বুধবার, মে, ২২, ২০১৩: জ্যৈষ্ঠ ৮, ১৪২০ বঙ্গাব্দ: ১১ রজব , ১৪৩৪ হিজরি, ০৭ বছর, সংখ্যা ৩৩৯ |
| গুগল ওয়েব অনুসন্ধান | অনুসন্ধান |
|
চিড়িয়াখানায় সঙ্গী হারিয়ে
বিমর্ষ স্ত্রী গ-ারযাযাদি রিপোর্ট ![]() ঢাকা চিড়িয়াখানায় একাকী সময় পার করছে স্ত্রী গ-ার _যাযাদিরাজধানীর মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় দুই বছরে মারা গেছে ৬৫টি প্রাণী। সর্বশেষ মারা গেছে ৫৮ লাখ টাকা দামের পুরুষ গ-ারটি। সঙ্গিনীর মৃত্যুর পর চার দিন খাওয়া-দাওয়া, হাঁটা-চলা বন্ধ করে দেয় চিড়িয়াখানায় একমাত্র বন্দি স্ত্রী গ-ারটি। সারাদিন খাঁচার এক কোণে বসে ঝিমাচ্ছে এটি। সোমবার সে কিছুটা স্বাভাবিক হলেও এখনো বিমর্ষতা কাটেনি এর।সূত্র মতে, গত বছরের এপ্রিলে সুদূর দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে উড়িয়ে আনা হয় ৪০ প্রজাতির প্রায় ২০০টি প্রাণী। যার মধ্যে ৭ বছর এবং ৫ বছর বয়সের এক জোড়া গ-ারও ছিল। বুধবার ভোররাতে পুরুষ গ-ারটি মারা যায়। মাত্র ১৩ মাসের মাথায় ভেঙে গেল এদের সংসার। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, খাঁচার ভেতরে মারামারি করার কারণেই মারা গেছে পুরুষ গ-ারটি। এর মধ্যে ১৯ দিনে বিভিন্ন প্রজাতির দামি ৫টি প্রাণী মারা যাওয়ারও রেকর্ড রয়েছে। পরিশেষে দুই বছরে মিরপুর চিড়িয়াখানায় প্রাণীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ৬৫টি। প্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ-ারটি জরায়ুর গুরুতর রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা বলেন, গ-ারের ক্ষেত্রে রোগের ধারণা পাওয়া গেলেও প্রতিটি ক্ষেত্রেই রোগ নির্ণয় না করেই শুধু উপসর্গ দেখেই চিকিৎসা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু চিড়িয়াখানার চিকিৎসকরা এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রোগ নির্ণয়ের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে তাদের। জানা গেছে, চিড়িয়াখানার প্রাণীগুলোর তাপমাত্রা মাপার জন্য একটি লেজার থার্মোমিটার পর্যন্ত নেই। চিড়িয়াখানার কর্মকর্তারাই বলছেন, যদি আল্ট্রাসনোগ্রাম করা যেত তাহলে জিরাফটির রোগ নির্ণয় করা যেত। খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়েছিল বলে তাকে ভিটামিন ও রুচিবর্ধক ওষুধ দেয়া হয়েছিল। সূত্র মতে, চিড়িয়াখানার বর্তমান অবস্থায় এক বছর আগে বিদেশ থেকে আনা এই প্রাণীগুলোও ভালো নেই। অরিক্সের একটি শিং ভেঙে গেছে। সাদা অ্যালবিনো সিংহ প্রায়ই অসুস্থ থাকে। গ্রেটার কুদুসহ অন্য প্রাণীদের শারীরিক অবস্থা বেশ নাজুক। এর আগে চিড়িয়াখানায় আনার কয়েক দিনের মধ্যেই মারা যায় একটি অরিক্স এবং একটি গ্রেটার কুদু। এসব ঘটনার পর চিড়িয়াখানার ব্যবস্থাপনা এবং প্রাণীদের সঠিক পরিচর্যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ব্যাপারে প্রাণী বিশেষজ্ঞ আলী রেজা খান জানান, ঢাকা চিড়িয়াখানার ১৭শ' প্রাণীর চিকিৎসার জন্য ২০১১ সালে কেনা প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার যন্ত্রাংশ অব্যবহূত পড়ে আছে। রোগ নির্ণয় আর বাসস্থানের অব্যবস্থাপনায় গত দুবছরে মারা গেছে ৬৫ প্রাণী। গরাদে বন্দি চিড়িয়াখানার এসব প্রাণীর জীবন কাটছে মানুষের বিনোদনের খোরাক হয়ে। বিনিময়ে ভাগ্যে জুটেছে শুধু উদাসীনতা আর অবহেলা। গতকাল সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, নিজ খাঁচার এক কর্নারে দাঁড়িয়ে আছে গ-ারটি। তার কিছুক্ষণ আগে চিকিৎসকদের একটি দল তার গতিবিধি পরীক্ষা করে যান। মিরপুর চিড়িয়াখানার ভারপ্রাপ্ত কিউরেটর ডা. মাকসুদল হাসান হাওলাদার জানিয়েছেন, গ-ারটি এখনো ছয় সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধায়নে রয়েছে। সকালে (গতকাল) সে কিছু খাবার খেয়েছে। গতিবিধিও আগের থেকে ভালো মনে হচ্ছে। মাথায় রক্তক্ষরণের পর বুধবার ভোররাতে সাত বছর বয়সী পুরুষ গ-ারটি মারা যায়। এরপর থেকেই অসুস্থ পাঁচ বছর বয়সী অপর গ-ারটি। অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণে গ-ার মারা গেছে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মৃত গ-ারটির মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, দেয়ালে আঘাত পেয়ে অথবা সঙ্গী গ-ারের সঙ্গে মারামারিতে পুরুষ গ-ারটি আহত হয়ে পরে মারা যায়। গ-ারের শেডে আগুনের শেক ও ভ্যাকসিন দেয়া এবং অন্য প্রাণীদের ভ্যাকসিন দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে কিউরেটর দাবি করেন, প্রাণীকে সুস্থ এবং এর আবাসস্থল স্বাস্থ্যসম্মত রাখার জন্য এ ধরনের ব্যবস্থাপনা চিড়িয়াখানার দৈনন্দিন কাজের অংশ। সূত্র মতে, এর আগে ঢাকা চিড়িয়াখানায় বিভিন্ন সময় পরপর অনেক প্রজাতির প্রাণীর মৃত্যু হয়। হঠাৎ করেই কেন এমনভাবে বন্য প্রাণীগুলোর মৃত্যু ঘটছে সে বিষয় কর্মকর্তারা কোনো সদুত্তর দিতে না পারলেও বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, যথাযথ চিকিৎসার অভাবেই একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। ( লেখাটি পড়া হয়েছে ১৫০ বার )
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন |
শেষের পাতা -এর আরো সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সর্বাধিক মতামত
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নবিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুম নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অগ্রহণযোগ্য_ মানবাধিকার নেত্রী সুলতানা কামালের এই বক্তব্যের সঙ্গে
আপনি কি একমত?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল |