বৃহস্পতিবার, মে, ২৩, ২০১৩: জ্যৈষ্ঠ ৯, ১৪২০ বঙ্গাব্দ: ১২ রজব , ১৪৩৪ হিজরি, ০৭ বছর, সংখ্যা ৩৪০ |
| গুগল ওয়েব অনুসন্ধান | অনুসন্ধান |
|
অদম্য মেধাবীতবু এগিয়ে চলাস্বদেশ ডেস্ক ![]() নানা প্রতিকূলতাকে জয় করে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মেধার স্বাক্ষর রেখেছে এরা। খেয়ে না খেয়ে স্কুলে গেছে। কখনো কখনো নিজেও কাজ করে পড়ার খরচ জুগিয়েছে। কেন না তাদের কারো বাবা দিনমজুর, ভ্যানচালক কিংবা বর্গাচাষি। সংসারে নুন আনতে পানতা ফুরানোর মতো অবস্থা। তবু হাল না ছেড়ে অদম্য ইচ্ছা আর সাহসকে পুঁজি করে তারা সাফল্যের প্রথম ধাপ পেরিয়েছে। দারিদ্র্যের কাছে মাথা নত করেনি ওরা। এখন বিত্তবানদের একটুখানি সহযোগিতাই ওদের পাথেয়। তাদের সহায়তা এদের একদিন অনেক দূর নিয়ে যাবে_ সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। এ রকম কয়েকজনকে নিয়ে খবর পাঠিয়েছেন আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা :শাহিন : ফরিদপুরের নগরকান্দা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের মিরাকান্দা গ্রামের শেখ সাহিদের ছেলে শাহিন। বাবা বাড়ি বাড়ি ফেরি করে চুরি ফিতা বিক্রি করেন। শাহিনকেও প্রায় বাবার সঙ্গে যেতে হয়। বিশেষ করে কোথাও মেলা বসলে পড়ার সময়ই পায় না সে। সারাদিন বাবার সঙ্গে থাকতে হয়। অভারের সংসার। বাবাকে সাহায্য না করলে পেটে ভাত জুটবে না। তাই বাবার সঙ্গে রাগ করারও উপায় নেই। ফলে বাধ্য হয়ে বাবার সঙ্গে কাজ করতে হয়। আর কাজের ফাঁকে ফাঁকে চলে পড়াশোনা। এভাবে পড়েই শাহিন এবার নগরকান্দা এম এন একাডেমি থেকে এসএসসি পরীক্ষায় ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে। তবু তার মনে আনন্দের চাইতে দুঃচিন্তাটাই বেশি ভর করছে। অন্যের সহযোগিতায় এসএসসি পাস করলেও পরবর্তী পড়াশোনার টাকা কীভাবে জোগাড় হবে? মাহফুজুর রহমান নগরকান্দা শফিউল আলম : কখনো একবেলা খেয়ে কখনো না খেয়ে থেকে লেখাপড়া করে জিপিএ ৫ পেয়েছে শফিউল আলম। ঈদগাঁও ইসলামাবাদ খোদাইবাড়ী এলাকার দিন মজুর ছৈয়দ আলমের ছেলে শফিউল কক্সবাজার সদর উপজেলার ঈদগাঁও আলমাছিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে। বাবা ঠেলাগাড়ি চালিয়ে যা রোজগার করেন তা দিয়ে কোনোমতে সংসার চলে। তাই কখনো ক্লাসের সব বই কেনা হয়নি। কখনো বন্ধুদের কাছ থেকে বই কখনো নোট ধার করে পড়াশোনা করতে হয়েছে। তবু হাল না ছেড়ে নিজের চেষ্টা আর অধ্যবসায় গুণে সে এত ভালো ফলাফল করেছে। কক্সবাজার সংবাদদাতা শাহিদা : রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার বসা কুষ্টিয়া গ্রামের দরিদ্র ভ্যানচালক আফসার হোসেনের মেয়ে শাহিদা খাতুন এ বছর কলিমহর খলিল উদ্দিন মিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে গোন্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। শাহিদাদের ৫ শতাংশ জমি ছাড়া আর কোনো কিছু নেই। এই জমির ওপরই ২টি টিনের ছাপড়া ঘরে পরিবারের সবাইকে নিয়ে থাকেন আফসার হোসেন। পড়াশোনা শেষ করে শিক্ষক হতে চায় শাহিদা। সে সকলের দোয়াপ্রার্থী। মাসুদ রেজা শিশির পাংশা আলমাস হোসেন : পাবনার চাটমোহরের দরিদ্র রিকশাচালক বাবার সন্তান আলমাস হোসেন। চরম দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকতে হচ্ছে তাকে। তারপরও দমে যায়নি। শত বাধা পেরিয়ে এগিয়ে চলেছে সামনে। দিনমজুরি করে পড়ালেখা করতে হয়েছে তাকে। শত অভাবের মধ্যেও এবারের এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। ভালো ফল করার পরও শুধু টাকার অভাবে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তার শিক্ষাজীবন। আলমাস ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়। কিন্তু দারিদ্রের কষাঘাতে জর্জড়িত আলমাসের সে স্বপ্ন যেন দুঃস্বপ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। চাটমোহর পৌর এলাকার বালুচর মহল্লার সহায়-সম্বলহীন দরিদ্র রিকশা চালক নজরুল ইসলাম ও আনোয়ারা খাতুনের ছেলে আলমাস। সে চাটমোহর রাজা চন্দ্র নাথ বাবু শম্ভু নাথ পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষা দিয়ে এ ফলাফল করেছে। এম এস আলম বাবলু চাটমোহর মাজহারুল ইসলাম : জয়পুরহাটের কালাই পৌরসভার অাঁওড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগ থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে মাজহারুল ইসলাম। তার বাবা মোহাম্মদ আলী ভূমিহীন। দিনমজুরি করেই সংসার চালান। মাঝে মাঝে কাজ না পাওয়ায় স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে কাটাতে হতো। পাড়া-প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ধার-দেনা করে চলতে হতো। সেই দেনা আর শোধ দিতে নাপারায় লজ্জায় নতুন করে দেনাও করতে পারেন না তারা। বাধ্য হয়ে স্থানীয় এনজিও জাকস থেকে সাপ্তাহিক কিস্তিতে ১৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ওই দেনা শোধ করে বাকি টাকায় সংসার চালাতে চেষ্টা করেন । কিন্তু কুলিয়ে উঠতে পারেন না। কিস্তি যেন দিন দিন মাথার বোঝা হয়ে ওঠে। তাই কিস্তির টাকা জোগাড় করতে ঢাকায় পারি জমায় মাজহারুলের পিতা মোহাম্মদ আলী। সেখানে তিনি ভাড়ায় রিকশা চালান। এদিকে মাজহারুলের অসহায় মা শিরিনা বিবি অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ নেন। পৌরসভার অাঁওড়া মহল্লায় বসবাস তাদের। ৩ ভাইয়ের মধ্যে মাজহারুল বড়। এক প্রতিবেশী চাচার উঠানে আশ্রিত তারা। সেখানে একটি ঝুপড়ি ঘরে বসবাস তাদের। বর্ষায় ছাউনির ফুটো দিয়ে ঘরে বৃষ্টির পানি পরে। জামা-কাপড়সহ বই-খাতা ভিজে যায়। কষ্টে ঘুম হয় না। মাজহারুলের বাবা ঢাকা শহরে ভ্যান চালিয়ে যে টাকা পাঠায় তা কিস্তি দিতেই ফুরিয়ে যায়। প্রাইমারি পাস করার পর পরই মাজহারুল গ্রামের এক গৃহস্থের বাড়িতে বাৎসরিক চুক্তিতে কাজ নেয়। মহল্লার ছেলেমেয়েরা যখন স্কুলে যায়, মাজহারুল তখন কাজ ফেলে তাদের দিকে তাকিয়ে থাকে। গৃহস্থ বিষয়টি লক্ষ্য করে গ্রামের বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করে দেন। মাজহারুল স্কুলে যাওয়ার আগে ও স্কুল থেকে ফিরে গৃহস্থের সাংসারিক কাজ করত। রাতে বাড়ি ফিরে লণ্ঠন জ্বালিয়ে পড়ত। এভাবে পড়াশোনা করেই সে এ ফল কেেরছ। আতাউর রহমান কালাই ফারুক হোসাইন : দারিদ্র্য দমিয়ে রাখতে পারেনি ফারুক হোসাইনকে। সে এবার এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। অদম্য বাসনা আর বড় হওয়ার প্রবল ইচ্ছাই তাকে এ ফলাফল করতে সাহায্য করেছে। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কাজিয়াতল গ্রামের দরিদ্র শাহজাহান মিয়ার ছেলে ফারুক হোসাইন। বাবা শাহজাহান মিয়া বৃদ্ধ ও বেকার। অন্যের বাড়িতে লজিং থেকে পাশাপাশি প্রাইভেট পড়িয়ে যা আয় হয়েছে তা দিয়ে কোনোরকমে সংসার চলে পরিবারটির। তবু নিজের চেষ্টায় ফারুক এবার কাজিয়াতল রহিম-রহমান উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। সফিকুল ইসলাম মুরাদনগর নোমান সিদ্দিকী : বিদ্যালয়ের সামনে চানাচুর বিক্রি করে নিজের পড়ালেখার খরচ জুগিয়েছে নোমান সিদ্দিকী। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় সে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার এলকেএইচ উপকূলীয় উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। প্রবল ইচ্ছাশক্তিই এখন নোমানের একমাত্র সম্বল। মেঘনাপাড়ের দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের চরকাছিয়া গ্রামের কৃষক আবদুল কাদের হাওলাদারের ছেলে নোমানকে খেয়ে না খেয়ে পড়ালেখা করতে হয়েছে। মেঘনার ভাঙনে কয়েক বছর আগে তাদের বসতঘরটিও বিলীন হয়ে যায়। পরে তারা পাশের জমিতে একটি ঘর নির্মাণ করে আশ্রয় নেয়। এছাড়া তাদের কোনো জমি নেই। মা-বাবা, চার ভাই ও তিন বোনের সংসারে অভাব নিত্যসঙ্গী। নোমান সিদ্দিকী জানায়, প্রায়ই একবেলা খেলে অন্য বেলা উপোষ থাকতে হয়েছে। কেরোসিন কেনারও বাবার সামর্থ্য ছিল না। এ জন্য দিনের আলোতেই তাকে পড়ালেখা করতে হয়েছে। এক সময় প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ধারদেনা করে কিছু টাকা নিয়ে স্কুলের সামনেই চানাচুর চকলেটের দোকান দেয় নোমান। এ দোকানের আয়েই চলে তার লেখাপড়া। কাজল কায়েস রায়পুর
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন |
স্বদেশ -এর আরো সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সর্বাধিক মতামত
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নবিএনপি সংসদে গিয়ে নির্বাচনকালীন সরকারের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাব দেবে বলে কি মনে করেন?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল |