রোববার, মে, ২৬, ২০১৩: জ্যৈষ্ঠ ১২, ১৪২০ বঙ্গাব্দ: ১৫ রজব , ১৪৩৪ হিজরি, ০৭ বছর, সংখ্যা ৩৪৩ |
| গুগল ওয়েব অনুসন্ধান | অনুসন্ধান |
|
|
জিএসপি বাতিলের
হুমকি অন্যায়
দাবি মুহিতেরযাযাদি রিপোর্ট ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা বাতিলের হুমকিকে 'অন্যায়' বলেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।গত ৩০ বছরে দেশের পোশাক শিল্পের শক্ত অবস্থান ও ক্রমাগত মান উন্নয়ন হয়েছে বলে দাবি করে জিএসপি সুবিধা বাতিলের হুমকির সমালোচনা করেন তিনি। সাভারে সামপ্রতিক ভবনধস ও এর আগে তাজরীন ফ্যাশনসে অগি্নকা-ের ঘটনায় শ্রম অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা প্রত্যাহারের হুমকি দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্ল্যানারি অধিবেশনে গৃহীত এক প্রস্তাবে বলা হয়, বাংলাদেশ ইউরোপের বাজারে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা থেকে লাভবান হচ্ছে। কিন্তু শ্রম অধিকারের গুরুতর ও পদ্ধতিগত লঙ্ঘন চলতে থাকলে এই সুবিধা প্রত্যাহার করা হতে পারে। এদিকে মেয়াদ শেষ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের জিএসপি সুবিধা অব্যাহত রাখা নিয়ে দেশটির কংগ্রেসে শুনানি চলছে। এর মধ্যে গত নভেম্বর একটি কারখানায় আগুনে ও এপ্রিলে সাভারের ভবন ধসে প্রায় ১৩০০ শ্রমিকের প্রাণহানি হওয়ায় কর্মস্থলের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশের মান নিয়ে আপত্তি তুলে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিক সংগঠনগুলো জিএসপি সুবিধা অব্যাহত না রাখতে কংগ্রেসকে চাপ দিচ্ছে। শনিবার সচিবালয়ে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশের (আইবিএফবি) প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে মুহিত এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। ভাড়া বাড়িতে যাত্রা শুরু করা দেশের পোশাক খাত এখন পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারকে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, '৩০ বছরে কয়টা আগুন হয়েছে, কয়টা অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে? এর আগে ভবনধস হয়েছিল তেজগাঁওয়ে।' কিন্তু সমপ্রতি দুটো ঘটনা পাশাপাশি সময়ে ঘটায় বেশি আলোচনা হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, 'গত ৩০ বছরের এটা ইন্টিগ্রেটেড ইন্ডাস্ট্রি হিসাবে ডেভেলপ করেছে। স্টান্ডার্ড মেইনটেইন করা হচ্ছে।' সাভারের ভবন ধসের আগেই পোশাকশিল্পের বিষয়ে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, 'ভবন ধসের পরে আরেকটি কমিটি করা হয়েছে, যারা পোশাক শিল্পের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রতিবেদন দেবে। 'নিরাপত্তার বিষয়ে সবকিছুই করছি আমরা। তারপরও জিএসপি বাতিলের হুমকি, এটা অন্যায়।' এ সময় শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বৈষম্যেরও সমালোচনা করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'আমরা ২৪ শতাংশ শুল্ক দিয়ে প্রবেশ করছি, যেখানে ফ্রান্স দিচ্ছে ৫ শতাংশ। এই বৈষম্য সর্বোতভাবে অযৌক্তিক, অবিচার ও অন্যায্য।' জেনারেলাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্সেস (জিএসপি) সুবিধার আওতায় বাংলাদেশের কয়েকটি পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্তভাবে প্রবেশ করে। তবে এসব পণ্যের মধ্যে দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক নেই। জিএসসি সুবিধা অব্যাহত রাখার শুনানির প্রতি ইঙ্গিত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, 'তাদের যুক্তি, বাংলাদেশকে সুবিধা দিলে অন্য এলডিসিরা (স্বল্পোন্নত দেশ) মরে যাবে। কিন্তু বাংলাদেশ যতই ভালো করুক না কেন এটিও একটি এলডিসি।' গত ২৪ এপ্রিল সাভারে ভবনধসে হতাহতের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের জিএসপি-ভাগ্য সংশয়ের মুখে পড়ে। ঘটনার পরদিন বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা বলেছিলেন, এ ঘটনা জিএসপির ভাগ্যনির্ধারণীতে প্রভাব ফেলবে। একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি পণ্য রপ্তানি করে যুক্তরাষ্ট্রে। তবে রপ্তানির প্রধান পণ্য তৈরি পোশাক যুক্তরাষ্ট্রে জিএসপি বা শুল্কমুক্ত প্রবেশ সুবিধা পায় না। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর হিসাবে, ২০১১-১২ অর্থবছরের বাংলাদেশ মোট রপ্তানি করেছে ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের বেশি পণ্য। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হয়েছে মোট রপ্তানির ২১ শতাংশ (৫০০ কোটি ডলার)।এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে জিএসপির আওতায় ২ কোটি ৬৩ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছিল বাংলাদেশ। এ সুবিধায় রপ্তানি হয়েছিল তামাকজাত পণ্য, খেলাধুলা সামগ্রী, কিচেন সামগ্রী ও প্লাস্টিক পণ্য। এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন |
শেষের পাতা -এর আরো সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সর্বাধিক মতামত
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্ননারীরাই বাংলাদেশের সমাজকে বদলে দিয়েছে_ নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এই বক্তব্য আপনি
সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল |