মতামত :
¦
¦
শেষ পেরেক অ্যাটলেটিকোরক্রীড়া ডেস্ক নগর প্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের উচ্ছ্বাসে মাতোয়ারা অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের ফুটবলাররা। শুক্রবার কোপা ডেল রের ফাইনালে রিয়ালকে ২-১ গোলে হারায় তারা -ওয়েবসাইটচলতি মৌসুমে ব্যর্থতা আর হতাশার চাদরে ঢাকা ছিল রিয়াল মাদ্রিদ। সব ধরনের শিরোপা লড়াই থেকে আগেই বিদায় নিয়েছে লস বস্ন্যানকসরা। শেষ আশা ও সান্ত্বনা হিসেবে টিকে ছিল কোপা ডেল রে শিরোপা। সেটাও অধরা হয়েই রইল হোসে মরিনহোর দলের জন্য। শুক্রবার সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে রুদ্ধশ্বাসকর ফাইনালে নগর প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ২-১ গোলে তাদের হারিয়েছে। জোড়া লালকার্ডের ম্যাচে শতাব্দীর প্রথম 'মাদ্রিদ ডার্বি' জয় করে দিয়েগো সিমনের দল পেল টুর্নামেন্টের দশম শিরোপা। আর ১৯তম শিরোপার স্বপ্ন চূর্ণ হলো রিয়ালের। তাই মৌসুম শেষে শূন্য হাতেই ঘরে ফিরতে হচ্ছে তাদের। সব মিলিয়ে চলতি মৌসুমে ভরাডুবি হলো রোনালদো-রামেসদের।
সত্যিকার অর্থে দুর্বিসহ একটা মৌসুম পার করছে রিয়াল মাদ্রিদ। যার শুরুটা হয়েছিল স্প্যানিশ লা লিগ থেকে। লিগের শুরুতেই ছন্দপতন হয়েছিল লস বস্ন্যানকসদের। লিগের প্রান্তসীমায় এসে গর্জে উঠেছিল বার্নাব্যুর দলটি। কিন্তু সেই গর্জনের তোপটা বেশি তীব্র ছিল না। যে কারণে বিশাল পয়েন্ট ব্যবধানে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার কাছে শিরোপা সমর্পণ করতে বাধ্য হয় রিয়াল। এটা অবশ্য আগে থেকেই টের পেয়েছিলেন রিয়াল কোচ হোসে মরিনহো। তাই শিরোপা ধরে রাখার দিবাস্বপ্ন থেকে পর্তুগিজ এই কোচ ফিরে আসেন বাস্তবতায়। অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মুকুটটিকে। কিন্তু ফাইনালে ওঠার আগেই মরিনহোর শিষ্যদের লা ডেসিমা স্বপ্নটা (দশম শিরোপা) চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয় জার্মান জায়ান্ট বরুশিয়া ডর্টমুন্ড। তাই অন্তত একটি শিরোপা বার্নাব্যুতে তুলেই ইংল্যান্ডে নোঙর ফেলার কথা ভাবছিলেন মরিনহো। কিন্তু সেটাও হলো না। পর্তুগিজ কোচের মৌসুমের জমাটবাঁধা যন্ত্রণাকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিল নগর প্রতিদ্বন্দ্বীরা।
রিয়ালের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে অনুষ্ঠিত ফাইনালটি রূপ নিয়েছিল নাটকীয়তায়। যে নাটকের নাট্যকার রেড হোয়াইটরা। তীব্র উত্তেজনা, রোমাঞ্চ বা আকর্ষণ কোনোটারই কমতি ছিল না তাতে। যদিও রিয়ালকে প্রথমে লিড এনে দিয়েছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। যেটি ছিল লিগে তার সপ্তম গোল। তবে বিরতিতে যাওয়ার আগেই খেলায় সমতা ফিরিয়ে সফরকারীরা জানান দেয় বাড়তি উন্মাদনার। রাদামেল ফ্যালকাওয়ের ক্রস থেকে স্বাগতিকদের জাল কাঁপান দিয়েগো কস্টা। আর এই গোলের সুবাদে টুর্নামেন্টের গোল্ডেন বুট নিশ্চিত করেন ব্রাজিলিয়ান এই স্ট্রাইকার (৮)। দ্বিতীয়ার্ধে মাদ্রিদের দুই প্রতিপক্ষের আক্রমণ প্রতিআক্রমণ সবই ছিল নিষ্ফলা। তাই খেলা গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। বার্নাব্যুর নাটকীয়তা তখন ঘনিয়ে আসছিল। ৯৮ মিনিটে দুর্দান্ত এক হেডে জয়সূচক গোলটি করেন ডিফেন্ডার মিরান্ডা। বিফলে যায়নি কোকের নেয়া কর্নার কিকটি। এর ৭ মিনিট পরই দ্বিতীয়বারের মতো হলুদকার্ড অর্থাৎ লালকার্ড দেখেন রিয়ালের মধ্যমণি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। প্রতিবাদ জানান মরিনহো। কিন্তু স্প্যানিশ রেফারি পর্তুগিজ খেলোয়াড়কে মাঠ ছাড়া করেও ক্ষান্ত হননি। পর্তুগিজ কোচকেও করেন ডাগআউট ছাড়া। রিয়ালের দুর্ভোগ তখন চরম সীমায়। এরপর অবশ্য অ্যাটলেটিকোর মিডফিল্ডার গাবিও লালকার্ড দেখে খেলোয়াড় সংখ্যায় সমতা ফেরান। কিন্তু ম্যাচে আর সমতায় ফিরতে পারেনি রিয়াল মাদ্রিদ। ফলে ঘরের মাঠে টানা ২৫ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ডের বৃত্ত থেকে ছিটকে পড়ে লস বস্ন্যানকসরা। আর ১৯৯৯ সালের পর এই প্রথম ডার্বি জিতে দায় মোচন করল অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। পাশাপাশি স্পেন ফুটবলে নিজেদের আধিপত্যটা নতুন করে বিস্তার করল সিমনের শিষ্যরা।
প্রকৃতপক্ষে এদিন ভাগ্যদেবীই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন রিয়ালের কাছ থেকে। আর তা না হলে কেনই বা ওজিল-রোনালদো-বেনজেমাদের তিনটি শটের সঙ্গে ক্রসবার বেরসিক আচরণ করবে। অথচ কস্টার করা শটটি কিন্তু বারে লাগলেও বল আশ্রয় নেয় জালে। নিজেদের অপরিচিত গোলপোস্টকে যেন আগে থেকেই অ্যাটলেটিকো এই মন্ত্রটি শিখিয়ে রেখেছিল, এমনটিই মনে হয়। রিয়ালকে শিরোপাবঞ্চিত করার মূল নায়ক থিবাউট কার্তোইসকে বললে হয়তো ভুল হবে না। লস বস্ন্যানকসদের বেশ কয়েকটি জোরালো আক্রমণ রুখে দেন রেড হোয়াইটদের গোলপোস্টের এই অতন্দ্র প্রহরী।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নবিএনপি সংসদ অধিবেশনে যোগ দিলে দেশের চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট কাটবে বলে কি মনে করেন?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2010 The Jaijaidin