মতামত :
¦
¦
ভরাট হচ্ছে কাপ্তাই হ্রদহুমকির মুখে অর্থনীতি পর্যটন শিল্পফজলুর রহমান রাজন রাঙামাটি কাপ্তাই হ্রদ খননের অভাবে নাব্য হারিয়ে আজ ভরাট হতে চলেছে। অথচ এটি খনন বা সংস্কারে কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ নেই। শিগগিরই এটি খনন করা না হলে এ অঞ্চলের মানুষের অর্থনীতি, যোগাযোগ ও পর্যটন শিল্প মুখ থুবড়ে পড়বে।
জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের ফলে কাপ্তাই হ্রদটি পার্বত্য মানুষের জন্য অভিশাপ হলেও দেশে সোনালি দিগন্তের সূচনা করেছিল। ১৯৬০ সালে কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ দিয়ে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু করা হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, মৎস্য উৎপাদন, পর্যটন, জলপথ, যাতায়াত ও বনজসম্পদ আহরণের জন্য কাপ্তাই বাঁধটি নির্মাণ করা হলেও অর্ধশত বছরে একবারো ড্রেজিং না হওয়ায় এটি এখন ভরাট হওয়ার পথে। দীর্ঘদিন ধরে কাপ্তাই লেক সংস্কারের কথা শোনা গেলেও আজ অবধি কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
পাহাড় ধ্বংস, জুমচাষ, অপরিকল্পিতভাবে পাহাড়ে চাষাবাদ, লেকের অনেকাংশে অবৈধ দখল করে ঘরবাড়ি নির্মাণ, লেকের তলদেশে পলি জমা ছাড়াও প্রতিদিন হাজার টন বর্জ্য কাপ্তাই লেকে নিক্ষিপ্ত হওয়ার ফলে তলদেশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে লেকের পানি সর্বনিম্ন স্তরে যাওয়ার কারণে কাপ্তাই হ্রদের লংগদু, কাট্টলী, কাপ্তাই, রাঙামাটি সদরসহ বিভিন্ন স্থানে চর জেগে উঠেছে। অনেক স্থানে চর জেগে ওঠার কারণে লোকজন অস্থায়ী ঘরবাড়ি নির্মাণ করেছে। কাপ্তাই হ্রদ ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে বহু প্রজাতির মাছও বিলুপ্তির পথে। মাত্র বছর ৫-৬ আগে হ্রদে বিখ্যাত রুই, কাতলা, কৈ, কালা বাউশ, সড়পুঁটি, মাগুর, পাবদা, বোয়াল, চিতল ও শোলসহ বড়-ছোট অনেক মাছ এখন পাওয়া যায় না। হ্রদে পানি না থাকায় স্বাভাবিক নৌ চলাচলে বিঘ্ন হচ্ছে। পানি কমে যাওয়ায় রাঙামাটি জেলার ১০টি উপজেলার মধ্যে অন্তত ৮টি উপজেলার লোকজন যাতায়াত করতে পারছে না। তাদের রাঙামাটি শহর বা অন্য কোথাও যেতে হলে অনেক কষ্ট করতে হয় এবং অনেক সময় লাগে। প্রতিবছর বর্ষাকালে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে হ্রদে পলিমাটি জমলেও কর্তৃপক্ষ আজ পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র সৃষ্টির ফলে বহু পাহাড়ি ও বাঙালি উদ্বাস্তু হয়েছিল। দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে এটি সোনালি দিগন্তের সূচনা করলেও পার্বত্যবাসী সুযোগ-সুবিধা পুরোপুরি পাচ্ছে না। পার্বত্য এলাকার অধিকাংশ স্থানে এখনো বিদ্যুৎ সুবিধা পেঁৗছেনি। জাতীয় গ্রিড থেকে পার্বত্য জেলা রাঙামাটির জন্য ৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আলাদা করার কথা থাকলেও সেটি করা হয়নি।
বিষয়টি রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোস্তফা কামাল জানান, কাপ্তাই হ্রদে পানি কমে গেলে যাতায়াতে সমস্যা দেখা দেয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড ৬টি পয়েন্টে ড্রেজিং করার উদ্যোগ নিয়েছে। শিগগিরই কাজ শুরু হবে।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নসংলাপে তৃতীয় পক্ষে মধ্যস্থতার দরকার নেই_ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডবিস্নউ মজিনার এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি কি একমত?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2010 The Jaijaidin