ রাখলেও মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্ট থেকে দায়মুক্তির অবৈধ সার্টিফিকেট জোগাড় করে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানকে না জানিয়ে গোপনে লন্ডনের নেভালমার (ইউকে) লিমিটেডের কাছে কেনা দামের অর্ধেকের চেয়ে কম মূল্যে বিক্রি এবং পরে ওই টাকা ইস্টার্ন ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট করার বিষয়টি নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছে দুদক।
অন্যদিকে মেঘনা শিপ বিল্ডার্স তাদের জাহাজ বিক্রির টাকা ইস্টার্ন ব্যাংকের যে অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে রেমিট করেছে ওই অ্যাকাউন্টের যাবতীয় লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করছে দুদক। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের মানিলন্ডারিং শাখাকে চিঠি দেয়া হয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, গ্রাহকের লেনদেনের তথ্য সরাসরি ব্যাংকের কাছে চাওয়ার ক্ষমতা কমিশনের না থাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে তাদের তা সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
এদিকে মেঘনা প্রাইড (সাবেক নাম এমভি শ্যারিনা) জাহাজটির 'লাইফ হিস্ট্রি' অনুযায়ী সিঙ্গাপুরের মেসার্স সিলভিয়া শিপ ট্রেডার্স প্রাইভেট লিমিটেড কখনই এ জাহাজটির মালিক ছিল না। অথচ মেঘনা শিপ বিল্ডার্স মেঘনা প্রাইড জাহাজটি ক্রয়ের জন্য মেসার্স সিলভিয়া শিপ ট্রেডার্সের নামে এলসি খোলে এবং অগ্রণী ব্যাংক যথাসময়ে এ প্রতিষ্ঠানকে জাহাজের মূল্য পরিশোধ করে।
যে প্রতিষ্ঠান কখনই জাহাজটির মালিক ছিল না, সে প্রতিষ্ঠানের নামে অগ্রণী ব্যাংক কীভাবে এলসি খুলল- কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ অনিয়মের রহস্য উদ্ঘাটিত হলে মেঘনার জালিয়াতির সঙ্গে অগ্রণী ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, ডিজি শিপিং ও পিওএমএমডির কার কতটা সম্পৃক্ততা আছে তা সহজেই বেরিয়ে আসবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, এলসির মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থে বিদেশ থেকে কোনো পণ্য আমদানির আগে আন্তর্জাতিক বাজারে এর প্রকৃত মূল্য কত, তা যাচাইয়ে ডিউ ডিলিজেন্স (উঁব ফরষরমবহপব) করার সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। অথচ মেঘনা শিপ বিল্ডার্সের জাহাজ ক্রয়ের আগে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে ডিউ ডিলিজেন্স করেনি। মেঘনার জালিয়াতির সঙ্গে অগ্রণী ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি জড়িত থাকায় তা করা হয়নি বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে।
প্রসঙ্গত ২০১০ সালে মেঘনা গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান মেঘনা শিপ বিল্ডার্স অ্যান্ড ডকইয়ার্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোস্তফা কামাল তার প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আমদানিকৃত মালামাল পরিবহন এবং বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ব্যবহারের কথা বলে সিঙ্গাপুর থেকে সমুদ্রগামী জাহাজ আমদানির জন্য অগ্রণী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল ব্রাঞ্চে ঋণপত্র (এলসি) খোলার আবেদন করেন। এতে আমদানিকৃত জাহাজের মূল্য ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ ১৫৬ কোটি ২০ লাখ টাকা উল্লেখ করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে অগ্রণী ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ঋণপত্র খোলার অনুমতি দেয় এবং এর মাধ্যমে সিঙ্গাপুর থেকে পোল্যান্ডের তৈরি নরওয়ের পতাকাবাহী সমুদ্রগামী জাহাজ এমভি শ্যারিনা আমদানি করা হয়। সিঙ্গাপুরের মেসার্স সিলভিয়া শিপ ট্রেডার্স প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে ক্রয়কৃত জাহাজটি ২০১১ সালের ২৯ আগস্ট মেঘনা শিপ বিল্ডার্স গ্রহণ করে এবং তা জামানত হিসেবে অগ্রণী ব্যাংকের অনুকূলে বন্ধকী দলিল করে দেয়। জাহাজটি 'এমভি মেঘনা প্রাইড' নামকরণ করে রেজিস্ট্রেশন করা হয়। কিন্তু এক বছরের মাথায় মেঘনা শিপ বিল্ডার্স ঋণদাতা অগ্রণী ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে গোপনে তা ক্রয়মূল্যের অর্ধেকেরও কম দামে (১০ দশমিক ৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) বিক্রি করে দেয়।
 
পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
মেঘনার পেনডোরা বক্স -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নস্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, লিমনের পায়ে গুলি নিছক দুর্ঘটনা_ তার বক্তব্যে আপনার সমর্থন আছে কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2010 The Jaijaidin