বৃহস্পতিবার, জুন, ২০, ২০১৩: আষাড় ০৬, ১৪২০ বঙ্গাব্দ: ১০ শাবান, ১৪৩৪ হিজরি, ০৮ বছর, সংখ্যা ১৫ |
| গুগল ওয়েব অনুসন্ধান | অনুসন্ধান |
|
তত্ত্বাবধায়ক সরকার এলে আর সরানো যাবে নানির্বাচনও দেবে না সংসদে প্রধানমন্ত্রীযাযাদি রিপোর্ট ![]() বুধবার সংসদে বক্তৃতা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার এলে আর নড়ানো যাবে না। তারা নির্বাচন দেবে না। মাইনাস টু ফর্মুলা যারা করেছিলেন, তারা এখনো আছেন। তারা তৎপর। তারা সুযোগের অপেক্ষায় বসে আছেন।বুধবার স্পিকার শিরিন শারমীন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে বক্তব্য দেয়ার সময় এসব কথা বলেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১/১১-এর সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কর্মকা-ের প্রতিবাদ করার জন্য তাকে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে সময় তিনিই শুধু প্রতিবাদ করেছিলেন। বিরোধী দলের নেত্রী করেননি। প্রধানমন্ত্রী নাম প্রকাশ না করে বিএনপির এক সাংসদের বক্তব্য উল্লেখ করে বলেন, বলা হচ্ছে ৫ মে রাতে নাকি এক লাখ ২০ হাজার গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। একটা জায়গায় এতো গুলি ফোটানো হলে প্রতিটি ভবনের গায়ে গুলি লাগবে। গুলির দাগ থাকবে। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, যারা এসব অসত্য তথ্য দিচ্ছেন তারা কোন ধরনের ইসলাম পালন করছেন? হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে ঘিরে অসত্য তথ্য দিয়ে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, 'সেদিন কোনো গোলাগুলি হয়নি। মাদ্রাসা থেকে আসা বাচ্চা বাচ্চা ছেলেদের বাসে, লঞ্চে তুলে দেয়া হয়েছে। প্রত্যেক মাদ্রাসায় খবর নেয়া হয়েছে। সেখানে কোনো নিখোঁজ তালিকা নেই। শেখ হাসিনা বলেন, রুয়ান্ডার ভূমিকম্পে মারা যাওয়া মানুষের ছবি, ১৯৭৯ সালে জোনস টাউনের ঘটনার লাশের ছবি দেখানো হয়েছে। লাশের ভোজবাজির রাজনীতি কোন ধরনের রাজনীতি বলে আবারো প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ওই দিন (৫ মে) পুরানা পল্টন ও বায়তুল মোকাররমে জামায়াত-শিবির পবিত্র কোরআন শরিফ পুড়িয়েছে। আর মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে। সাভারে রানা প্লাজাধসের ঘটনার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে সাহায্য করা হচ্ছে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গঙ্গার পানি ভারতের কাছ থেকে আদায় করলে আওয়ামী লীগই করতে পারবে। ক্ষমতায় থাকতে বিরোধী দলের নেতা ভারতে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি গঙ্গার পানির কথা বলতে ভুলে গেছেন। তারা যখন ক্ষমতায় থাকেন তখন ভারতপ্রীতি। আর যখন বাইরে থাকেন তখন ভারতবিরোধী। এটা ওনাদের চরিত্র। টিপাইমুখ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা ক্ষমতায় ছিলেন এটা নিয়ে কেউ টুঁ শব্দ করেননি। প্রথম প্রতিবাদ করেছেন অর্থমন্ত্রী। টিপাইমুখ নিয়ে দুই দেশ থেকে যৌথ কমিটি করা হয়েছে। তারা সব তথ্য দিচ্ছে। দুই দেশই টিপাইমুখের ব্যাপারে জানতে পারছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে সমুদ্রসীমায় ভারতের সঙ্গে আমাদের জয় হবে।' ফেনীর জন্য ভারতের কাছ থেকে অতিরিক্ত জমি আনা হয়েছে বলে জানান শেখ হাসিনা। এ জন্য তিনি ফেনীবাসীর কাছে আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর আগে সংসদে দেয়া বিরোধী দলের বক্তব্য উল্লেখ করে বলেন, খামাখা তার ছেলের বউকে ইহুদি বলা হলো। তার ছেলের বউ ইহুদি নন, খ্রিস্টান। প্রধানমন্ত্রী এ সময় একটু হেসে বলেন, বোধ হয় এখানে ভুল হয়েছে। ইহুদি তার ছেলের বউ নন, কামাল হোসেনের জামাতা। তারেক-কোকোর ঋণ এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসন ও বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার দুই ছেলে ও ভাই এবং বিএনপির সাবেক দুই মন্ত্রীসহ দলের একাধিক নেতার ১৫টি প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রায় হাজার কোটি টাকা বকেয়া ঋণ রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার জাতীয় সংসদে বিএনপির সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ড্যান্ডি ডায়িং লিমিটেড, খাম্বা লিমিটেড এবং গিয়াস উদ্দিন আল মামুনসহ বিএনপির কয়েকজন নেতার ১৫টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের ৯৮০ কোটি দুই লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ বকেয়া রয়েছে, যার একটি বিরাট অংশ হলো কুঋণ বা মন্দ ঋণ। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংকে ড্যান্ডি ডায়িংয়ের বকেয়া ৪০ কোটি ১৪ লাখ টাকা, যার পুরোটাই মন্দ ঋণ। ড্যান্ডি ডায়িংয়ের পরিচালকরা হলেন- খালেদা জিয়ার দুই ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকো, ভাই প্রয়াত সাঈদ এস্কান্দার, তারেকের ব্যবসায়িক অংশীদার গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, মোজাফফর আহমেদ এবং নাসরীন আহমেদ। ৬ জুন সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আপ্যায়ন খরচ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বক্তব্য দেন বিরোধী দলীয় এক সংসদ সদস্য। সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া তার ওই বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, সায়মা হোসেন ওয়াজেদের সম্পত্তির উৎস নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। নিলোফার চৌধুরী মনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে সরকারি ব্যাংকগুলোর কাছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের বকেয়া সম্পর্কেও জানতে চান। জবাবের এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বিএনপি নেতাদের কাছে বিভিন্ন ব্যাংকের বকেয়া ঋণের তথ্য দেন। শেখ হাসিনা জানান, এবি ব্যাংকে গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের প্রতিষ্ঠান প্রিকাস্ট লিমিটেডের বকেয়া ঋণ ১৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। এরও পুরোটাই মন্দ ঋণ। মামুনের আরেক প্রতিষ্ঠান খাম্বা লিমিটেডের কাছে জনতা ব্যাংকের পাওনা ২৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকার পুরোটাই মন্দ ঋণ। মামুনের ওয়ান স্পিনিং মিলের কাছে প্রাইম ব্যাংকের বকেয়া আট কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৬৫ লাখ টাকা বকেয়া আর বাকিটা মন্দ ঋণ। একই কোম্পানির ওয়ান স্পিনিং মিলের কাছে সোনালী ব্যাংকের পাওনা ৫৯ কোটি ১৯ লাখ টাকা, যার পুরোটাই মন্দ ঋণ। জনতা ব্যাংকের কাছে ওয়ান স্পিনিংয়ের বকেয়া ২৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া ওয়ান ডেনিম লিমিটেডের জনতা ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড, সাউথ ইস্ট এবং সিটি ব্যাংকের কাছে বকেয়া ১৭০ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এরও পুরোটাই মন্দ ঋণ। এম এ হাসেমের আম্বার কটন মিলের সোনালী ব্যাংকের কাছে বকেয়া ৩৭৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে সন্দেহজনক ঋণ ৪৮ লাখ টাকা, বাকি ৩৭৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকা বকেয়া ঋণ। বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল ফেস অ্যান্ড ফ্রগলেসের কাছে সোনালী ব্যাংকের বকেয়া ঋণ পাঁচ কোটি ২৯ লাখ টাকা। প্রিমিয়ার ব্যাংকের কাছে একই ব্যক্তির মিহির গার্মেন্টের বকেয়া ২২ লাখ টাকা। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আলফা প্যাকেজেস (বিডি লিমিটেডের) ঢাকা ব্যাংকের কাছে বকেয়া ঋণ ২৮ লাখ টাকা। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোর্শেদ খানের প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক ইন্ডাস্ট্রিজের আইএফআইসি ব্যাংকের কাছে বকেয়া আট কোটি ১৬ লাখ টাকা। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের কাছে মোর্শেদ খানের নয়াপাড়া টি কোম্পানির বকেয়া ঋণ ৫৩ লাখ টাকা। প্যাসিফিক মটরসের কাছে এইচএসবিসি ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের বকেয়া ঋণ ১২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর হোটেল সারিনার ঢাকা ব্যাংক, সিটি ব্যাংক ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের কাছে বকেয়া ঋণ ২৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে সরকারি ব্যাংকগুলোর (সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী) বকেয়া বাবদ ১৫ হাজার ১১৩ কোটি ৬১ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে।' নারীদের চিকিৎসায় অবহেলা নয় পরিবারের নারী সদস্যদের সুস্বাস্থ্যের বিষয়ে সবাইকে আরো মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস উপলক্ষে এক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বুধবার শেখ হাসিনা বলেন, 'সিলেট ও চট্টগ্রামে সাধারণ একটা মানসিকতা আছে- মায়েরা হাসপাতালে যান না। সেখানে রক্ষণশীল পরিবারের সংখ্যা বেশি। নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রায় সাত হাজার চিকিৎসক, পাঁচ হাজার নার্স ও তিন হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পরিবার-পরিকল্পনা অধিদপ্তরে বিভিন্ন পর্যায়ে ইতোমধ্যে প্রায় ৮ হাজার জনবল নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নার্স নিয়োগের বয়সসীমা বাড়িয়ে ৩৬ বছর করার কথাও অনুষ্ঠানে জানান তিনি। 'এই সরকারের সময়ে মোট এক হাজার ৭৪৭ জন স্টাফ নার্স নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নার্সিং জনশক্তি বৃদ্ধির জন্য ১২টি ইন্সটিটিউট চালু হয়েছে। নার্সিং শিক্ষার মান বৃদ্ধি করতে সাতটি নার্সিং ইন্সটিটিউটকে কলেজে উন্নীত করা হয়েছে' বলেন প্রধানমন্ত্রী। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মুজিবুর রহমান ফকির মুমূর্ষু রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হেলিকপ্টারের কথা বলেন। ইএনটি ইন্সটিটিউট উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক উদ্বোধনের পর বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ইএনটি ইন্সটিটিউট জনসাধারণের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে। ২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমান সরকার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত এই হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নির্মাণকাজ শুরু করে। কর্মকর্তারা জানান, ১২ তলাবিশিষ্ট এই ইন্সটিটিউট ভবনটির আট তলা পর্যন্ত নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। এতে ১০০ শয্যা রয়েছে। অবশিষ্ট কাজ চলতি বছরের শেষ নাগাদ সম্পন্ন হবে। হাসপাতালটিতে একটি আন্তর্জাতিকমানের অডিও-ভেস্টিবুলার ল্যাব, সস্নিপ ল্যাব ও ভয়েস স্টাডি ল্যাব থাকবে। এছাড়াও এতে বধির ও অন্যান্য ইএনটি রোগের অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকবে।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন |
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সর্বাধিক মতামত
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্ননির্বাচন হবে না বলাটাই রাষ্ট্রদ্রোহিতা_ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি কী একমত?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল |