মতামত :
¦
¦
রুহানির সামনে যত চ্যালেঞ্জযাযাদি ডেস্ক ইরানের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানিইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন মধ্যপন্থী নেতা ড. হাসান রুহানি। আহমাদিনেজাদ আমলে আমেরিকা ও সমমনাভাবাপন্ন দেশের অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ আরোপে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশটির অর্থনীতি। তবে এর বিপরীতে নির্বাচনের আগে রুহানিও শুনিয়েছিলেন আশার বাণী। সে সময় 'ধ্বংসের দ্বারপ্রান্ত থেকে ইরানকে তুলে আনার' প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। এ প্রক্রিয়ায় ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে এবং ঊর্ধ্বগতির মুদ্রাস্ফীতিকে টেনে নামিয়ে আনারও প্রতিজ্ঞা করেন রুহানি। তাই বর্তমান ইরানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং আন্তর্জাতিক সঙ্কট মোকাবেলায় রুহানির সামনে থাকবে পর্বতসম চ্যালেঞ্জ।
রুহানির সামনে অন্যতম সমস্যা হলো দেশটির রাজনৈতিক অসহনশীলতা। এরই অংশ হিসেবে দেশটির কারাগারে আটক আছে অসংখ্য রাজনৈতিক বন্দি, যেখানে ভিন্নমতাবলম্বীরা প্রায়ই গ্রেপ্তারের শিকার হন। ব্রিটেনের 'দ্য গার্ডিয়ান' পত্রিকার অনুসন্ধান অনুসারে দেশটিতে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ রাজনৈতিক কারণে কারাগারে বন্দি। এদের তালিকায় আছেন 'গ্রিন মুভমেন্ট'র নেতা মির হোসাইন মৌসাভি, তার স্ত্রী জাহরা রাহনাভারড। আছেন ইরানের সংস্কার ও গণতন্ত্রপন্থী নেতা মেহেদি কারুবিও। কোনোরকম বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি না হয়েই তারা দুই বছর ধরে গৃহবন্দি আছেন। এছাড়া অসংখ্য সাংবাদিক, বস্নগার, নারীবাদী কর্মী, খ্রিস্টান যাজক, সুনি্ন ওলামা কারাগারে বিনা বিচারে বন্দি। রুহানির বিজয়ে তাই আশার আলো দেখছেন রাজনৈতিকভাবে আটককৃতদের স্বজনরা। রুহানির সমর্থকরাও মুক্তি চান এ ধরনের বন্দিদের।
নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট রুহানির অন্যতম চ্যালেঞ্জ দেশের কট্টরপন্থীরা। সেক্ষেত্রে রুহানির সাফল্যের অনেকাংশই নির্ভর করবে দেশটির ধর্মীয় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সঙ্গে তার পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর। কারণ, কৌশলগত অনেক ক্ষেত্রেই নীতিনির্ধারণে খামেনির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। আবার ধর্মীয়ভাবে তিনি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা হওয়ায় কট্টরপন্থীরাও কখনো তার মতের বিরুদ্ধে যান না। অন্যদিকে, লক্ষ্য অর্জনে কট্টরপন্থীদের সাহায্যের প্রয়োজন রুহানির। আবার কট্টরপন্থীদেরও বহির্বিশ্বের চাপ থেকে বাঁচতে রুহানির সাহায্যের প্রয়োজন। তাই খামেনির সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রেখেই কাজ করতে হবে রুহানিকে।
ইরানে পরমাণু কর্মসূচি বিষয়ে আন্তর্জাতিক চাপের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে দেশীয় অর্থনৈতিক দৈন্যদশা। এর ধারাবাহিকতায় স্থানীয় বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং ক্রমবর্ধমান বেকার সমস্যায় জর্জরিত ইরানিরা। অর্থনৈতিক নিম্নগতির কারণে বর্তমানে সরকারি হিসাবেই দেশটির মুদ্রাস্ফীতির পরিমাণ প্রায় ৩০ ভাগ। মুদ্রাস্ফীতিতে খাদ্যের দাম বেড়েছে ৬০ ভাগ পর্যন্ত। বেকারত্বের হার প্রায় ১২ ভাগ এবং তা ক্রমবর্ধমান হারে আরো বাড়ছে। বাইরের অর্থনৈতিক বাধার সঙ্গে স্থানীয় অব্যবস্থাপনাই এই দুর্দশার অন্যতম কারণ।
উল্লেখ্য, ইরানের প্রধান আয়ের উৎস তেল রপ্তানি। আন্তর্জাতিক চাপে এ খাত থেকে আয় ৬৫ ভাগ পর্যন্ত কমে গেছে। বাইরের দেশের সঙ্গে বাণিজ্য সঙ্কটের প্রভাব পড়েছে দেশটির স্থানীয় বাণিজ্যেও। ব্যাংকের বিনিয়োগেও এর কু-প্রভাব পড়েছে। সেই সঙ্গে বিদেশি ব্যাংকে থাকা তেল বিক্রির টাকা ফেরত আনতে পারছে না ইরান। তাই অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক সুসম্পর্ক তৈরির সঙ্গে সঙ্গে অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার দিকেও নজর দিতে হবে রুহানিকে।
এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লক্ষণীয় দিক হলো ইরানের নতুন নেতৃত্ব পরমাণু বিষয়টি নিয়ে বিশ্বশক্তির সঙ্গে আলোচনার পক্ষে। তবে রুহানি সোমবার বিজয়-পরবর্তী প্রথম সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, তার সরকার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করবে না। তিনি জানান, পরমাণু কর্মসূচিকে ব্যবহার করে পাশ্চাত্য তেহরানের ওপর যে অন্যায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, ইরানের জনগণের তা পাওনা ছিল না। রুহানি বলেন, তার দেশের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক। এই কর্মসূচি যে আন্তর্জাতিক আইন মেনে পরিচালিত হচ্ছে, তা প্রমাণ করার জন্য তার সরকার একে আরো স্বচ্ছ করার চেষ্টা করবে। রুহানি দাবি করেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি অব্যাহত রাখার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বকে আশ্বস্ত করা সম্ভব। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের ক্ষেত্রে এটা করা সত্যিই খুব কঠিন হবে। যদিও রুহানির বিজয়ের পরই আমেরিকার পক্ষ থেকে ইরানের প্রতি পরমাণু বিষয়ে আলোচনার আহ্বান সঙ্কট নিরসনে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এখন প্রশ্ন হলো- হাসান রুহানি কি সমর্থ হবেন ইরানের স্বার্থ ঠিক রেখে এসব চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করতে? তথ্যসূত্র : বিবিসি অনলাইন
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নগ্রামীণ ব্যাংক ভেঙে ১৯ টুকরা করার সরকারি সুপারিশ আদৌ গ্রহণযোগ্য ও বাস্তবসম্মত বলে মনে করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2010 The Jaijaidin