পূর্ববর্তী সংবাদ
মতামত :
¦
¦
পানি হোক মূল এজেন্ডাথাইল্যান্ডে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীযাযাদি রিপোট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার থাইল্যান্ডের চিয়াংমাইয়ের আন্তর্জাতিক কনভেনশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে আয়োজিত দ্বিতীয় এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় পানি সম্মেলনের (২ এপিডবিস্নউএস) উদ্বোধনী অধিবেশনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন _ফোকাস বাংলাপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বজুড়ে পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশনকে ২০১৫ সাল-উত্তর জাতিসংঘের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার মূল এজেন্ডায় পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, 'পানি ও মানবাধিকার এখন আন্তঃসম্পর্কিত এবং অর্থনীতি, পরিবেশ ও সামাজিক স্বার্থের জন্য টেকসই পানিসম্পদ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য বিশ্বজুড়ে পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশনকে জাতিসংঘের ২০১৫ সাল-উত্তর উন্নয়নের মূল এজেন্ডায় পরিণত করতে হবে এবং তা হতে হবে বৈষম্যহীন ও সমতার ভিত্তিতে।'
প্রধানমন্ত্রী সোমবার সকালে থাইল্যান্ডের চিয়াংমাইয়ের আন্তর্জাতিক কনভেনশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে আয়োজিত দ্বিতীয় এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় পানি সম্মেলনের (২এপিডবিস্নউএস) উদ্বোধনী অধিবেশনে ভাষণদানকালে এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বের ৭০০ কোটি জনসংখ্যার ৬০ শতাংশের বাস এশিয়ায়। কিন্তু ২০৩০ সাল নাগাদ এশিয়া প্রশান্তসাগরীয় অঞ্চলে পানির চাহিদা ও সরবাহের ব্যবধান দাঁড়াবে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত।
তিনি এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নিম্নলিখিত বিষয়গুলোতে জরুরি নজর দেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রথমত, জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় সমন্বিতভাবে কৃষিতে সেচব্যবস্থার মানোন্নয়ন, জ্বালানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং ক্রমবর্ধমান শিল্পে পানির চাহিদা পূরণ প্রভৃতি বিষয়গুলো অন্তর্ভূক্ত করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, ভূগর্ভস্থ পানির আর্সেনিক দূষণ কার্যকরভাবে প্রতিরোধ, সফলভাবে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং বর্জ্য পানি পরিশোধনের জন্য প্রযুক্তির উন্নয়ন ও হস্তান্তরে বিভিন্ন দেশকে অবশ্যই মেধাস্বত্ব অধিকারের (আইপিআর) সীমাবদ্ধতা ব্যতিরেকে এগিয়ে আসতে হবে।
তৃতীয়ত, সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে ও দেশীয় উদ্যোগের মানোন্নয়ন ঘটিয়ে পানি ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। বিভিন্ন সম্প্রদায়কে সীমিত ভূগর্ভস্থ সম্পদের পুনর্ব্যবহার, পরিশোধন এবং এর সুষ্ঠু ব্যবহারে উৎসাহিত করতে হবে।
চতুর্থত, বিভিন্ন নদ-নদীর পানি সংরক্ষণ ও নাব্য অক্ষুণ্ন, অন্যান্য আন্তঃদেশীয় নদ-নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত এবং নদী অববাহিকা ও প্রতিবেশ রক্ষায় বিভিন্নমুখী পদক্ষেপ নিতে হবে।
সব শেষে তিনি বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা এবং সমুদ্রসীমা বৃদ্ধির মতো বিভিন্ন সমস্যা মোকাবেলায় একটি সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে তিনি দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবেলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি, অভিযোজন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি হ্রাসে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
'পানির প্রাপ্যতাকে সারা বিশ্বের জন্য একটি ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ' উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তিন-চতুর্থাংশের বেশি দেশ গুরুতর পানি প্রাপ্যতা সমস্যা মোকাবেলা করছে।
এ লক্ষ্যে তিনি এডিবির সাম্প্রতিক একটি গবেষণার কথা উল্লেখ করেন। ওই গবেষণায় এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে একটি অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে দেখানো হলেও এই অঞ্চলের কোনো দেশকে পানির প্রাপ্যতা সমস্যামুক্ত দেশ হিসেবে দেখানো হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাপী পানি এবং স্যানিটেশনের অসহজলভ্যতা দিন দিন বাড়ছে। নদ-নদী এবং জলাভূমির বেহাল অবস্থার কারণে পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটছে।

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে
থাইল্যান্ডের সহযোগিতা
চাইলেন প্রধানমন্ত্রী


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুত হওয়া প্রতিরোধে তাদের নাগরিকত্ব প্রদানে মিয়ানমারের নেতৃত্বকে রাজি করানোর জন্য থাই সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন।
থাই প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রার সঙ্গে বৈঠককালে শেখ হাসিনা প্রাচ্য-পাশ্চাত্য করিডোরের অভিন্ন অংশ এবং এশিয়ান ডায়ালগ ও মেকং-গঙ্গা সহযোগিতায় শরিক হওয়ার জন্য ব্যাংককের সহযোগিতা চান।
সোমবার এখানে দ্বিতীয় এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় পানি সম্মেলনের বাইরে চিয়াং মাই আন্তর্জাতিক কনভেনশন এবং প্রদর্শনী কেন্দ্রে দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, যৌথ বাণিজ্যিক কার্যক্রম এবং ঢাকা-এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ শুরু করার সমস্যাসহ পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
তিনি জানান, ২০১৬ সাল নাগাদ দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নিয়ে দীর্ঘ ২৪ বছর পর দুই দেশের যৌথবাণিজ্য কমিশনের বৈঠকের খবরে সন্তোষ প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা।
তিনি সিনাওয়াত্রাকে জানান, তার সরকার ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সংশোধিত প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে এবং শিগগিরই তা অনুমোদনের জন্য কেবিনেট কমিটিতে পাঠানো হবে।
শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করেন, সংশোধিত প্রস্তাব অনুমোদনের পরপরই ইতালি-থাই উন্নয়ন কোম্পানি ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণকাজ শুরু করবে।
গত ডিসেম্বরে ঢাকায় সিনাওয়াত্রার সফরের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এতে বাংলাদেশ এবং থাইল্যান্ডের মধ্যকার সম্পর্কে এক নতুন যুগ সূচনা হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ থাইল্যান্ডকে খুবই ঘনিষ্ট বন্ধুপ্রতীম প্রতিবেশী হিসেবে বিবেচনা করে।
শেখ হাসিনা ২০১৪-২০১৯ মেয়াদে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি থাইল্যান্ডের সমর্থন চান।
থাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাণিজ্যে ব্যবধান কমিয়ে আনতে ডব্লিউটিও-এলডিসি শর্তের অধীনে শুল্ক ও কোটামুক্তভাবে সুনির্দিষ্ট বাংলাদেশি পণ্য প্রবেশের অনুমতি প্রদান এবং থাইল্যান্ডে মৎস্য ও নির্মাণ খাতে বাংলাদেশি নিয়োগে তার সরকারের সিদ্ধান্তের কথা জানান।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ব্যাপারে দুই দেশ সম্ভাব্য কম সময়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করবে।
পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, অ্যাম্বাসেডর অ্যাট লার্জ এম জিয়াউদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব শেখ মো. ওয়াহিদ-উজ জামান এবং থাইল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কাজী ইমতিয়াজ হোসেন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি জুক জেরেমিকের সঙ্গে বৈঠককালে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের নির্বাচনব্যবস্থা সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন এখন কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ ছাড়াই কাজ করছে এবং তার সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত সব নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে আসন্ন সাধারণ নির্বাচন সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে অবাধ এবং নিরপেক্ষ হবে।
দ্বিতীয় এশিয়া প্যাসিফিক পানি সম্মেলনের বাইরে শেখ হাসিনা জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট মিখাইল সাখা ভিলির সঙ্গেও বৈঠক করেন। তারা পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন।
 
পূর্ববর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
শেষের পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নবিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুম নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অগ্রহণযোগ্য_ মানবাধিকার নেত্রী সুলতানা কামালের এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি কি একমত?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2010 The Jaijaidin