পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ
মেঘনার ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জালিয়াতিসর্বাঙ্গে ব্যথা ওষুধ দেবো কোথা : এমডি অগ্রণী ব্যাংকযাযাদি রিপোর্ট সমুদ্রগামী জাহাজ কেনার নামে মেঘনা গ্রুপের ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ সম্পর্কে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেছেন, সর্বাঙ্গে ব্যথা, ওষুধ দেবো কোথায়।
উল্লেখ্য, গত ১২ আগস্ট দৈনিক যায়যায়দিনে 'মেঘনার ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জালিয়াতি' শীর্ষক খবরে অগ্রণী ব্যাংকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্টভাবে ৫টি অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়। এগুলো হচ্ছে-
১. মেঘনা শিপ বিল্ডার্সকে ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে প্রায় ১৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মানি লন্ডারিংয়ে অগ্রণী ব্যাংক সহায়তা করেছে।
২. এ কারণে ২০১১ সালে মেঘনা শিপ বিল্ডার্স অগ্রণী ব্যাংকে এলসি খুলে ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে জাহাজ ক্রয়ের আগে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ডিউ ডিলিজেন্স করেনি।
৩. মেঘনাকে জালিয়াতিতে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে তাদের ঋণের টাকায় কেনা জাহাজটি গত এক বছর কোথায় কী অবস্থায় রয়েছে অগ্রণী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তা জানতে চায়নি। এমনকি জাহাজটির ভাড়া বাবদ অর্জিত অর্থ কোথায় জমা হচ্ছে
তাও মেঘনা কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাওয়া হয়নি।
৪. ঋণের টাকায় কেনা জাহাজটি গোপনে বিক্রি করে দিলেও মেঘনা শিপ বিল্ডার্স এবং এ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত অগ্রণী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
৫. ২০১১ সালে মেঘনা শিপ বিল্ডার্স অগ্রণী ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে জাহাজ কিনে এক বছরের মাথায় তা গোপনে ১০ দশমিক ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে বিদেশে বিক্রি করে দেয়। অগ্রণী ব্যাংকের ঋণের টাকায় কেনা জাহাজ অর্ধেকের চেয়ে কম দামে তাদের না জানিয়ে মেঘনা কীভাবে বিক্রি করে দিল ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাও জানতে চায়নি।
উল্লেখিত এসব অভিযোগ নিয়ে গত ২৯ আগস্ট যায়যায়দিনের এ প্রতিবেদক অগ্রণী ব্যাংকের এমডি সৈয়দ আব্দুল হামিদের সঙ্গে কথা বলেন। তার সঙ্গে কথোপকথন ও আমাদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে অগ্রণী ব্যাংক কর্মকর্তাদের জালিয়াতি ও দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য।
নিচে প্রশ্নোত্তর ও আমাদের বক্তব্য উপস্থাপন করা হলো।
১. যাযাদি মেঘনা গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান মেঘনা শিপ বিল্ডার্স অ্যান্ড ডক ইয়ার্ড অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে এলসি (ঋণপত্র) খুলে ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জাহাজ কিনে ব্যাংককে না জানিয়ে এক বছরের মাথায় তা অর্ধেকের চেয়ে কম দামে গোপনে বিক্রি করে দিয়েছে। অর্থ লোপাটের এই ঘটনার সঙ্গে অগ্রণী ব্যাংকের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের চিহ্নিত করে শাস্তিমূলক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কি?
ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ গত এক বছর ওই জাহাজটির অবস্থান সম্পর্কে কোনো খোঁজখবর নেয়নি। এমনকি জাহাজটির ভাড়া বাবদ অর্জিত অর্থ কোথায় জমা হচ্ছে তাও মেঘনা কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাওয়া হয়নি। এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কী?
এমডি অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে অগ্রণী ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা জড়িত নন। তারা নিয়ম মেনেই মেঘনা শিপ বিল্ডার্সকে ঋণ দিয়েছেন। তবে তাদের কারো পেশাগত দায়িত্ব পালনের গাফিলতির সুযোগে মেঘনা শিপ বিল্ডার্স এই অনিয়ম করে থাকতে পারে। এর বেশি আর কিছু বলতে চাই না।
প্রতিবেদকের বক্তব্য ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল হামিদ প্রতিবেদকের প্রশ্নের সরাসরি কোনো জবাব দেননি, বরং কৌশলে তা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। কারণ এ ধরনের জালিয়াতির কোনো ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হয়। এ জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দ্রুত অভ্যন্তরীণ তদন্তের ব্যবস্থা করে থাকে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে এখনো কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
ব্যাংক কর্মকর্তাদের কারো গাফিলতির সুযোগে মেঘনা এ জালিয়াতি করেছে বলে এমডি আব্দুল হামিদ যে বক্তব্য দিয়েছেন তাও অগ্রহণযোগ্য। কারণ এলসি ওপেনিংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন ব্যাংকের দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তারা। এ ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা ডিপার্টমেন্টের একক সিদ্ধান্তে এত বিশাল অঙ্কের অর্থ ঋণ দেয়া হয় না। সুতরাং ব্যক্তি বিশেষের গাফিলতিতে নিঃসন্দেহে এত বড় জালিয়াতি হয়নি। নিঃসন্দেহে এ ঘটনার সঙ্গে অগ্রণী ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও (কী-পারসন) জড়িত।
২. যাযাদি ২০১১ সালে মেঘনা শিপ বিল্ডার্স যখন এমভি মেঘনা প্রাইড কেনে, ওই সময় আন্তর্জাতিক বাজারে ওই মানের জাহাজের মূল্য কোনো অবস্থাতেই ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি ছিল না। মেঘনা শিপ বিল্ডার্স অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ওভার ইনভয়েসিং করে জাহাজটির ক্রয় মূল্য ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেখিয়ে ১৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার করা হয়েছে। রহস্যজনক কারণে অগ্রণী ব্যাংকের টপ ম্যানেজমেন্ট/বোর্ড আন্তর্জাতিক বাজারে মেঘনা শিপ বিল্ডার্সের কেনা জাহাজটির প্রকৃত মূল্য কত, তা যাচাই করেনি। ডিউ ডিলিজেন্স (উঁব ফরষরমবহপব) ছাড়া বিপুল অঙ্কের অর্থ ঋণ দেয়ার কারসাজিতে অগ্রণী ব্যাংকের বিশেষ মহলের এই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ দিচ্ছে- এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?
এমডি ডিউ ডিলিজেন্স ছাড়া কাউকেই কোনো ঋণ দেয়া হয় না। মেঘনা শিপ বিল্ডার্সকে জাহাজ কিনতে ঋণ দেয়ার সময়ও ডিউ ডিলিজেন্স করা হয়েছে। তবে ওই সময় অগ্রণী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় জাহাজের মূল্য নির্ধারণে কিছু ত্রুটি হতে পারে। হয়তো ১২টি প্যারামিটারে ডিউ ডিলিজেন্স করা উচিত ছিল, অজ্ঞতার কারণে হয়তো সেখানে ৭/৮টি করা হয়েছে।
প্রতিবেদকের বক্তব্য জাহাজ কিনতে ডিউ ডিলিজেন্স করা হয়েছে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। কারণ খোদ এমডিই স্বীকার করেছেন, ১২টি প্যারামিটারের মধ্যে ৭/৮ প্যারামিটার যাচাই করা হয়েছে। অথচ ডিউ ডিলিজেন্স শব্দের মর্মার্থ হচ্ছে- সম্ভাব্য বিনিয়গের আগে সব বিষয়েই পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে হিসাব নিরীক্ষণ ও অনুসন্ধান করা এবং তা ক্রসচেক করে দেখা। অথচ ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে জাহাজ কেনার আগে সবগুলো প্যারামিটার পর্যালোচনা করা হয়নি।
আমাদের বিশ্বাস, বিশেষ উদ্দেশ্যেই ডিউ ডিলিজেন্সে চার-পাঁচটি প্যারামিটার নিরীক্ষা করা হয়নি। কারণ ওই চার-পাঁচটি প্যারামিটার পর্যালোচনা করলে হয়তো মেঘনা শিপ বিল্ডার্সকে ঋণ অনুমোদন আটকে যেত। এ কারণেই তা কৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
এতে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের ফরেন কারেন্সি মানি লন্ডারিংয়ের উদ্দেশ্যেই এলসি ওপেনিংয়ের সময় সূক্ষ্ম জালিয়াতি করা হয়েছে। অর্থ লোপাটের বড় ভাগ না পেলে অগ্রণী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জনগণের আমানতের টাকা এভাবে ঝুঁকিতে ফেলার কথা নয়।
৩. যাযাদি অগ্রণী ব্যাংকের ঋণের টাকায় কেনা জাহাজটি মেঘনা শিপ বিল্ডার্স গোপনে বিক্রি করে দিলেও তাদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো অ্যাকশন নেয়া হয়নি কেন? জাহাজটির অবস্থান এবং এর অর্জিত ভাড়া কোথায় জমা হচ্ছে তা জানতে চেয়ে মেঘনাকে গত ৭ আগস্ট ব্যাংক যে চিঠি দিয়েছে তার কি কোনো জবাব পাওয়া গেছে?
এমডি আমরা এখন দুটি বিষয়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। তার একটি হলো- জাহাজ ক্রয়ে যে ফরেন কারেন্সি বিদেশে গেছে তা দেশে ফেরত এসেছে কিনা। আর মেঘনাকে দেয়া ঋণের টাকা কীভাবে কত তাড়াতাড়ি ফেরত পাওয়া যাবে।
প্রতিবেদকের বক্তব্য এমডির উত্তরেই বোঝা যায়, মেঘনার জালিয়াতির বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত তিনি কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। গোপনে জাহাজ বিক্রি করে দেয়ার জন্য মেঘনাকে অভিযুক্ত করে জবাবদিহিও করা হয়নি। এমনকি জাহাজের অবস্থান এবং এর অর্জিত ভাড়া কোথায় জমা হচ্ছে তা জানতে চেয়ে অগ্রণী ব্যাংক গত ৭ আগস্ট মেঘনাকে যে চিঠি [স্মারক নাম্বার- বৈবাবি/আমদানি (ক্যাশ)/৪১৪/২০১২] দিয়েছে তারা তার উত্তর না দিলেও এ নিয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কোনো মাথা ব্যথ্যা নেই। বরং ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কালক্ষেপণ করে পুরো বিষয়টি ধাপাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।
মেঘনা শিপ বিল্ডার্সের জাহাজ বিক্রির ১০ দশমিক ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ইস্টার্ন ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে রেমিট হয়েছে- যা আমরা আগেই আমাদের সংবাদে উল্লেখ করেছি। বিষয়টি অগ্রণী ব্যাংক কর্তৃপক্ষেরও জানা আছে। তবে রহস্যজনক কারণে তারা এখনো সেখান থেকে ওই টাকা সংগ্রহের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। অথচ ঋণের টাকা আদায়ে অগ্রণী ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে ওই টাকা আদায়ে তৎপর হওয়ার কথা। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তা হয়নি।
আমাদের ধারণা এমডি নিজেই এ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত। তাই মেঘনার কাছে কীভাবে ঋণের টাকা ফেরত চাইবেন, তিনি এখন সেই পথ খুঁজে পাচ্ছেন না।
৪. যাযাদি জাহাজ কেনা হয়েছিল ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। আর তা বিক্রি করা হয়েছে ১০ দশমিক ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। এ হিসাবে বাকি ১১ দশমিক ৭০ মিলিয়ন ডলার দেশে ফেরত আসার কোনো সম্ভাবনা নেই- এ ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কী?
এমডি এ ব্যাপারে আমি কিছু বলতে চাচ্ছি না। এ ব্যাপারে জানতে হলে আপনাকে অন্য কারো সঙ্গে কথা বলতে হবে।
প্রতিবেদকের বক্তব্য বিশাল অঙ্কের ফরেন কারেন্সি বিদেশে পাচার হওয়ার বিষয়টি নিঃসন্দেহে ব্যাংকের এমডি সৈয়দ আব্দুল হামিদের জানা। ধারণা করা হচ্ছে, বাকি ১১ দশমিক ৭০ মিলিয়ন ডলার বিদেশেই মেঘনা শিপ বিল্ডার্স, ডিজি শিপিং, পিওএমএমডি ও অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মধ্যে ভাগাভাগি হয়ে গেছে। তাই এ ব্যাপারে কথা বলতে গেলে আসল সত্য প্রকাশ হয়ে যেতে পারে এ ভয়েই হয়তো তিনি কোনো বক্তব্য দিতে চাননি।
এ ব্যাপারে তিনি প্রতিবেদককে অন্য কারো সঙ্গে কথা বলতে বললেও ব্যাংকের ক্রেডিট ডিপার্টমেন্টের জিএম, ডিজিএমসহ অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তিনি মুখ না খুলতে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।
এ কারণে ক্রেডিট ডিপার্টমেন্টের জিএম মিজানুর রহমান এবং ডিজিএম জহর লাল রায়ের সঙ্গে দফায় দফায় যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তারা এ প্রতিবেদককে এড়িয়ে গেছেন। তবে ডিজিএম জহর লাল যায়যায়দিনকে বলেন, এমডি স্যার মেঘনার বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে নিষেধ করেছেন। এ ব্যাপারে যা বলার উনি নিজেই বলবেন।
৫. যাযাদি অগ্রণী ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে মেঘনা জাহাজ ক্রয় করে তা বিদেশে গোপনে বিক্রি করে দিয়ে ইস্টার্ন ব্যাংকের মাধ্যমে ওই অর্থ রেমিট করেছে- এ বিষয়ে আপনাদের অবস্থান কী?
এমডি আমরা এখন এসব বিষয় নিয়ে ভাবছি না। আমরা আমাদের ঋণ আদায়ের চেষ্টা করছি।
প্রতিবেদকের বক্তব্য জাহাজ বিক্রির বিষয়টি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আগেভাগেই জানতেন। তারা হয়তো এই বিক্রির অর্থের একটি অংশের ভাগিদার হয়েছেন। এ কারণেই ইস্টার্ন ব্যাংকের মাধ্যমে ইনওয়ার্ড রেমিটেন্সের বিষয়ে তারা কোনো প্রশ্ন তোলেননি। তা না হলে ইস্টার্ন ব্যাংককে মিথ্যা তথ্য দিয়ে অর্থ রেমিট করার ব্যাপারে অগ্রণী ব্যাংক অবশ্যই জবাব চাইত। এছাড়া ওই টাকা যদি মেঘনা শিপ বিল্ডার্স খরচ করে না থাকে তবে অগ্রণী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের অবশ্যই তা ফেরত চাওয়ার কথা। কিন্তু এখন পর্যন্ত অগ্রণী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ইস্টার্ন ব্যাংকের কাছে ওই টাকা দাবি করেনি।
এতে প্রতীয়মান হয়, অগ্রণী ব্যাংকের ইসি, বোর্ড ও এমডিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনেকেই এ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত।
৬. যাযাদি কতদিনের মধ্যে আপনার মেঘনার কাছ থেকে ঋণের টাকা আদায় করতে পারবেন বলে মনে করছেন?
এমডি এ বিষয়ে এখনো কিছু বলতে পারছি না। তবে হয়তো আগামী ১৫ দিনের পর জানতে পারব এ নিয়ে শেষ পর্যন্ত কি হবে।
প্রতিবেদকের বক্তব্য ১৫ দিন দূরে থাক, ১৫ মাসের মধ্যেও মেঘনা শিপ বিল্ডার্সের কাছ থেকে ঋণের টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। কারণ জাহাজ বিক্রির ১০ দশমিক ৭০ মিলিয়ন ডলার ইস্টার্ন ব্যাংকের মাধ্যমে ইনওয়ার্ড রেমিট হওয়ার বিষয়টি জানা সত্ত্বেও অগ্রণী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তা উদ্ধারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। মেঘনার ঋণ আদায়ের ব্যাপারে ব্যাংকের যথেষ্ট আগ্রহ থাকলে অনেক আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ওই টাকা সংগ্রহে তৎপর হয়ে উঠত। এতে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ হয়, অগ্রণী ব্যাংক কালক্ষেপণ করে মেঘনাকে সময় দিচ্ছে।
৭. যাযাদি- মেঘনা প্রাইড জাহাজটির মর্টগেজ রেজিস্ট্রেশন থাকা সত্ত্বেও কেন ওই জাহাজটির কোনো ঋণ নেই মর্মে মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্ট/ডিজি শিপিং দায়মুক্তির সার্টিফিকেট দিয়েছেন তা জানতে চেয়ে গত ৭ আগস্ট (পিবি/এফইএক্স/ইএক্সপি/এএডি/০১৩৮/২০১২) অগ্রণী ব্যাংক চিঠি দিয়েছে। আমাদের জানামতে, এখন পর্যন্ত ওই চিঠির কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কী?
এমডি এ প্রশ্ন শোনামাত্রই ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আব্দুল হামিদ গম্ভীর হয়ে যান। তিনি এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথোপকথন শেষ করার জন্য ব্যস্ত হয়ে ওঠেন। দাপ্তরিক কাজকর্মের ব্যস্ততা দেখিয়ে প্রতিবেদককে বিদায় দেয়ার চেষ্টা করেন।
উত্তরের জন্য প্রতিবেদকের বারবার অনুরোধের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, আমার চেয়ার (পদ) এ প্রশ্নের জবাব দেয়ার বিষয়টি পারমিট করে না। এ তথ্য জানতে হলে আপনাকে অন্য কারো শরণাপন্ন হতে হবে।
প্রতিবেদকের বক্তব্য এমডির এ রহস্যজনক আচরণে প্রতীয়মান হয়- এ জালিয়াতির সঙ্গে রাঘববোয়াল অনেকেই জড়িত রয়েছে। ম্যানেজমেন্ট ছাড়াও ব্যাংকের বোর্ড/নির্বাহী কমিটির (ইসি) কারো প্রভাব রয়েছে। যাদের কথা ফাঁস করে দিয়ে এমডি সৈয়দ আব্দুল হামিদ নিজেও বিপদে পড়তে চাইছেন না। তাই পদমর্যাদার দোহাই দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন।
৮. যাযাদি মেঘনা শিপ বিল্ডার্সকে ঋণ দেয়া, তাদের ওভার ইনভয়েসিং ও মানি লন্ডারিংসহ বিভিন্ন জালিয়াতির সঙ্গে অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়টি অনেকটা পরিষ্কার হয়ে গেছে। ব্যাংকের ওই সব দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে কিনা?
এমডি- সর্বাঙ্গে ব্যথা, ওষুধ দেবো কোথা?
প্রতিবেদকের বক্তব্য এমডির এ জবাবে পরিষ্কার বোঝা যায় শুধু মুষ্টিমেয় কর্মকর্তাই নয়, মেঘনার এ জালিয়াতির সঙ্গে অগ্রণী ব্যাংকের ডিসিশন মেকাররা সবাই জড়িত। তাই তিনি কার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন তা বুঝে উঠতে পারছেন না।
 
পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
মেঘনার পেনডোরা বক্স -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নস্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, লিমনের পায়ে গুলি নিছক দুর্ঘটনা_ তার বক্তব্যে আপনার সমর্থন আছে কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2010 The Jaijaidin