রোববার, মে, ২৬, ২০১৩: জ্যৈষ্ঠ ১২, ১৪২০ বঙ্গাব্দ: ১৫ রজব , ১৪৩৪ হিজরি, ০৭ বছর, সংখ্যা ৩৪৩ |
| গুগল ওয়েব অনুসন্ধান | অনুসন্ধান |
|
|
চোরাই গাড়ির ব্যবসা
থেকে অস্ত্র ব্যবসায়ীযাযাদি রিপোর্ট ![]() ফখরুল ইসলাম অপুপ্রথম জীবনে চোরাই গাড়ির ব্যবসা। এরপর অস্ত্র ব্যবসা। অস্ত্র ব্যবসার সুবাদে সম্পর্ক তৈরি হয় একাধিক শীর্ষ সন্ত্রাসীর কয়েকজন সহযোগীর সঙ্গে। তাদের মাধ্যমে অস্ত্র কেনাবেচা করে রাতারাতি কোটিপতি বনে যান তিনি। তিনি আর কেউ নন; তিনি হলেন রাজধানীর অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার গ্যাং-লিডার ফকরুল ইসলাম অপু। কুমিল্লা থেকে ঢাকায় এসে অস্ত্র ব্যবসার পাশাপাশি মাদক ব্যবসারও বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন তিনি। অস্ত্র ও মাদক ব্যবসার সুবিধার জন্য নিজেকে বাতেন নামে একজন এসপির আত্মীয় বলেও পরিচয় দিতেন তিনি। যদিও এ নামে কোনো পুলিশ কমকর্তার অস্তিত্ব খুঁজে পায়নি গোয়েন্দারা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ এড়িয়ে অস্ত্র ও মাদক ব্যবসা করে তিনি ঢাকায় তিনটি ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছেন অল্প সময়ের ব্যবধানে। ব্যবহার করেন ১০ লাখ টাকা মূল্যের এক্স-করল্লা মডেলের একটি গাড়ি। এছাড়া সখ্যতা গড়ে তুলেছেন একাধিক রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গেও।গত বৃহস্পতিবার অস্ত্র, গুলি এবং ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হওয়া ৭ জনের মধ্যে মূল লিডার অপুর কাছ থেকে এরকম বেশকিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দারা। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা পৃথক তিনটি মামলায় তিন দিনের রিমান্ডের প্রথম দিন ছিল গতকাল। রিমান্ডের প্রথম দিনেই অপুর কাছ থেকে পাওয়া এসব তথ্য গোয়েন্দারা যাচাই-বাচাই করতে শুরু করেছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ইন্সপেক্টর রহমত উল্লাহ জানান, গত বৃহস্পতিবার মিরপুর ও মোহাম্মদপুর থেকে অস্ত্র, গুলি এবং ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় পৃথক চারটি মামলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট থানায়। এরমধ্যে অস্ত্র আইনে তিনটি এবং মাদক আইনে একটি মামলা হয়েছে। চারটি মামলায় আদালতে হাজির করে অস্ত্র মামলায় তিন দিন এবং ইয়াবার মামলায় দুদিনসহ মোট ৫ দিনের রিমান্ডে আনা হয়েছে গ্রেপ্তারকৃতদের। রিমান্ডের প্রথম দিনে মূল লিডার অপু বেশকিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। অপুর বরাত দিয়ে ইন্সপেক্টর রহমত উল্লাহ জানান, অপুর বাবার নাম আতিকুল ইসলাম। তিনি কুমিল্লার জেলা জজ আদালতের সাবেক এপিপি ছিলেন। অপু ভারতের কলকাতার একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করেছেন। পড়ালেখা শেষ করে ঢাকায় এসে তিনি প্রথম জীবনে সীমন্ত থেকে চোরাই মোটরসাইকেল এনে বিক্রি করতেন। এছাড়া রাজধানীতে বিভিন্ন সময় ছিনতাই এবং চুরি হওয়া প্রাইভেটকার এবং মোটরসাইকেল কিনে তা বিক্রি করতেন। চোরাই গাড়ির ব্যবসা করতে গিয়ে তার সঙ্গে পরিচয় হয় শীর্ষ সন্ত্রাসী বিকাশের অন্যতম সহযোগী সুমনের সঙ্গে। মূলত সুমনই তাকে অস্ত্র ব্যবসার কলাকৌশল শিখিয়েছে। সুমনের মাধ্যমে পরিচয় হয় মাসুদের সঙ্গে। মাসুদ সীমান্ত থেকে অস্ত্র এনে দিত অপুকে। মাসুদ ছাড়াও পুরান ঢাকার একটি গ্রুপের কাছ থেক ব্রাজিল, চায়না, স্পেন, ইতালি এবং আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশের অত্যাধুনিক অস্ত্রগুলো আনত। মাসুদের মাধ্যমে আনা হতো ভারতীয় অস্ত্রগুলো। তিনি জানান, অপু জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহ আগেও তিনি ২০টি অস্ত্র বিক্রি করেছেন। এরমধ্যে মিরপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী বাচ্চুর অন্যতম সহযোগী দুর্জয়ের কাছেই বিক্রি করেছেন তিনটি অস্ত্র। আর মিরপুরের একজন রাজনৈতিক নেতার কাছে তিনটি অস্ত্র বিক্রি করেছেন। ওই নেতা আগামী নির্বাচনে একটি রাজনৈতিক দলের হয়ে কক্সবাজার থেকে সংসদ নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ওই নেতাকে প্রায় সোয়া ৮ লাখ টাকায় আরো কয়েকটি অস্ত্র সরবরাহ করার কথা ছিল। তবে সে অস্ত্র দেয়ার আগেই তিনি গ্রেপ্তার হয়ে যান। অপু গোয়েন্দাদের আরো জানান, সীমন্ত থেকে প্রতিটি অস্ত্র ঢাকায় আনতে তার খরচ হতো ৫ হাজার টাকা। অস্ত্র ব্যবসার জন্য এখনো তার ১৫-২০ লাখ টাকার লগি্ন করা রয়েছে মাঠে। সীমন্ত এলাকা থেকে আসা বিভিন্ন পণ্যবাহী ট্রাকের মধ্যে প্রতি চালানে ২০-২৫টি করে অস্ত্র আনা হতো। ট্রাকগুলো গাজীপুরের কোনাবাড়ি আসলে রাজধানী থেকে অপুর লোক মোটরসাইকেলে সেখানে গিয়ে ট্রাকটিকে পাহারা দিয়ে নিয়ে আসত। গোয়েন্দারা জানান, অপু কুমিল্লার একজন রাজনৈতিক নেতার আত্মীয়। অপুর সঙ্গে অস্ত্র আমাদানির বিষয়ে তার লিংক থাকতে পারে। তারা বিষয়টির খোঁজখবর নিচ্ছেন। গোয়েন্দারা জানান, মূলত অপু ছিলেন দলের মূল লিডার। ইমরান এবং সুমন তার সহযোগী হয়ে কাজ করত। ইমরান শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাতের অন্যতম সহযোগী। সুমন ও ইমরান গ্রুপের হয়ে অপু অস্ত্র বিক্রির নেতৃত্ব দিতেন। আর অপুর দ্বিতীয় স্ত্রী লিজা এবং ইমরানের বান্ধবী ভারতীয় নাগরিক সুচন্দ্রা ওরপে রাবেয়াকে সবসময় তাদের সঙ্গে রাখতেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে। অপু ইতোমধ্যে ভারত, ব্যাংকক এবং মালয়েশিয়ায় একাধিকবার যাতায়াত করেছেন বলে প্রমাণ রয়েছে। ব্যাংকক ও মালয়েশিয়ায় ঘুরতে যেতেন। তবে ভারতে যাওয়ার মূল উদ্দেশ্য শীর্ষ সন্ত্রাসী বিকাশের সঙ্গে দেখা করা। যদিও বিকাশের সঙ্গে তার সরাসরি দেখা হয়নি। শাহাদাতের সঙ্গে ইমরান ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর হিন্দু পরিবারের মেয়ে সুচন্দ্রার সঙ্গে পরিচয় ও প্রেম হয়। এ কারণে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে ইমরানের সঙ্গে কয়েক দিন আগে সুচন্দ্রা রাবেয়া নাম ব্যবহার করে ভারত থেকে বাংলাদেশে আসে। বাংলাদেশে আসার পর অপুর বাসায় ওঠে এবং ইয়াবার ব্যবসা শুরু করে। ইয়াবার পাশাপাশি তাকে অস্ত্র ব্যবসার কাজেও ব্যবহার করা হতো। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার সানোয়ার হোসেন জানান, অপুর নেতৃত্বে এই চক্রের সদস্যরা মোহাম্মদপুরে বসে আন্তঃজেলা অস্ত্র কেনাবেচা চক্রকে নিয়ন্ত্রণ করে। গত ৪-৫ বছর ধরে অপু অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। মাঠপর্যায়ে অপুর একাধিক সিন্ডিকেট রয়েছে। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাতে একটানা চার ঘণ্টা রাজধানীর মিরপুর এবং মোহাম্মদপুরে অভিযান চালিয়ে ৭ অস্ত্র ও মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। এদের মধ্যে একজন ভারতীয় নাগরিকসহ দুই তরুণীও রয়েছে। এদের গ্যাং-লিডার হলেন ফকরুল ইসলাম অপু (৩১)। এছাড়া তার অপর সহযোগীরা হলো- মোবারক হোসনে মাসুদ (৩০), শহিদুল ইসলাম খোকন (৩২), মো. সুমন ইসলাম (২৪), মো. কামরুজ্জামান ইমরান (২৬), অপুর স্ত্রী হালিমা আক্তার লিজা (২২) এবং ইমরানের বান্ধবী ভারতীয় নাগরিক সুচন্দ্রা মান্না ওরপে রাবেয়া (১৯)। তাদের কাছ থেকে ৬টি বিদেশি পিস্তল, ২৮ রাউন্ড গুলি এবং ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। ( লেখাটি পড়া হয়েছে ২৩৯ বার )
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন |
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সর্বাধিক মতামত
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্ননারীরাই বাংলাদেশের সমাজকে বদলে দিয়েছে_ নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এই বক্তব্য আপনি
সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল |