পূর্ববর্তী সংবাদ
মতামত :
¦
¦
তিস্তা সড়ক সেতু দুই মাস অন্ধকারেট্রান্সফরমার চুরিকাউনিয়া (রংপুর) সংবাদদাতা তিস্তা সড়ক সেতু -যাযাদিরংপুরের কাউনিয়ায় তিস্তা সড়ক সেতুর সোডিয়াম লাইটগুলো দু'মাস ধরে জ্বলছে না। ফলে রাতে সেতুর ওপর ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে এবং বিদ্যুতের মূল্যবান তারসহ সরঞ্জাম খোয়া যাচ্ছে। ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ার কারণে সোডিয়াম লাইটগুলো জ্বলছে না।
লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের সঙ্গে রংপুরসহ দেশের অন্য জেলাগুলোর যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ২০১২ সালে কাউনিয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী তিস্তা নদীর ওপর সড়ক সেতু নির্মাণ করা হয়। ১২২ কোটি ৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ৭৫০ মিটার দীর্ঘ ও ১২ দশমিক ১ মিটার প্রস্থের তিস্তা সড়ক সেতুর নির্মাণকাজ ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে শেষ হয়। ২০ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী ফলক উন্মোচন করে সেতুটি যান চলাচলের জন্য উদ্বোধন করেন। সওজ বিভাগ রাতে তিস্তা সড়ক সেতু আলোকিত রাখতে ৩১টি সোডিয়াম বাতি স্থাপন করে। কিন্তু উদ্বোধনের কিছুদিন পর ১৫ কেভিএ ৩টি ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ায় দু'মাস ধরে বাতিগুলো জ্বলছে না। ফলে রাতে সেতুর ওপর ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় বিদ্যুতের তারসহ অন্যান্য সরমঞ্জাম খোয়া যাচ্ছে। এ যেন দেখার কেউ নেই। সেতুতে টোল আদায়ের জন্য সাড়ে ৫ কোটি টাকায় ইজারা দেয়া হলেও সওজ বিভাগ বাতিগুলোর ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ বা উদ্যোগ নিচ্ছে না।
টোলপ্লাজার ম্যানেজার প্রসেদ বর্মণ জানান, রাতে সেতুটি অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকায় প্রায়ই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি সেতু ইজারাদার কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। টোলপ্লাজার ক্যাশিয়ার ভবেশ জানান, আগে রেলসেতুর দু'প্রান্তে লালমনিরহাট ও কাউনিয়া থানা পুলিশের অস্থায়ী ফাঁড়ি থাকলেও তিস্তা সড়ক সেতুতে ফাঁড়ি বা পুলিশের টহল নেই।
তিস্তা সড়ক সেতু ইজারাদার আব্দুল হাকিম জানান, ২৫ এপ্রিল সেতুর টোল আদায়ের জন্য বুঝে নেয়ার ৫-৭ দিন আগে ট্রান্সফরমার চুরি হয়। সেতু কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে ট্রান্সফরমার স্থাপন না করায় সেতুর সোডিয়াম বাতিগুলো অকার্যকর হয়ে পড়ে। এ ব্যাপারে ব্যবস্থাগ্রহণের জন্য সড়ক ও জনপদ বিভাগকে অনেক বার জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। ফলে রাতে সেতুর ওপর দিয়ে যানবাহনসহ সাধারণ যাত্রীরা নিরাপত্তাহীনতায় চলাচল করছে। লালমনিরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ মিয়া জানান, তিস্তা সড়ক সেতুটি এখনও সেতু-৩ প্রকল্প'র আওতায় রয়েছে। হস্তান্তর না করা পর্যন্ত সেতুর দেখভালের দায়িত্ব প্রজেক্ট কর্তৃপক্ষের।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের সেতু-৩ প্রকল্পের পিএম সাদেকুল ইসলাম জানান, ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ার কারণে বাতিগুলো বন্ধ রয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে ট্রান্সফরমার প্রতিস্থাপনের জন্য কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লীবিদ্যুৎ সমিতিকে চিঠি দেয়া হয়েছে এবং টোলপ্লাজার পাশে স্থাপন করা যায় কিনা সে ব্যাপারেও সমিতিকে বলা হয়েছে। ট্রান্সফরমার তিনটি জনশূন্য এলাকায় হওয়ায় চুরি হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। তবে কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির লালমনিরহাট জোনাল অফিসের ডিজিএম আব্দুল করিম জানান, সমিতির নিয়ম অনুযায়ী জিপি গ্রাহকদের নতুন সংযোগ নিতে গেলে ট্রান্সফরমার কিনে দিতে হয় এবং ট্রান্সফরমার হারিয়ে গেলেও নতুন ট্রান্সফরমার কিনে দিতে হবে। ৫ কেভিএ তিনটি ট্রান্সফরমার দাম প্রায় একলাখ টাকা। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেতু প্রকল্প ট্রান্সফরমার ক্রয় করেনি। ফলে তিস্তা সড়ক সেতুতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
 
পূর্ববর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্ননির্বাচন হবে না বলাটাই রাষ্ট্রদ্রোহিতা_ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি কী একমত?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2010 The Jaijaidin