পূর্ববর্তী সংবাদ
মতামত :
¦
¦
লন্ডন 'সন্ত্রাসী হামলার' শিকারছুরিকাঘাতে ব্রিটিশ সেনা নিহত : উগ্রবাদীদের মসজিদে হামলাযাযাদি ডেস্ক লন্ডনের একটি সেনা ব্যারাকের পাশে রাস্তায় ছুরিকাঘাত করে এক সেনাসদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। বুধবারের এই ঘটনাকে 'সন্ত্রাসী' হামলা বলে অভিহিত করেছে ব্রিটিশ সরকার। পুলিশ জানিয়েছে, গুলিবিদ্ধ দুই সন্দেহভাজন হামলাকারী পুলিশি হেফাজতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। লন্ডনের মেয়র বরিস জনসন জানিয়েছেন হামলা সত্ত্বেও স্বাভাবিক জীবনযাপনে সমস্যা হবে না এবং এই হামলার জন্য কোনো ধর্মকে দোষী করা ঠিক হবে না বলেও মত প্রকাশ করেছেন। এদিকে এই হামলার ঘটনায় বৃহস্পতিবার দ্বিতীয়বারের মতো বৈঠক করেছে দেশটির জরুরি নিরাপত্তাবিষয়ক 'কোবরা' কমিটি। বৈঠক শেষে একটি বিবৃতি দেয়ার কথা রয়েছে তাদের। তথ্যসূত্র : বিবিসি, আল-জাজিরা
বৃটেনের রাজধানী লন্ডনের দক্ষিণ-পুর্ব উলউইচ এলাকায় এই হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সময় দুপুর ২.২০টায় রাস্তায় দুজন ব্যক্তি ওই ব্রিটিশ সেনাকে ম্যাশেটির মতো ধারালো ছুরি চালিয়ে হত্যা করে। তবে নিহতের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জন উইলসন স্ট্রিটে ওই সন্ত্রাসীরা ইসলামী সস্নোগান দিয়ে অতর্কিত ওই ব্যক্তির ওপর হামলা চালায় এবং কুপিয়ে হত্যা করে। হামলাকারীরা পালানোর চেষ্টা না করে লোকজনকে ছবি তোলার আহ্বান জানায়। পথচারীর ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একজন কৃষ্ণাঙ্গ সন্ত্রাসী রক্তাক্ত চাপাতি হাতে বলছেন, 'ডেভিড ক্যামেরনের কারণে ব্রিটিশ সরকার আরব দেশগুলোতে সেনা পাঠিয়েছে। আমরা প্রতিজ্ঞা করছি এ লড়াই থামাব না। কারণ মুসলিমরা প্রতিদিন মারা যাচ্ছে।' পথচারী নারীদের উদ্দেশ্যে হামলাকারীরা বলেন, 'আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি আপনাদের এসব দেখতে হচ্ছে। কিন্তু আমাদের দেশগুলোতে নারীরা একই দৃশ্য দেখছে।' হামলার নয় মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পেঁৗছে যায় এবং দুজনকেই গুলি করে। তারা এখন হাসপাতালে আছে। হামলাকারী দুজন নাইজেরিয় বংশোদ্ভুত ব্রিটিশ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে লন্ডনের এই হামলার ঘটনায় ইউরোপ সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। হত্যাকা-টিকে নিশ্চিতভাবেই সন্ত্রাসী হামলা বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য বৃহস্পতিবার দুই দফা কোবরা কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেছেন ক্যামেরন। লন্ডনে ফিরে আসার আগে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদকে ক্যামেরন বলেন, 'পুলিশ জরুরিভিত্তিতে এই ঘটনার তদন্ত করছে। কিন্তু এই ঘটনার সঙ্গে সন্ত্রাসী যোগসূত্র রয়েছে।
এদিকে এই সন্ত্রাসী হামলার পর উগ্রবর্ণবাদী 'ইংলিশ ডিফেন্স লিগ-ইডিএলের সদস্যরা উলউইচের পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে সমর্থকদের আহ্বান জানিয়েছে ইডিএল সদস্যরা। হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তি মুসলিম সস্নোগান দেয়ায় দেশটির মুসলিম কমিউনিটিতে আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। হামলার ঘটনার পর দেশটির বেশ কয়েকটি মসজিদে হামলার ঘটনা ঘটেছে। 'মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন' উলউইচ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসলাম ধর্মে সন্ত্রাসী কর্মকা-ের কোনো স্থান নেই। লন্ডনের মেয়র বরিস জনসনও একটি হামলার জন্য এককভাবে কোনো ধর্মকে দোষারোপ করার নিন্দা জানিয়েছেন।
 
পূর্ববর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নসংলাপে তৃতীয় পক্ষে মধ্যস্থতার দরকার নেই_ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডবিস্নউ মজিনার এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি কি একমত?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2010 The Jaijaidin