শুক্রবার, মে, ২৪, ২০১৩: জ্যৈষ্ঠ ১০, ১৪২০ বঙ্গাব্দ: ১৩ রজব , ১৪৩৪ হিজরি, ০৭ বছর, সংখ্যা ৩৪১ |
| গুগল ওয়েব অনুসন্ধান | অনুসন্ধান |
|
|
শেষ ভরসা সংসদযাযাদি রিপোর্ট ![]() বিভিন্ন সময়ে প্রধান দুই দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও প্রধান বিরোধী দল বিএনপির মধ্যে সংলাপের সম্ভাবনা সৃষ্টি হলেও নানা শর্তের বেড়াজালে ভেস্তে গেছে সব উদ্যোগ। আগামী ৩ জুন শুরু হওয়া নবম সংসদের শেষ বাজেট অধিবেশনে বিএনপি যোগ দিলে প্রধান দুই দলের মধ্যে সংলাপ হতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। জানা গেছে, সংসদের আসন্ন বাজেট অধিবেশনে সদস্যপদ রক্ষার জন্য অবশ্যই যোগ দিতে হবে বিএনপিকে। বিএনপির নীতি-নির্ধারনী মহল এ অধিবেশনে যোগ দেবেন বলে ইতোমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আগামী ৯ জুন বিএনপি সংসদে যোগ দিতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করছে। একই সঙ্গে সূত্রের দাবি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে ছাড়া আর কোনো বিষয়ে তেমন আপত্তি নেই বিএনপির। প্রধানমন্ত্রী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারপ্রধান না হলে বিএনপি এ ব্যাপারে সংসদে তাদের মতামত তুলে ধরবে। সেক্ষেত্রে প্রধান দুই দলের মধ্যকার রাজনৈতিক জট খুলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা আশা করছেন। জানা গেছে, এর আগে একাধিকবার দুই দলের মধ্যে সংলাপের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রী নিজেও বিরোধী দলকে দু'বার সংলাপের আমন্ত্রণ জানান। এরপর হেফাজতে ইসলামের ঢাকা অবরোধের পর সার্বিক পরিস্থিতি পাল্টে গেলেও বিরোধী দল সংলাপে বসতে রাজি হয়। সরকারের পক্ষ থেকেও বলা হয় বিরোধী দলের কাছে চিঠি পাঠানো হবে। বিরোধী দলকে চিঠি পাঠানোর জন্য সেই চিঠির একটি খসড়াও প্রস্তুত করা হয়েছিল বলে সূত্র জানিয়েছে। এরই মধ্যে জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোর বাংলাদেশ সফরের পর বিএনপি সংলাপ প্রশ্নে খানিকটা নরম হলেও পরে ক্ষমতাসীনরা আবার বেঁকে বসে। তারা মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বিরোধীদলীয় নেত্রী অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। তাই বিরোধী দলকে আর কোনো ছাড় নয়। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামও পরিষ্কার জানিয়ে দেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান কে হবেন, তা আলোচনা করতেই সংলাপ হতে পারে, তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে নয়। এ নিয়ে আলোচনার জন্য বিরোধী দলকে সংসদে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের কোনো প্রস্তাব থাকলে সংসদে এসে বলতে হবে। এদিকে, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীও সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় বলেছেন, জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে বিরোধী দলের যোগদানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তিনি। রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে যেকোনো উদ্যোগ নিতেও তিনি রাজি আছেন। তিনি বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে সরকার ও বিরোধী দল মূল ক্রিড়নক। যেকোনো আলোচনায় বিরোধী দল আহ্বান জানালে তিনি স্পিকার হিসেবে ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত। এ অবস্থায় সংসদের আগামী অধিবেশনে বিএনপির যোগদানের মাধ্যমে দুই দলের মধ্যকার সঙ্কট কাটবে বলে আশা করছেন দেশের সুশীল সমাজের নেতারা। এ প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হাফিজউদ্দিন খান যায়যায়দিনকে বলেন, তারা সব সময় আশা করেন প্রধান দুই দল ঐকমত্যে পেঁৗছে দেশের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করবে। আগামী নির্বাচন নিয়ে দেশে যে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, তা আগামী সংসদ অধিবেশনে বিএনপির যোগদানের মাধ্যমে নিরসন হবে। উভয় দল কিছুটা ছাড় দিলে অবশ্যই চলমান জটিলতা কেটে যাবে। সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সংসদ বর্জন কোনো ভালো লক্ষণ নয়। নেতারা সংসদ বর্জনের যে রীতি তৈরি করেছেন তা ভাঙতে হবে। আশার কথা, বিএনপি আগামী অধিবেশনে যোগ দেবে। বিএনপির এই যোগদানের মধ্যদিয়ে আগামী নির্বাচন ইস্যুতে প্রধান দুই দলের মধ্যে চলমান সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করেন। এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন |
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সর্বাধিক মতামত
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নসংলাপে তৃতীয় পক্ষে মধ্যস্থতার দরকার নেই_ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডবিস্নউ মজিনার এই বক্তব্যের সঙ্গে
আপনি কি একমত?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল |