পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ
মেঘনার ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জালিয়াতিভেঙে পড়ছে জালিয়াত চক্রের তাসের ঘরযাযাদি রিপোর্ট মেঘনা গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান মেঘনা শিপ বিল্ডার্স অ্যান্ড ডকইয়ার্ডের ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জালিয়াতির খবর যায়যায়দিনে প্রকাশের পর এ ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং এ অর্থের কতটা বিদেশে পাচার করা হয়েছে তা খোঁজার উদ্যোগ নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
এদিকে জালিয়াতির এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা তদন্তে একটি সেল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তারা ইতোমধ্যেই এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করে তা পর্যালোচনা শুরু করেছে। জাহাজ আমদানির জন্য মেঘনা শিপ বিল্ডার্সের অগ্রণী ব্যাংকে এলসি (ঋণপত্র) খোলা, ওভার ইনভয়েসিং ও জাহাজ ক্রয়ের মাত্র এক বছরের মাথায় অর্ধেকের চেয়ে কম দামে তা গোপনে বিক্রি করে দেয়া এবং মানি লন্ডারিংসহ অন্যান্য অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে অগ্রণী ব্যাংকের কোন কর্মকর্তা কতটুকু জড়িত, তা চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
গত ১২, ১৪, ১৭, ২৫, ২৯ আগস্ট ও ২ সেপ্টেম্বর দৈনিক যায়যায়দিনে যথাক্রমে 'মেঘনার ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জালিয়াতি', 'মেঘনার মানি লন্ডারিং তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু', 'মেঘনার প্রতিবাদ ও আমাদের বক্তব্য', 'মার্কেন্টাইল মেরিন বিভাগের প্রতিবাদ ও আমাদের বক্তব্য', 'কমডোর জোবায়ের আহমেদের সর্বাঙ্গে দুর্নীতির দুষ্টক্ষত', 'কমডোর জোবায়ের আহমেদের প্রতিবাদ ও আমাদের বক্তব্য' শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে।
এর মধ্যে 'মেঘনার ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জালিয়াতি', 'মেঘনার মানি লন্ডারিং তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু'- এই দু'টি প্রতিবেদনে মেঘনা শিপ বিল্ডার্সের জালিয়াতির ৮টি পয়েন্ট উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে- ঘর : পৃষ্ঠা ২ কলাম ২

১. মেঘনা শিপ বিল্ডার্স অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে এলসি (ঋণপত্র) খুলে ওভার ইনভয়েসিং করে বাজারদরের চেয়ে প্রায় ১৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিরিক্ত মূল্যে ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দিয়ে একটি সমুদ্রগামী জাহাজ ক্রয় করে। ২. মেঘনা শিপ বিল্ডার্স জাহাজ গ্রহণের পর থেকে এক বছর জাহাজের অবস্থান ও পরিবহন ভাড়া আদায় সংক্রান্ত কোনো তথ্য চুক্তি অনুযায়ী ঋণদাতা অগ্রণী ব্যাংককে জানায়নি। ৩. অগ্রণী ব্যাংকের কাছে ঋণ থাকা সত্ত্বেও মেঘনা শিপ বিল্ডার্স অবৈধভাবে গোপন যোগসাজশে ডিজি শিপিংয়ের অধীন মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্ট থেকে 'জাহাজটির কোনো রকম দায়বদ্ধতা নেই মর্মে' প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করে। ৪. এই প্রত্যয়নপত্রকে পুঁজি করে মেঘনা শিপ বিল্ডার্স মেঘনা প্রাইড জাহাজটি ঋণদাতা অগ্রণী ব্যাংককে না জানিয়ে গোপনে ঘধাধষসধৎ (টক) খঃফ-এর কাছে বিক্রি করে দেয়। ৫. ক্রয়মূল্যের অর্ধেকের চেয়ে কম দামে জাহাজ বিক্রির টাকা পুরোটাই আত্মসাতের উদ্দেশ্যে তা অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে না এনে তা ইস্টার্ন ব্যাংকে ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স করা হয়। ৬. অগ্রণী ব্যাংককে ফাঁকি দিয়ে গোপনে জাহাজ বিক্রির সময় বিক্রিত জাহাজের কোনো মর্টগেজ বা দায়বদ্ধতা নেই মর্মে মেঘনা শিপ বিল্ডার্স ইস্টার্ন ব্যাংকের কাছে 'সি ফর্ম' এবং মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্টের দায়মুক্তির প্রত্যয়নপত্র দাখিল করে। ৭. মেঘনা প্রাইড জাহাজটির অফিসিয়াল কাগজপত্রে এর মালিকানা মেঘনা শিপ বিল্ডার্স অ্যান্ড ডকইয়ার্ডের নামে থাকলেও তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে জাহাজটির ওনার (মালিক) হিসেবে মার্কেন্টাইল শিপিং লাইন্স, ঢাকা, বাংলাদেশের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ম্যানেজার হিসেবেও একই প্রতিষ্ঠানকে দেখানো হয়েছে। ৮. মেঘনা শিপ বিল্ডার্স অ্যান্ড ডক ইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. গোলাম মোস্তফা জাহাজটি কেনার সময় বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান সিঙ্গাপুরের মেসার্স সিলভিয়া শিপট্রেডস প্রাইভেট লিমিটেডের সিইও বাংলাদেশি নাগরিক মজিবুর রহমান মিলনের সঙ্গে গোপন অাঁতাত করে অর্থ পাচারের উদ্দেশ্যেই ওভার ইনভয়েস করে এর ক্রয়মূল্য ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেখিয়ে ছিলেন; পরে মেসার্স সিলভিয়া শিপট্রেডস প্রাইভেট লিমিটেডের মাধ্যমে ১৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে নিয়ে যান।
সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে এসব অভিযোগ উত্থাপন করা হলে গত ১৪ আগস্ট মেঘনা গ্রুপ এ ব্যাপারে একটি প্রতিবাদ পাঠায়। তবে যায়যায়দিনের প্রকাশিত সংবাদ দু'টিতে ৮টি অভিযোগ উল্লেখ করা হলেও মেঘনার প্রতিবাদপত্রে শুধু ১, ২ ও ৪ এই তিনটি পয়েন্টে উলি্লখিত অভিযোগ খ-নের চেষ্টা করা হয়েছে। যায়যায়দিন কর্তৃপক্ষ গত ১৭ আগস্ট মেঘনার ওই প্রতিবাদপত্র হুবহু প্রকাশ করে। একই সঙ্গে মেঘনার প্রতিবাদ যে অগ্রহণযোগ্য সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্তসহ প্রতিবেদকের বক্তব্যও প্রকাশ করা হয়েছে।
মেঘনার জালিয়াতি সংক্রান্ত ওই দুটি প্রতিবেদনে মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্ট সম্পর্কে ৩টি অভিযোগ আনা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে ১. মেঘনা প্রাইড জাহাজটির অগ্রণী ব্যাংকের কাছে ঋণ থাকা সত্ত্বেও মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্ট অবৈধভাবে মেঘনা শিপ বিল্ডার্সকে 'জাহাজটির কোনো দায়বদ্ধতা নেই' মর্মে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছে। ২. এই প্রত্যয়নপত্রকে পুঁজি করে মেঘনা শিপ বিল্ডার্স মেঘনা প্রাইড জাহাজটি ঋণদাতা অগ্রণী ব্যাংককে না জানিয়ে গোপনে বিক্রি করে দিতে সক্ষম হয়েছে। ৩. অবৈধভাবে দায়মুক্তির সার্টিফিকেট দেয়ার জন্য পিওএমএমডিকে অভিযুক্ত করে গত ৭ আগস্ট অগ্রণী ব্যাংক এ ব্যাপারে তার বক্তব্য জানতে চেয়ে চিঠি (পিবি/এফইএক্স/ইএক্সপি/এএডি/০১৩৮/২০১২) দিলেও তিনি অগ্রণী ব্যাংকের ওই চিঠির কোনো জবাব দেননি।
এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্ট প্রতিবাদ পাঠালে গত ২৫ আগস্ট তা হুবহু প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে যায়যায়দিনে প্রকাশিত অভিযোগ যে পুরোপুরি সঠিক এর পক্ষে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকের সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্তসহ বক্তব্য প্রকাশ করা হয়।
এদিকে গত ২৯ আগস্ট দৈনিক যায়যায়দিন 'মেঘনার ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জালিয়াতি-কমডোর জোবায়ের আহমেদের সর্বাঙ্গে দুর্নীতির দুষ্টক্ষত' শিরোনামে যে সংবাদ প্রকাশ করে তাতে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি-শিপিং) কমডোর জোবায়ের আহমেদের দুর্নীতির ৭টি পয়েন্ট উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে-
১. মেঘনা শিপ বিল্ডার্সকে গোপনে জাহাজ বিক্রির জালিয়াতিতে সহায়তা করতে ডিজি শিপিংয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্ট অবৈধভাবে যে ঋণমুক্তির প্রত্যয়নপত্র দিয়েছে তাতে কমডোর জোবায়ের আহমেদের ইন্ধন রয়েছে।
২. মেঘনার জাহাজ বিক্রির জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ার পরও ডিজি শিপিং তা ধামাচাপা দেয়ার উদ্দেশ্যে কালক্ষেপণ করতে কাগজপত্রে দুর্নীতি খোঁজার চেষ্টা করছেন। যেখানে মেঘনা শিপ বিল্ডার্স, পিওএমএমডি ও ডিজি শিপিংয়ের গোপন যোগসাজশের অভিযোগ রয়েছে, সেখানে কাগজপত্রে দুর্নীতি খোঁজার নামে আসলে 'আইওয়াশ' করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
৩. মেঘনার জালিয়াতির ঘটনা ধাপাচাপা দিতে ডিজি শিপিং স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কোনো কমিটি দিয়ে তদন্ত না করে তার অধীন কমিটি দিয়ে তদন্ত করছেন।
৪. ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মতো এত বিশাল অঙ্কের নিজস্ব অর্থে সমুদ্রগামী জাহাজ কেনার কোনো নজির না থাকলেও পিওএমএমডি/ ডিজি শিপিং রেগুলেটরি বডি হিসেবে রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসে খোঁজ না নিয়েই নিয়মবহির্ভূতভাবে জাহাজটির কোনো প্রকার দায় নেই মর্মে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন। জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে মেঘনাকে গোপনে জাহাজ বিক্রি করার পথ সুগম করে দিতেই তা করা হয়েছে।
৫. মেঘনার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামালের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক থাকার কারণে অগ্রণী ব্যাংকের কাছে ঋণ থাকা সত্ত্বেও কমডোর জোবায়ের আহমেদের ইঙ্গিতে মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্টের প্রিন্সিপাল অফিসার (পিওএমএমডি) অবৈধভাবে গোপনে মেঘনা প্রাইড জাহাজটির দায়মুক্তির সার্টিফিকেট দিয়েছেন।
৬. অবৈধভাবে মেঘনা প্রাইড জাহাজটির দায়মুক্তির সার্টিফিকেট দেয়ায় অগ্রণী ব্যাংক গত ৭ আগস্ট মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্টের প্রিন্সিপাল অফিসারকে অভিযুক্ত করে যে চিঠি দিয়েছে তা জানেন না দাবি করে ডিজি শিপিং কমডোর জোবায়ের আহমেদ বিষয়টি গোপন করতে চেয়েছেন।
৭. মার্চেন্ট শিপ অর্ডিনেন্স ১৯৮৩ অনুযায়ী, বাংলাদেশি পতাকাবাহী কোনো জাহাজ বিক্রি, মালিকানা হস্তান্তর বা আকৃতি পরিবর্তন করতে হলে ডিজি শিপিংয়ের লিখিত অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু মেঘনা শিপ বিল্ডার্স কোনো অনুমোদন না নিয়েই গোপনে জাহাজ বিক্রি করে দিলেও ডিজি শিপিং তাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে এই ৭টি অভিযোগ উত্থাপন করা হলেও ডিজি শিপিং কমডোর জোবায়ের আহমেদ গত ২৯ আগস্ট এ ব্যাপারে প্রতিবাদ পাঠান। যা ২ সেপ্টেম্বর দৈনিক যায়যায়দিনে হুবহু প্রকাশ করা হয়েছে। তবে কমডোর জোবায়ের আহমেদের পাঠানো প্রতিবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদের শুধু ১, ২ ও ৫ এই তিনটি পয়েন্টে উল্লেখিত অভিযোগ খ-নের চেষ্টা করেছেন। বাকি (৩, ৪, ৬ ও ৭) চারটি পয়েন্টের ব্যাপারে তিনি কোনো প্রতিবাদ করেননি।
ডিজি শিপিং তার প্রতিবাদপত্রে যায়যায়দিনে প্রকাশিত যে তিনটি পয়েন্টে অযৌক্তিক কিছু ব্যাখ্যা দিয়ে খ-নের চেষ্টা করেছেন সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করে এসব যুক্তি যে অগ্রহণযোগ্য তা প্রমাণ করেছেন। যা ডিজি শিপিংয়ের প্রতিবাদের নিচে প্রতিবেদকের বক্তব্য হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে মেঘনার ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জালিয়াতির সঙ্গে অগ্রণী ব্যাংকের যে সম্পৃক্ততা রয়েছে এ সংক্রান্ত ৫টি অভিযোগ যায়যায়দিনে প্রকাশিত হয়েছে। এগুলো হচ্ছে-
১. মেঘনা শিপ বিল্ডার্সকে ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে প্রায় ১৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মানি লন্ডারিংয়ে অগ্রণী ব্যাংক সহায়তা করেছে।
২. এ কারণে ২০১১ সালে মেঘনা শিপ বিল্ডার্স অগ্রণী ব্যাংকে এলসি খুলে ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে জাহাজ ক্রয়ের আগে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ডিউ ডিলিজেন্স করেনি।
৩. মেঘনাকে জালিয়াতিতে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে তাদের ঋণের টাকায় কেনা জাহাজটি গত এক বছর কোথায় কী অবস্থায় রয়েছে অগ্রণী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তা জানতে চায়নি। এমনকি জাহাজটির ভাড়া বাবদ অর্জিত অর্থ কোথায় জমা হচ্ছে তা-ও মেঘনা কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাওয়া হয়নি।
৪. ঋণের টাকায় কেনা জাহাজটি গোপনে বিক্রি করে দিলেও মেঘনা শিপ বিল্ডার্স এবং এ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত অগ্রণী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
৫. ২০১১ সালে মেঘনা শিপ বিল্ডার্স অগ্রণী ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে জাহাজ কিনে এক বছরের মাথায় তা গোপনে ১০ দশমিক ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে বিদেশে বিক্রি করে দেয়। অগ্রণী ব্যাংকের ঋণের টাকায় কেনা জাহাজ অর্ধেকের চেয়ে কম দাম তাদের না জানিয়ে মেঘনা কীভাবে বিক্রি করে দিল ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তা-ও জানতে চায়নি।
অগ্রণী ব্যাংকের বিরুদ্ধে এই ৫টি অভিযোগ এনে দৈনিক যায়যায়দিনে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর দীর্ঘ প্রায় ২০ দিন পেরিয়ে গেলেও এ ব্যাপারে অগ্রণী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কোনো প্রতিবাদ করেনি। এতে প্রমাণিত হয় এসব দুর্নীতি-জালিয়াতি ও অনিয়মের সঙ্গে ব্যাংকের কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মেনে নিয়েছে।
মেঘনার জালিয়াতির সঙ্গে পিওএমএমডি, ডিজি শিপিং ও অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য-প্রমাণ ভিত্তিক সংবাদ দৈনিক যায়যায়দিনে প্রকাশ হওয়ার পর সম্প্রতি তা দুর্নীতি দমন কমিশনের নজরে আসে।
দুদকের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে করা যায়যায়দিনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা এবং এ সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে চাঞ্চল্যকর এ জালিয়াতির অভিযোগটি আমলে নিয়েছে দুদক।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাল-জালিয়াতি, দুর্নীতি ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে শিগগিরই অনুসন্ধানে নামবে দুদক। এর আগে আইও (ইনভেস্টিগেশন অফিসার) নিয়োগ করা হবে। তথ্য অনুসন্ধানে অভিযোগ প্রমাণিত হলে এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট মামলা রুজু করে তদন্তে নামবে দুদক।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত সেলের একটি সূত্র জানায়, তারা ইতোমধ্যেই মেঘনার চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির বেশকিছু তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণে তারা নিশ্চিত হয়েছে, এ ঘটনার সঙ্গে অগ্রণী ব্যাংকের ক্রেডিট ডিপার্টমেন্ট ও শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা জড়িত রয়েছেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, ব্যাংক বা অর্থ লগি্নকারী কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঋণ না নিয়ে ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মতো এত বিশাল অঙ্কের নিজস্ব অর্থ দিয়ে জাহাজ কেনার কোনো নজির না থাকলেও পিওএমএমডি/ ডিজি শিপিং রেগুলেটরি বডি হিসেবে কোনো খোঁজ-খবর না নিয়েই বিশেষ উদ্দেশ্য ছাড়া 'দায়মুক্তির' সার্টিফিকেট দিয়েছে তা মানতে নারাজ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্ত সেল। তাদের ধারণা, এর নেপথ্যে বড় ধরনের লেনদেনের ঘটনা রয়েছে।
পিওএমএমডি ও ডিজি শিপিংয়ের দুর্নীতির বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তের এখতিয়ার না থাকায় এ বিষয়ে তদন্তের জন্য তারা দুর্নীতি দমন কমিশনকে অনুরোধ জানাবে বলে জানা গেছে।
এদিকে ডিজি শিপিং কমডোর জোবায়ের আহমেদের নতুন আরো কয়েকটি দুর্নীতির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যায়যায়দিন কর্তৃপক্ষের হাতে এসেছে। এসব বিষয় নিবিড়ভাবে অনুসন্ধান করে সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।
 
পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
মেঘনার পেনডোরা বঙ্ -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নদেশ অস্বাভাবিক অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে_ ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রতিবেদনের এই মন্তব্যের সঙ্গে আপনি কি একমত?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2010 The Jaijaidin