মঙ্গলবার, জুন, ১৮, ২০১৩: আষাড় ০৪, ১৪২০ বঙ্গাব্দ: ৮ শাবান, ১৪৩৪ হিজরি, ০৮ বছর, সংখ্যা ১৩ |
| গুগল ওয়েব অনুসন্ধান | অনুসন্ধান |
|
|
পোলিওমুক্ত হতে পারছে না বিশ্বজ্জ পৃথিবীর বেশিরভাগ এলাকা থেকে এ রোগ বিদায় নিলেও সংঘর্ষ, ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ও অর্থের জোগানের অপর্যাপ্ততার কারণে এখনো সম্পূর্ণভাবে পোলিওমুক্ত হতে পারেনি মানুষ। তারপরও প্রশ্ন উঠেছে, বিশ্ব কি সত্যিই পোলিওমুক্ত হতে চায়? এতে কি পর্যাপ্ত রাজনৈতিক সদিচ্ছা আছে?যাযাদি ডেস্ক ![]() দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ভয়াবহতার দিক থেকে যে রোগটি গোটা পৃথিবীর মানব সভ্যতাকে হতবাক করে দিয়েছিল, তার নাম পোলিও। এ রোগের ভাইরাস অতিমাত্রায় সংক্রামক। এর কোনো প্রতিকার নেই, তবে আছে প্রতিরোধের উপায়। সময়মতো টিকা দিলে এ রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। বিশ্বে প্রথম সফল পোলিও টিকা কার্যক্রম পরিচালিত হয় আজ থেকে প্রায় ৬০ বছর আগে। পৃথিবীর বেশিরভাগ এলাকা থেকে এ রোগ বিদায় নিলেও সংঘর্ষ, ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ও অর্থের জোগানের অপর্যাপ্ততার কারণে এখনো সম্পূর্ণভাবে পোলিওমুক্ত হতে পারেনি মানুষ। উল্লেখ্য, আমেরিকান চিকিৎসাবিদ জোনাস সাক পোলিও টিকা আবিষ্কার করেন। তিনি ১৯৫৩ সালে তার নিজের, তার পরিবারের ও অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবকের দেহে এটি প্রয়োগে সাফল্য পান। এরপর ১৯৫৫ সালে এটি নিরাপদ ও কার্যকর বলে ঘোষিত হয়।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশ্ব পোলিও নির্মূল উদ্যোগের মুখপাত্র অলিভার রোসেনবাউয়ার বলেন, 'পোলিও নির্মূলে যে কোনো সময়ের চেয়ে বিশ্ব এখন সবচেয়ে এগিয়ে।' ১৯৮৮ সালে সারা পৃথিবীতে পোলিও সংক্রামিত রোগীর সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৬০ হাজার। এরপর জাতিসংঘ পোলিওর বিরুদ্ধে প্রচারণা শুরু করে এবং তাদের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ২০১২ সালে বিশ্বজুড়ে মাত্র ২২৩টি সংক্রামণের খবর পাওয়া গেছে। পোলিও অত্যন্ত সংক্রমক একটি ব্যাধি। এ রোগ থেকে পঙ্গুত্ব, পক্ষাঘাতগ্রস্ত; এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। শিশুরাই এ রোগের প্রধান শিকার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী, গত বছর মোট ছয়টি দেশে পোলিও রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নাইজেরিয়ায় ১২২টি, পাকিস্তানে ৫৮টি ও আফগানিস্তানে ৩৭ জন। তবে পোলিওতে সফল হয়েছে ভারত। রোসেনবাউয়ার জানান, গত দুই বছরে দেশটিতে কোনো পোলিও রোগীর খবর পাওয়া যায়নি। যা প্রমাণ করে পোলিও থেকে মুক্তি সম্ভব। তারপরও ভারত এ রোগের ক্ষেত্রে কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না। ফলে দেশটিতে গত তিনদিন ধরে চলছে পোলিও ভ্যাকসিন খাওয়ানোর কর্মসূচি। এদিকে বিশ্বে পোলিও নির্মূল প্রসঙ্গে আফগানিস্তানে পোলিও টিকা কার্যক্রমের সংযুক্ত এক কর্মী জানান, 'এখন প্রশ্ন হলো, বিশ্ব কি সত্যিই পোলিওমুক্ত হতে চায়? এতে কি পর্যাপ্ত রাজনৈতিক সদিচ্ছা আছে?' তিনি সতর্ক করে বলেন, পোলিও ভাইরাস অপসারিত করা সম্ভব না হলে এর সংক্রমণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়ে ১০ বছরে ২ লাখের কাছাকাছি চলে যেতে পারে। তবে এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার পথ পাহাড়সম ঝুঁকিপূর্ণ। টিকাপ্রদানকারী কর্মীদের ওপর নিয়মিত হামলা এর মধ্যে অন্যতম। নাইজার ও পাকিস্তানে কিছু টিকা কার্যক্রম নিয়ে অপব্যাখ্যা প্রচলিত আছে। তাদের মতে, এ টিকা তৈরিতে শূকরের মাংস ব্যবহার করা হয়, যা মুসলিমদের জন্য নিষিদ্ধ। অনেকে আবার বলেন, পশ্চিমা নীল-নকশার অংশ হিসেবে তারা মুসলিমদের প্রজনন ক্ষমতা ধ্বংস করতে টিকাদান কর্মসূচি চালাচ্ছে। রোববারও পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় পেশোয়ারে পোলিওবিরোধী প্রচারণা চালানো ও টিকাদানের সময় একটি মোটরসাইকেল থেকে বন্দুকধারীর গুলিতে তারা প্রাণ হারান দুই পোলিওকর্মী। পোলিও টিকা বিলি করার সময়ই তাদের গুলি করে হত্যা করা হয়। এর আগেও দেশটিতে এমন ঘটনা ঘটেছে। ফলে পাকিস্তান থেকে পোলিও নির্মূল বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে। এই অভিযোগে এপ্রিলেও পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় মারদান শহরে অজ্ঞাত পরিচয় বন্দুকধারীদের গুলিতে পোলিও টিকাদান কর্মীদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত এক পুলিশ সদস্য নিহত হন সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এভাবেই টিকাদান কার্যক্রমে নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীদের হামলা হয়েছে এবং এতে বেশ কিছু কর্মী নিহতও হন। এসব ঘটনা প্রত্যন্ত এলাকাতেই বেশি ঘটে। ডিসেম্বর থেকে পাকিস্তানে ২০ এবং নাইজারে ১০ জন স্বাস্থ্যকর্মী টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে নিহত হন। পাকিস্তানে টিকাদান কর্মসূচির সঙ্গে সিআইএর গোপন গোয়েন্দা কার্যক্রমের সম্পর্ক আছে বলে অভিযোগ করা হয়। এর আগে দেশটিতে ২০১১ সালে নিহত আল_কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেন অনুসন্ধানে সিআইএ এ রকম টিকাদান কর্মসূচির আশ্রয় নিয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়। আর তাই আল_কায়েদা, তালেবান বা অন্য কোনো জঙ্গি সংগঠন পোলিও নির্মূল কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান প্রতিবন্ধক বলে মনে করেন দাতব্য প্রতিষ্ঠান রোটারি ইন্টারন্যাশনালের পোলিওবিরোধী কার্যক্রমের প্রধান ক্যারোল পান্ডক। পরিস্থিতির উন্নয়নে এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক পোলিও কর্মীরা আঞ্চলিক ধর্মীয় নেতারা ও সরকার প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছেন। পোলিওমুক্ত বিশ্বের স্বপ্নপূরণের পথে আরেকটি বড় বাধা হলো_ অর্থনৈতিক সমস্যা। জি_৮ ভুক্ত দেশ, বিল গেটস ও মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন, রোটারি ইন্টারন্যাশনাল এবং অন্যান্য দাতব্য প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে বিশ্ব পোলিওমুক্ত অভিযানগুলো পরিচালনা করা হয়। এরা সংগঠন যদি এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতো, তবে এ কর্মসূচি আরো দ্রুত সাফল্য পেত বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। তথ্যসূত্র : এএফপি, ডন এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন |
বিদেশ -এর আরো সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সর্বাধিক মতামত
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নতত্ত্বাবধায়ক সরকার চাইলে নির্বাচনই হবে না_ প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে আপনি কি অশনিসঙ্কেত
মনে করেন?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল |