পূর্ববর্তী সংবাদ
মতামত :
¦
¦
টর্নেডোর তা-বে তছনছ ওকলাহোমা২০ শিশুসহ নিহত ৯১ : জরুরি অবস্থা ঘোষণা প্রেসিডেন্ট ওবামারযাযাদি ডেস্ক আমেরিকার ওকলাহোমা শহরো উপকণ্ঠে সোমবার শক্তিশালী টর্নেডোর আঘাতে কমপক্ষে ৯১ জন প্রাণ হারিয়েছে। এদের মধ্যে ২০টি শিশু রয়েছে। এছাড়া প্রচ- ঝড়ে দুটি স্কুলসহ বহু ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে আহত হয়েছে অসংখ্য মানুষ। সোমবার বিকালে তিন কিলোমিটার বিস্তৃত এ টর্নেডো ঘণ্টায় ৩২১ কিলোমিটার বেগে ওকলাহোমায় আঘাত হানলে নিমিষেই সব তছনছ হয়ে যায়। টর্নেডোয় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে শহরের দক্ষিণ এলাকা মুর। ঝড়ে আহত হয়ে প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা নেয়া ১২০ জনের মধ্যে ৭০ জনই শিশু। সিএনএন-এর খবরে বলা হয়েছে, টর্নেডোর আঘাতে আহত কমপক্ষে ১৪৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুরো এলাকার ধ্বংসযজ্ঞ দেখে দেখে প্রশাসনের ধারণা_ মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। কারণ ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকে মাঝে মধ্যেই ভেসে আসছে করুণ আর্তনাদ। এরই মধ্যেই ওকলাহোমায় জরুরি অবস্থা জারি করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। কথা বলেছেন ওকলাহোমার গভর্নরের সঙ্গেও। তথ্যসূত্র : বিবিসি, এএফপি অনলাইন, রয়টার্স, সিবিএস
স্থানীয় সময় সোমবার বিকাল ৩টায় টর্নেডোটি শহরে আঘাত হানার ১৬ মিনিট আগে আমেরিকার জাতীয় আবহাওয়া বিভাগ থেকে একটি সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছিল। ২টা ৫৬ মিনিটে টর্নেডোটি আঘাত হানার মাত্র পাঁচ মিনিট আগে আরেকটি জরুরি সতর্কবার্তা জারি করা হয়।
কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রচ- ঝড়ে মুরের প্লাজা টাওয়ার ধসে পড়লে ভবনটিতে থাকা একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০ জন শিক্ষার্থী প্রাণ হারায়। উদ্ধারকর্মীরা সেখানে তাদের উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়, টর্নেডোটি আঘাত হানার সময় ওই ভবনে ৭৫টি শিশু অবস্থান করছিল।
প্রায় ৫৫ হাজার মানুষের শহর মুরে ভয়ঙ্কর এ টর্নেডো প্রায় ৪৫ মিনিট স্থায়ী হয়। এতে সেখানকার বহু ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়। টর্নেডোর আঘাতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এর ফলে প্রায় ৩২ হাজার মানুষ বিদ্যুৎহীন রয়েছে। এছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঝড়ের পরপরই ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই উদ্ধার অভিযান শুরু করেন উদ্ধারকর্মীরা। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় অন্ধকারে ডুবে আছে প্রায় পুরো এলাকা। কর্মকর্তারা বলছেন, এর মধ্যেও সারা রাত উদ্ধার অভিযান চলবে।
আমেরিকায় ক্যাটাগরি পাঁচ হিসেবে চিহ্নিত হ্যারিকেন বা সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ে বাতাসের গতি যা থাকে, তার চেয়ে এটি আরো অনেক মারাত্মক ছিল বলে আমেরিকান আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে। হেলিকপ্টার থেকে নেয়া টেলিভিশন ফুটেজে দেখা গেছে, কালো এবং মারাত্মক একটি বায়ুস্তম্ভ ঘন বসতিপূর্ণ এলাকার ওপর দিয়ে ধ্বংসলীলা চালিয়ে যাচ্ছে। উড়ে যাচ্ছে বহু প্রাইভেটকার। একটি বাড়িতে এ সময় আগুন জ্বলতেও দেখা গেছে। টেলিভিশন চ্যানেল কেফোর এক রিপোর্টার টর্নেডোর ভয়াবহতা প্রসঙ্গে বলেন, 'আমার ১৮ বছরের টর্নেডো কাভারেজের মধ্যে এটি সবচেয়ে লোমহর্ষক।'
১৯৯৯ সালের মে মাসে মুর এলাকায় টর্নেডো আঘাতের ৪৪ জন নিহত এবং হাজার হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছিল। এবারের টর্নেডোও মোটামুটি সে এলাকা দিয়েই গেছে। ওকলাহোমার আবহাওয়াবিদ রিক স্মিথ বলেন, 'আবহাওয়া নিয়ে আমার ২০ বছরের কাজের মধ্যে এটি সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী ছিল।' গত রোববারও ওকলাহোমার শওনি এলাকায় টর্নেডোর আঘাতে অন্তত দুই জনের মৃত্যু হয়। ভয়াবহ টর্নেডোটি ওকলাহোমার দক্ষিণের আরো কয়েটি রাজ্যে আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, দুই বছর আগে মিসৌরি রাজ্যের জপলিনে আরেকটি টর্নেডোর আঘাতে ১৬১ জন নিহত হয়েছিল। ওই ঘটনার পর আমেরিকায় এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী টর্নেডো।
ওকলাহোমার গভর্নর মেরি ফলিন বলেন, 'আজ আমাদের শোকের দিন। বাবা-মায়েরা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে তাদের সন্তানকে খুঁজছেন। আমাদের হৃদয় ভেঙে গেছে।' এদিকে হোয়াইট হাউসের বরাত দিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম জানায়, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এ দুর্যোগময় সময়ে ওকলাহোমা সরকারের পাশে থাকার কথা বলেছেন। তিনি ওকলাহোমাকে ব্যাপক দুর্যোগ-কবলিত এলাকা ঘোষণা করেছেনে। ওবামা স্থানীয় উদ্ধার প্রচেষ্টায় কেন্দ্রীয়ভাবে সহযোগিতার ঘোষণা দেন। ফেডরাল ইমারজেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি (ফেমা) এতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে বলে জানায়। ফেমা এরই মধ্যে ওকলাহোমায় জরুরিভাবে বিশেষ দল পাঠিয়েছে। ওবামা প্রশাসনের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি টিম সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
 
পূর্ববর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নবিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুম নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অগ্রহণযোগ্য_ মানবাধিকার নেত্রী সুলতানা কামালের এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি কি একমত?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2010 The Jaijaidin