পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ
মেঘনার ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জালিয়াতিকমডোর জোবায়েরের ইন্ধনে সমুদ্র পরিবহনে দুর্নীতিবাজদের উল্লাসযাযাদি রিপোর্ট wewfb cwKvq Qvcv nIqv GB mB wevcbসমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি শিপিং) কমডোর জোবায়ের আহমেদের ইন্ধনে দুর্নীতিবাজ চক্রের সদস্যরা এবার ভিন্ন উপায়ে মাঠে নেমেছেন। তারা ডিজি শিপিংয়ের দুর্নীতি ঢাকতে প্রচার মাধ্যমে উল্টো প্রচারণা শুরু করেছেন। এ জন্য লাখ লাখ টাকা খরচ করে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে বলা হচ্ছে- ডিজি শিপিংয়ের চরিত্র 'ফুলের মতো পবিত্র'। অহেতুক তার বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ ছাপানো হচ্ছে। এছাড়াও অনুগামী ও সমর্থকদের নিয়ে বিভিন্ন নামি হোটেলে রাতের বেলা বৈঠক ডেকে পানাহারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
গত ২৯ আগস্ট দৈনিক যায়যায়দিন 'মেঘনার ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জালিয়াতি-কমডোর জোবায়ের আহমেদের সর্বাঙ্গে দুর্নীতির দুষ্টক্ষত' শিরোনামে যে সংবাদ প্রকাশিত হয় তাতে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি শিপিং) কমডোর জোবায়ের আহমেদের দুর্নীতির ৭টি পয়েন্ট উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে-
১. মেঘনা শিপ বিল্ডার্সকে গোপনে জাহাজ বিক্রির জালিয়াতিতে সহায়তা করতে ডিজি শিপিংয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্ট অবৈধভাবে যে ঋণমুক্তির প্রত্যয়নপত্র দিয়েছে তাতে কমডোর জোবায়ের আহমেদের ইন্ধন রয়েছে।
২. মেঘনার জাহাজ বিক্রির জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ার পরও ডিজি শিপিং তা ধামাচাপা দেয়ার উদ্দেশ্যে কালক্ষেপণ করতে কাগজপত্রে দুর্নীতি খোঁজার চেষ্টা করছেন। যেখানে মেঘনা শিপ বিল্ডার্স, পিওএমএমডি ও ডিজি শিপিংয়ের গোপন যোগসাজশের অভিযোগ রয়েছে, সেখানে কাগজপত্রে দুর্নীতি খোঁজার নামে আসলে 'আইওয়াশ' করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
৩. মেঘনার জালিয়াতির ঘটনা ধাপাচাপা দিতে ডিজি শিপিং স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কোনো কমিটি দিয়ে তদন্ত না করে তার অধীনস্থ কর্মকর্তাদের দিয়ে কমিটি করে তদন্ত করছেন।
৪. ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মতো এত বিশাল অঙ্কের নিজস্ব অর্থে সমুদ্রগামী জাহাজ কেনার কোনো নজির না থাকলেও পিওএমএমডি/ডিজি শিপিং রেগুলেটরি বডি হিসেবে রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসে খোঁজ না নিয়েই নিয়মবহির্ভূতভাবে জাহাজটির কোনো প্রকার দায় নেই মর্মে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন। জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে মেঘনাকে গোপনে জাহাজ বিক্রি করার পথ সুগম করে দিতেই তা করা হয়েছে।
৫. মেঘনার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামালের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক থাকার কারণে অগ্রণী ব্যাংকের কাছে ঋণ থাকা সত্ত্বেও কমডোর জোবায়ের আহমেদের ইঙ্গিতে মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্টের প্রিন্সিপাল অফিসার (পিওএমএমডি) অবৈধভাবে গোপনে মেঘনা প্রাইড জাহাজটির দায়মুক্তির সার্টিফিকেট দিয়েছেন।
৬. অবৈধভাবে মেঘনা প্রাইড জাহাজটির দায়মুক্তির সার্টিফিকেট দেয়ায় অগ্রণী ব্যাংক গত ৭ আগস্ট মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্টের প্রিন্সিপাল অফিসারকে অভিযুক্ত করে যে চিঠি দিয়েছে তা জানেন না দাবি করে ডিজি শিপিং কমডোর জোবায়ের আহমেদ বিষয়টি গোপন করতে চেয়েছেন।
৭. মার্চেন্ট শিপ অর্ডিন্যান্স-১৯৮৩ অনুযায়ী, বাংলাদেশি পতাকাবাহী কোনো জাহাজ বিক্রি, মালিকানা হস্তান্তর বা আকৃতি পরিবর্তন করতে হলে ডিজি শিপিংয়ের লিখিত অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু মেঘনা শিপ বিল্ডার্স কোনো অনুমোদন না নিয়েই গোপনে জাহাজ বিক্রি করে দিলেও ডিজি শিপিং তাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।
সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে এই ৭টি অভিযোগ উত্থাপন করা হলে ডিজি শিপিং কমডোর জোবায়ের আহমেদ গত ২৯ আগস্ট এ ব্যাপারে একটি প্রতিবাদ পাঠান- যা ২ সেপ্টেম্বর দৈনিক যায়যায়দিনে হুবহু প্রকাশ করা হয়। কমডোর জোবায়ের আহমেদ প্রতিবাদপত্রে সংবাদের শুধু ১, ২ ও ৫ এই তিনটি পয়েন্টে উলি্লখিত অভিযোগ খ-নের চেষ্টা করেছেন। বাকি (৩, ৪, ৬ ও ৭) চারটি পয়েন্টের ব্যাপারে তিনি কোনো কথা বলেননি।
ডিজি শিপিং তার প্রতিবাদপত্রে উলি্লখিত তিনটি পয়েন্টে অযৌক্তিক কিছু ব্যাখ্যা দিয়ে তা খ-নের চেষ্টা করেছেন। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করে তা অগ্রহণযোগ্য প্রমাণ করেছেন। যা ডিজি শিপিংয়ের প্রতিবাদের নিচে প্রতিবেদকের বক্তব্য হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদকের বক্তব্য সংবলিত প্রতিবেদনটি প্রকাশ হওয়ার পর এখন পর্যন্ত কমডোর জোবায়ের আহমেদ এ ব্যাপারে আর কোনো প্রতিবাদ বা বক্তব্য প্রদান করেননি। তাতে প্রমাণিত হয়েছে তিনি যায়যায়দিনে প্রকাশিত সংবাদের ১, ২ ও ৩ নাম্বার পয়েন্টে উলি্লখিত অভিযোগ খ-নের যে চেষ্টা করেছিলেন তা অগ্রহণযোগ্য। বিষয়টি মেনে নিয়েই তিনি এ ব্যাপারে আর কোনো বক্তব্য দেননি বলে প্রতীয়মান হয়।
এ অবস্থায় কমডোর জোবায়ের আহমেদকে উদ্ধারে মাঠে নামেন তার দালাল ও দুর্নীতিবাজ সহযোগীরা। তারা গত বুধ ও বৃহস্পতিবার সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নামে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে জোবায়ের আহমেদের মুখে মেঘনা কেলেঙ্কারির যে কালি লেগেছে তা মোছার চেষ্টা করছেন। যায়যায়দিনে প্রকাশিত সংবাদে জোবায়ের আহমেদকে কলুষিত করার অপচেষ্টা করা হয়েছে বলে বিজ্ঞাপনে অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে কোন অভিযোগটি অসত্য এবং এ ব্যাপারে তাদের বক্তব্য কী- তার কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি।
সংশ্লিষ্ট দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডিজি শিপিং কমডোর জোবায়ের আহমেদের কেলেঙ্কারি ঢাকতে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নামে বিজ্ঞাপন দেয়া হলেও তাদের অনেকেই বিষয়টি জানেন না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করে জোবায়ের আহমেদের দুর্নীতির সহযোগী ও কথিত দালালরা সাদা কাগজে অনেকের স্বাক্ষর নিয়েছেন।
অথচ যায়যায়দিনে প্রকাশিত সংবাদে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। তাই বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে এ ব্যাপারে তাদের প্রতিবাদ দেয়ারও কোনো যুক্তি নেই। কমডোর জোবায়ের আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির যে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে এ ব্যাপারে কোনো বক্তব্য বা প্রতিবাদ থাকলে তা তিনিই ব্যবস্থা নেবেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকেই স্বীকার করেছেন, বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় তাদের নামে বিজ্ঞাপন ছাপানো হলেও এ জন্য তাদের পকেট থেকে কোনো টাকা দিতে হয়নি। জোবায়ের আহমেদ ও তার দুর্নীতিবাজ সহযোগীরাই ওইসব বিজ্ঞাপন বিল পরিশোধ করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া সংবাদপত্রে বা গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন বা বিবৃতি দিতে পারেন না। তারপরও কারা জোবায়ের আহমেদের পক্ষে সাফাই গেয়ে এ বিজ্ঞাপন দিয়েছেন, কার টাকায় দিয়েছেন এবং কেন দিয়েছেন- তা অনুসন্ধান করলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে।
 
পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
মেঘনার পেনডোরা বক্স -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নমুক্তিযুদ্ধের উপপ্রধান সেনানায়ক এ কে খন্দকার পাকিস্তানের গুপ্তচর ছিলেন_ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ফ ম মোজাম্মেল হকের এই বক্তব্য কি বিশ্বাসযোগ্য?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2010 The Jaijaidin