মতামত :
¦
¦
তালেবান মোকাবেলায় প্রস্তুত আফগান বাহিনীতালেবান মোকাবেলায় দেশটির পুলিশ বাহিনী এখন নিজেদের প্রস্তুত করে নিচ্ছে। সম্ভাব্য সব ধরনের নেতিবাচক পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্যই প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। বিভিন্ন উপায়ে তারা অভ্যন্তরীণ দুষ্কৃতকারীদের ঠেকাতে নিজেদের সমৃদ্ধ করছে। আর এরই মধ্যে সেনাবাহিনী তালেবান মোকাবেলায় অাঁটঘাঁট বেঁধে নামার ঘোষণাও দিয়ে রেখেছে। আর এজন্য তারাও বিভিন্নভাবে নিজেদের গুছিয়ে নিচ্ছে তালেবানসহ সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি সবাইকে উৎখাত করতে।যাযাদি ডেস্ক আফগান ভূখ-ে যুদ্ধের দামামা বাজছে গত কয়েক দশক ধরেই। আর তখন থেকেই বিদেশি সেনাবাহিনীর অস্ত্রের ঝনঝনানি দেশটিতে। নিজেদের যা সৈন্যসামন্ত তা দিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিরোধী শক্তির বিপরীতে দাঁড়ানোর মতো শক্তির অভাবের কারণেই বিভিন্ন দেশ থেকে সৈন্যসামন্ত এনে যুদ্ধ পরিচালনা করতে হয়েছে। বিরোধী পক্ষগুলোকে শায়েস্তা করতে হয়েছে। এখনো দেশটিতে ন্যাটো বাহিনী অবস্থান রয়েছে। তালেবান এবং তাদের মিত্র জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে তারা। এছাড়া তালেবানবিরোধী বিভিন্ন ধরনের অভিযানে অংশ নিচ্ছে। তবে ন্যাটো বাহিনীর আফগানিস্তানে অবস্থানের সময় ফুরিয়ে এসেছে। ফলে এখন আফগান সেনাদেরই নিতে হবে দেশটির স্বাধীনতা আর সার্বভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্ব। তাদেরই এগিয়ে যেতে হবে তালেবান নিশ্চিহ্ন করার যুদ্ধে। আর এ ধরনের ঘোষণা আসার পর থেকেই বেশ নড়েচড়ে বসেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। তারাও হুঙ্কার ছেড়েছে, আফগান ভূখ-ের জন্য হুমকি স্বরূপ কাউকেই সহ্য করবে না তারা।
কয়েক মাস ধরেই ন্যাটো বাহিনীর আফগানিস্তান ছাড়ার কথা বলা হচ্ছে। যদিও তার বাস্তব প্রমাণ এখনো দেখা যায়নি। তবে এখন তাদের প্রস্তুতি দেখে মনে হচ্ছে- খুব স্বল্প সময়ের মধ্যেই; অর্থাৎ ২০১৪ সালেই ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তান ছাড়তে যাচ্ছে। আর ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তান ছাড়লে দেশরক্ষার দায়িত্ব আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর ওপরই বর্তাচ্ছে। দেশটির পাকটিকা হেডকোয়ার্টার থেকে বিবিসির এক সংবাদকর্মীকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আফগান সেনাপ্রধান। বলা হয়েছে, ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তান ছাড়লেও সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে দেশটির সেনাবাহিনী শঙ্কিত নয়। কেননা এরই মধ্যে সম্ভাব্য সবধরনের বিপদ এবং হুমকি মোকাবেলার মতো যথেষ্ট ভালো পরিবেশ তাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বলেও জানানো হয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে। এছাড়া এরই মধ্যে বিভিন্ন হামলা এবং অপারেশনে ন্যাটো সেনার চেয়ে তিনগুণ বেশি আফগান সেনা নিহত হয়েছে। যার মধ্যে শুধু ২০১২ সালেই নিহত আফগান সেনার সংখ্যা ১ হাজার ১৭০ জন। আর দেশটির পুলিশ সদস্যের মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ৮০০ জনের বেশি। যা দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীকে মূলত নেতিবাচক কোনো কিছুর চেয়ে ইতিবাচক হতেই উৎসাহই দিচ্ছে। কেননা তারা তো আফগানিস্তানের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রাণ দিচ্ছে। আর পাকটিকা হেডকোয়ার্টারে বসে সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল মুহাম্মদ শারিফ ইয়াফতালিও ওই একই কথা বললেন।
এছাড়া দেশটির বর্তমান সেনাবাহিনী প্রধান শারিফ ইয়াফতালি তালেবানের বিরুদ্ধে বিজয়ে আশাবাদও ব্যক্ত করেন। কারণ তিনি দাবি করছেন, বিভিন্ন প্রশিক্ষণ এবং অপারেশনের মাধ্যমে আফগান সেনারা নিজেদের বেশ শানিত করেছে। আফগান সেনাদের মোকাবেলা করার শক্তি তালেবানের নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শারিফ ইয়াফতালি জানালেন তালেবানের শক্তি থাকলে তারা কখনো লুকিয়ে মেয়েদের স্কুলে বিষ মিশিয়ে দিত না, তারা সাহসীদের মতো আমাদের সেনাদের মুখোমুখি হতো।'
উল্লেখ্য, আফগানরা তালেবান সদস্যদের 'ভাই' সম্বোধন করে। কিন্তু তালেবান যদি কোনো বিষয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করে, তখন তাদের সেভাবেই মোকাবেলা করা হবে বলে তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়। আর এখন তারা যুদ্ধ-পরবর্তী আফগানিস্তানকে অবকাঠামোর দিক থেকে শক্তিশালী করার কাজে হাত দিচ্ছে বলে জানান।
তালেবান মোকাবেলায় দেশটির পুলিশ বাহিনী এখন নিজেদের প্রস্তুত করে নিচ্ছে। সম্ভাব্য সবধরনের নেতিবাচক পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্যই প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। বিভিন্ন উপায়ে তারা অভ্যন্তরীণ দুষ্কৃতকারীদের ঠেকাতে নিজেদের সমৃদ্ধ করছে। আর এরই মধ্যে সেনাবাহিনী তালেবান মোকাবেলায় অাঁটঘাঁট বেঁধে নামার ঘোষণাও দিয়ে রেখেছে। আর এজন্য তারাও বিভিন্নভাবে নিজেদের গুছিয়ে নিচ্ছে তালেবানসহ সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি সবাইকে উৎখাত করতে। তথ্যসূত্র : বিবিসি
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নঢাকায় আগামী এক মাস সব রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্ত আপনি সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2010 The Jaijaidin