পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ
কমডোর জোবায়ের আহমেদের প্রতিবাদ ও আমাদের বক্তব্যমেঘনার ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জালিয়াতিগত ২৯ আগস্ট যায়যায়দিনে প্রকাশিত 'মেঘনার ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জালিয়াতি-কমডোর জোবায়ের আহমেদের সর্বাঙ্গে দুর্নীতির দুষ্টক্ষত' শীর্ষক প্রতিবেদনের প্রতিবাদ করেছেন সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের পরিচালক (ডিজি-শিপিং) কমডোর জোবায়ের আহমেদ। তার পাঠানো প্রতিবাদপত্রটি হুবহু তুলে দেয়া হলো।
গত ২৯/৮/২০১২ইং তারিখে দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার যায়যায়দিন রিপোর্ট হিসেবে উপরোক্ত শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি সর্বৈর মিথ্যা, ষড়যন্ত্রমূলক, অস-দুদ্দেশ্য প্রণোদিত, অনভিপ্রেত ও একটি সরকারি সংস্থা ও সংস্থা প্রধানকে কলুষিত
করার অপচেষ্টা। প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে মেঘনা গ্রুপ একটি জাহাজ ক্রয় করে যা অত্র অধিদপ্তরের অধীনস্থ মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্টে ৪/৯/২০১১ইং তারিখে 'মেঘনা প্রাইড' নামে রেজিস্ট্রেশন করে। মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশের ১৬ ধারা মোতাবেক প্রিন্সিপ্যাল অফিসার শিপ রেজিস্ট্রারার। ডাইরেক্টর জেনারেল শিপ রেজিস্ট্রার নয়। কোনো জাহাজ মর্টগেজ থাকা সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করতে ডাইরেক্টর জেনারেল আইনানুযায়ী এখতিয়ারবান কর্তৃপক্ষ নন। আমি চৎরহপরঢ়ধষ ঙভভরপবৎ, গবৎপধহঃরষব গধৎরহব উবঢ়ধৎঃসবহঃ, ঈযরঃঃধমড়হম (চঙগগউ) এর লেখা ২৮/৮/২০১২ইং তারিখের পত্রের অনুলিপির মাধ্যমে অবহিত হই যে, এই জাহাজটি অগ্রণী ব্যাংকে মর্টগেজ থাকা সংক্রান্ত কোনো তথ্য গগউ অফিসে প্রদান করেনি। জাহাজ মালিক/প্রতিনিধি বা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক যদি রেজিস্ট্রারকে তথ্য প্রদান না করে সেক্ষেত্রে কিছু করার আইনত সুযোগ থাকে না। জাহাজ নিবন্ধন, মর্টগেজ, দায়মুক্তি এসব কোনো প্রক্রিয়া বা কার্যক্রমের সঙ্গে মহাপরিচালক, সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর সরাসরি সম্পৃক্ত থাকে না। এরূপ কার্যক্রমে কোনো অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে বা কোনোক্রমে অবহিত হলে সংস্থা প্রধান হিসেবে বিষয়টি অনুসন্ধান করা হয় বা পরবর্তী কার্যক্রম নেয়া হয়। মেঘনা প্রাইড জাহাজটির মর্টগেজ সংক্রান্ত সংবাদ সম্পর্কে অবহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি সম্পর্কে তদন্তের জন্য চবক, শিপিং অফিস ও অত্র সংস্থার সমন্বয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। অত্র অধিদপ্তর তদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
২। যায়যায়দিনের দুজন সাংবাদিক আমার কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে আমি তাদের কাছে বিষয়টি পরিষ্কার করে ব্যাখ্যা করি। আমি গঠনমূলক সাংবাদিকতাকে সাধুবাদ জানাই। কিন্তু অতীব বিস্ময়ে হতবাক হই অদ্যকার (২৯/৮/২০১২) যায়যায়দিন পত্রিকার প্রতিবেদকের নিজস্ব সৃষ্টি বিভ্রান্তিকর বক্তব্যে। প্রতিবেদক নিজের মনের ইচ্ছানুসারে যথাযথ তথ্য, সংশ্লিষ্ট আইনকে উপেক্ষা করে মনগড়া বিশ্লেষণপূর্বক একজন সংস্থা প্রধানের কার্যক্রমকে কলুষিত করতে চেষ্টা করেছেন। মেঘনা শিপ বিল্ডার্সের মালিকের সঙ্গে আমার কোনো ব্যক্তিগত বা দাপ্তরিক সম্পর্ক বা কাজের সংশ্লিষ্টতাও নেই। অথচ প্রতিবেদক গোয়েন্দাগিরি করে ডিজি শিপিংয়ের গতিবিধি বিশ্লেষণ করে জানতে পেরেছেন ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, অসত্য ভাষণ মাত্র। উক্ত সাংবাদিক নিজ উদ্দেশ্য হাসিলের স্বার্থে এরূপ সংবাদ পরিবেশন করেছে। যেখানে জাহাজ নিবন্ধন, মর্টগেজ লোন, মর্টগেজ হতে দায়মুক্তি বা জাহাজ ক্রয়ের সঙ্গে ডিজি শিপিং অফিসের সরাসরি জড়িত থাকার আইনগত কোনো সুযোগ নেই। সেক্ষেত্রে সংস্থা প্রধানকে কল্পিত দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে সচেষ্ট হয়েছেন, যা অনাকাঙ্ক্ষিত এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পর্যায়ভুক্ত নয়।
৩। আমি অত্র অধিদপ্তরে যোগদান করার পর থেকে অধিদপ্তরের দক্ষতা, গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করেছি। নৌ-নিরাপত্তা, নৌপরিবেশ, মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন উন্নয়নকল্প গ্রহণ করেছি। প্রতিটি ক্ষেত্রে আইনকানুন অনুসরণপূর্বক কাজ করেছি। আমার কার্যকালীন সময়ে সমুদ্রগামী জাহাজে কর্মের সুযোগ বৃদ্ধি পেয়ে রাজস্ব বৃদ্ধিসহ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে প্রত্যক্ষ সহায়তা করেছি। অথচ এ সাংবাদিক আমাদের এ অর্জনকে মস্নান ও কলুষিত করার চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে, যা দেশের তথা মেরিটাইম সেক্টরের জন্য ক্ষতিকর।
৪। প্রকাশিত এ সংবাদের আমি তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং এই প্রতিবাদ আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রকাশের জোর দাবি জানাচ্ছি। তিন দিনের মধ্যে প্রতিবাদ প্রকাশিত না হলে পত্রিকার সম্পাদক এবং সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রতিবেদকের বক্তব্য
গত ২৯ আগস্ট দৈনিক যায়যায়দিনে প্রকাশিত 'মেঘনার ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জালিয়াতি- কমডোর জোবায়ের আহমেদের সর্বাঙ্গে দুর্নীতির দুষ্টক্ষত' শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি-শিপিং) কমডোর জোবায়ের আহমেদের দুর্নীতির ৭টি পয়েন্ট উল্লেখ করা হয়েছে।
১. মেঘনা শিপ বিল্ডার্সকে গোপনে জাহাজ বিক্রির জালিয়াতিতে সহায়তা করতে ডিজি শিপিংয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্ট অবৈধভাবে যে ঋণমুক্তির প্রত্যয়নপত্র দিয়েছে তাতে কমডোর জোবায়ের আহমেদের ইন্ধন রয়েছে।
২. মেঘনার জাহাজ বিক্রির জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ার পরও ডিজি শিপিং তা ধামাচাপা দেয়ার উদ্দেশ্যে কালক্ষেপণ করতে কাগজপত্রে দুর্নীতি খোঁজার চেষ্টা করছেন। যেখানে মেঘনা শিপ বিল্ডার্স, পিওএমএমডি ও ডিজি শিপিংয়ের গোপন যোগসাজশের অভিযোগ রয়েছে, সেখানে কাগজপত্রে দুর্নীতি খোঁজার নামে আসলে 'আইওয়াস' করার চেষ্টা চলছে।
৩. ডিজি শিপিংয়ের অধীনস্থ কমিটি দিয়ে মেঘনার জালিয়াতির ঘটনা তদন্ত করলে কোনো অনিয়ম ধরা পড়বে না। কারণ কাগজপত্রে অনিয়ম-দুর্নীতি হয়ে থাকলে তারা তা এদিক-সেদিক করার সুযোগ পাবে। শিপিং সংশ্লিষ্ট অনেকেই এ ব্যাপারে আগেই সন্দেহ পোষণ করেছিলেন। কিন্তু তারপরও কমডোর জোবায়ের আহমেদ মেঘনার জালিয়াতির ঘটনা তদন্তে স্বাধীন নিরপেক্ষ কোনো কমিটি করেননি।
৪. ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মতো এত বিশাল অঙ্কের নিজস্ব অর্থে সমুদ্রগামী জাহাজ কেনার কোনো নজির না থাকলেও পিওএমএমডি/ ডিজি শিপিং রেগুলেটরি বডি হিসেবে রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসে খোঁজ না নিয়েই নিয়মবহির্ভূতভাবে জাহাজটির কোনো প্রকার দায় নেই মর্মে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন। জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে মেঘনাকে গোপনে জাহাজ বিক্রি করার পথ সুগম করে দিতেই তা করা হয়েছে।
৫. মেঘনার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামালের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক থাকার কারণে অগ্রণী ব্যাংকের কাছে ঋণ থাকা সত্ত্বেও কমডোর জোবায়ের আহমেদের ইঙ্গিতে মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্টের প্রিন্সিপাল অফিসার (পিওএমএমডি) অবৈধভাবে গোপনে মেঘনা প্রাইড জাহাজটির দায়মুক্তির সার্টিফিকেট দিয়েছেন। এছাড়া সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের ব্যাপক দুর্নীতির সংবাদ সম্প্রতি প্রথম আলো ও কালের কণ্ঠসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে।
৬. অবৈধভাবে মেঘনা প্রাইড জাহাজটির দায়মুক্তির সার্টিফিকেট দেয়ায় অগ্রণী ব্যাংক গত ৭ আগস্ট মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্টের প্রিন্সিপাল অফিসারকে অভিযুক্ত করে যে চিঠি (পিবি/এফইএক্স/ইএক্সপি/এএডি/০১৩৮/২০১২) দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো তার কোনো উত্তর দেয়নি। বরং বিশেষ উদ্দেশ্যে ডিজি শিপিং কমডোর জোবায়ের আহমেদ তা গোপন করতে চেয়েছেন।
৭. মার্চেন্ট শিপ অর্ডিনেন্স ১৯৮৩ অনুযায়ী, বাংলাদেশি পতাকাবাহী কোনো জাহাজ বিক্রি, মালিকানা হস্তান্তর বা আকৃতি পরিবর্তন করতে হলে ডিজি শিপিংয়ের লিখিত অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু মেঘনা শিপ বিল্ডার্স কোনো অনুমোদন না নিয়েই গোপনে জাহাজ বিক্রি করে দিলেও ডিজি শিপিং তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। তার এ রহস্যজনক ভূমিকায় প্রমাণিত হয়েছে মেঘনার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামালের সঙ্গে গোপনে জাহাজ বিক্রির জালিয়াতির সঙ্গে তিনি সরাসরি জড়িত।
সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে এই ৭টি অভিযোগ উত্থাপন করা হলেও ডিজি শিপিং কমডোর জোবায়ের আহমেদ তার পাঠানো প্রতিবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদের শুধু ১, ২ ও ৫ এই তিনটি পয়েন্টে উলি্লখিত অভিযোগ খ-নের চেষ্টা করেছেন। তবে ৩, ৪, ৬ ও ৭ বাকি এই চারটি পয়েন্টের ব্যাপারে তিনি কোনো প্রতিবাদ করেননি। এতে প্রমাণিত হয় ডিজি শিপিং কমডোর জোবায়ের আহমেদ এসব অভিযোগ মেনে নিয়েছেন।
তবে যায়যায়দিনে প্রকাশিত সংবাদের ১ নাম্বার পয়েন্টে উত্থাপিত বক্তব্য যে সত্য তা মেঘনাকে দেয়া মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্টের দায়মুক্তির প্রত্যয়নপত্র বিশ্লেষণ করলেই সহজেই প্রমাণ মেলে। দেখা গেছে, দায়মুক্তির প্রত্যয়নপত্রের দ্বিতীয় প্যারার প্রথম লাইনে বলা হয়েছে, 'মেঘনা প্রাইড জাহাজটির অত্র দপ্তরে কোনো রেজিস্টার্ড মর্টগেজ নেই'। রহস্যজনকভাবে তার পরের লাইনেই বলা হয়েছে, জাহাজটি সব ধরনের রেজিস্টার্ড ঋণ থেকে মুক্ত। অথচ ওই জাহাজটির রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসে অগ্রণী ব্যাংকের মর্টগেজ রেজিস্ট্রেশন রয়েছে।
মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্ট/ডিজি শিপিং অফিসের বিশেষ কোনো অসৎ উদ্দেশ্য না থাকলে তাদের দেয়া দায়মুক্তির সার্টিফিকেটে ওই দপ্তরে কোনো রেজিস্টার্ড মর্টগেজ নেই তা লিখতে পারত। কিন্তু শুধু তা না লিখে 'জাহাজটি সব ধরনের রেজিস্টার্ড দায়মুক্ত' -এ কথা উল্লেখ করে মেঘনা প্রাইড জাহাজটি ঋণদাতা অগ্রণী ব্যাংককে না জানিয়ে গোপনে বিক্রি করে দেয়ার পথ তৈরি করে দিয়েছে। ব্যক্তিগত কোনো বিশেষ সম্পর্ক না থাকলে এ ধরনের সার্টিফিকেট কোনো রেগুলেটরি বডি দিতে পারে না। অথচ ডিজি শিপিং এ অপকর্মটি সমর্থন করেছেন।
ডিজি শিপিংয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্টের সুস্পষ্ট এই দুর্নীতি-জালিয়াতি এবং এর পক্ষে ডিজি শিপিংয়ের সমর্থন করাতেই প্রমাণ মিলে তার বিশেষ ইন্ধন ছাড়া সংশ্লিষ্ট দপ্তর ওই প্রত্যয়নপত্র দেয়নি।
যায়যায়দিনের ২ নাম্বার পয়েন্টের অভিযোগের ব্যাপারে ডিজি শিপিং কমডোর জোবায়ের আহমেদ তার প্রতিবাদপত্রে অনেকটা দায়সারা বক্তব্য দিয়েছেন। মেঘনার গোপনে জাহাজ বিক্রির জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ার পরও তিনি কেন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা না নিয়ে তদন্তের নামে কালক্ষেপণ করছেন- এ প্রসঙ্গে কোনো বক্তব্য দেননি।
যায়যায়দিনের ৫ নাম্বার পয়েন্টে উত্থাপিত অভিযোগ খ-ন করতে গিয়ে কমডোর জোবায়ের আহমেদ যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সর্বস্তরেই অগ্রহণযোগ্য। তিনি বলেছেন, মেঘনা শিপ বিল্ডার্সের সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত বা দাপ্তরিক সম্পর্ক বা কাজের সংশ্লিষ্টতা নেই। যায়যায়দিন প্রতিবেদক 'গোয়েন্দাগিরি' করে তার গতিবিধি বিশ্লেষণ করে মেঘনার মালিকের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা বলেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
ব্যক্তিগত সম্পর্ক না থাকলে কমডোর জোবায়ের আহমেদ কেন মেঘনার মালিক মোস্তফা কামালের অফিসিয়াল অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে নিয়মিত যোগ দেন সে সম্পর্কে কোনো বক্তব্য দেননি।
এছাড়াও তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন, মেঘনার জালিয়াতির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা উল্লেখ করে যায়যায়দিনে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় মোস্তফা কামাল তার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। ব্যক্তিগত সম্পর্ক না থাকলে মোস্তফা কামাল দুঃখ প্রকাশ করবেন কেন?
গঠনমূলক প্রতিবেদন তৈরি করতে হলে একজন প্রতিবেদককে স্বাভাবিকভাবেই তথ্য অনুসন্ধান করতে হয়। এ বিষয়টি 'গোয়েন্দাগিরি' উল্লেখ করে ডিজি শিপিং যেভাবে ব্যঙ্গ করেছেন, তাতে তার হীনমন্যতাই প্রকাশ পেয়েছে।
এদিকে আইনানুযায়ী ডিজি শিপিংয়ের অনুমোদন না নিয়ে মেঘনা শিপ বিল্ডার্স জাহাজ বিক্রি করে দিলেও কেন তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি- এ ব্যাপারে কমডোর জোবায়ের আহমেদ তার প্রতিবাদপত্রে কোনো বক্তব্য দেননি।
তিনি তার প্রতিবাদপত্রে নিজের নানা গুণকীর্তন করে যায়যায়দিনের প্রকাশিত সংবাদ দেশের তথা মেরিটাইম সেক্টরের জন্য ক্ষতিকর বলে যে মন্তব্য করেছেন তা অত্যন্ত হাস্যকর। ব্যক্তি জোবায়ের আহমেদের অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য-প্রমাণ ফাঁস হলে হয়তো তার পদোন্নতি বা ক্যারিয়ারের ক্ষতি হবে কিন্তু মেরিটাইম সেক্টর ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ডিজি শিপিং জোবায়ের আহমেদ যেভাবে এ ধরনের দুর্নীতিকে উৎসাহিত করছেন তাতে দেশের অর্থ ভা-ার থেকে শতশত কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাবে।
যায়যায়দিন প্রতিবেদক তার নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য এ ধরনের সংবাদ পরিবেশন করেছেন বলে জোবায়ের আহমেদ তার প্রতিবাদপত্রে যে মন্তব্য করেছেন তা অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন। বরং অগ্রণী ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের কিছু কম-বেশি মূল্যের জাহাজ ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে কেনা এবং এক বছরের মাথায় তা মাত্র ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে গোপনে বিক্রি করে দেয়ার মাধ্যমে যে বিশাল অঙ্কের অর্থ মানি লন্ডারিং হয়েছে তা জনসম্মুখে তুলে ধরতেই এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের জাহাজ ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে কেনা হলে বাকি ১৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ভাগ কতদূর পর্যন্ত যেতে পারে সে বিষয়টি তুলে ধরে এ প্রতিবেদনে ওই জালিয়াতচক্রের মদদদাতা ও হোতাদের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে।
 
পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
মেঘনার পেনডোরা বঙ্ -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নমানুষ ঘরেও নিরাপদ না হলে যাবে কোথায়_ সংসদে বিরোধীদলীয় নেত্রী রওশন এরশাদের এই প্রশ্নে আপনার সমর্থন আছে কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2010 The Jaijaidin