পূর্ববর্তী সংবাদ
মতামত :
¦
¦
বাম্পার ফলনেও কৃষকের মুখে হাসি নেইশুরু হয়নি সরকারি সংগ্রহ অভিযান উৎপাদন খরচ উঠছে না এনজিও ঋণ : মড়ার উপর খাঁড়ার ঘাস্বদেশ ডেস্ক সিরাজগঞ্জে ধান কাটছেন কৃষক -যাযাদিবাজারে ইরি-বোরো ধানের দাম কম থাকায় কৃষকের মুখের হাসি মিলিয়ে গেছে। বর্তমান বাজারদরে ধান বিক্রি করে তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে এনজিও ও মহাজনদের তাগাদায় তারা আগেভাগে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইলের বিভিন্ন অঞ্চলে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। হাটবাজারে নতুন ধান (বিআর-২৮) ৪৭০ থেকে ৫২০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। এ দামে ধান বিক্রি করে কৃষকের উৎপাদন খরচ উঠছে না। ফলে লোকসানের হিসাব গুনতে গিয়ে তারা দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। কৃষকদের হিসাব মতে এবার প্রতি বিঘা জমিতে তাদের ১ হাজার ১৫ টাকা লোকসান হবে। এ হিসাবে টাঙ্গাইলের কৃষকদের বোরো আবাদে লোকসান হবে ১২৬ কোটি ৩ লাখ ৬২ হাজার ৪০ টাকা। আর বোরো আবাদের শুরুতেই কোল্ড ইঞ্জুরিতে টাঙ্গাইলের কৃষকদের বীজতলা নষ্ট হয়ে যায়। এর পরও তারা বিভিন্ন স্থান থেকে চারা সংগ্রহ করে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করেন। এদিকে লোডশেডিংয়ে পানি সঙ্কট দেখা দেয়। তবে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় কৃষকরা সেই সঙ্কট কাটিয়ে ওঠেন। কিন্তু ধান বিক্রি করে উৎপাদন খরচ না উঠায় কৃষকের মুখে হাসি নেই। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ধান ফলিয়ে এখন তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে এনজিওর ঋণ মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে। এনজিওর ঋণ শোধ করতে তারা লোকসান দিয়ে ধান বিক্রি করছেন। টাঙ্গাইলের প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের বেশিরভাগই এনজিওর চড়া সুদে ঋণ নিয়ে বোরে আবাদ করেন। প্রতিটি গ্রামেই ৮-১০টি এনজিওর সরব কার্যক্রম চালু রয়েছে। কৃষকরা একটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ করতে অপর একটি এনজিওর ঋণের কবলে পড়ছেন। তারা ধান বিক্রি করে ঋণ পরিশোধের যে স্বপ্ন দেখছিলেন দাম কম হওয়ায় তা ভেস্তে গেছে। তাই ঋণের টাকা এখন গলার কাঁটা হয়ে দেখা দিয়েছে। জেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবার ১ লাখ ৬৫ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। কৃষি বিভাগের হিসাব মতে প্রতি হেক্টর জমিতে বোরো চাষে এবার ব্যয় হয়েছে ৭৫ হাজার ৮২৫ টাকা। প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে ১০ হাজার ১১০ টাকা। এ হিসেবে কৃষি বিভাগ কৃষকদের কিছুটা লাভ দেখালেও এর চেয়ে কম খরচ করে কৃষকদের লোকসান গুনতে হচ্ছে ধানের দাম কম থাকার কারণে। কৃষকরা জানান, সেচ পাম্পের ভাগ বাদ দিয়ে এবার প্রতি বিঘায় ধান হচ্ছে ১২ থেকে ১৩ মণ। যা বর্তমানে ৪৭০ থেকে ৫২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। জেলা বাজারদর কর্মকর্তা ফারুক আহম্মেদ তালুকদার জানান, হাটবাজারে নুতন বোরো ধান (বিআর-২৮) ৫২০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। এ হিসাবে কৃষক ১ বিঘা জমি ধান বাবদ পাচ্ছেন ৬ হাজার ৭৬০ টাকা। খড় বিক্রি করে পাচ্ছেন ১ হাজার ৫০০ টাকা। সর্বমোট কৃষক পাচ্ছে ৮ হাজার ২৬০ টাকা। কৃষকের প্রতি বিঘায় লোকসান হচ্ছে ১ হাজার ১৫ টাকা। সে হিসাবে এবার টাঙ্গাইলে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৯০০ হেক্টর বা ১২ লাখ ৪১ হাজার ৭৩৬ বিঘা জমি চাষ করে লোকসান হবে ১২৬ কোটি ৩ লাখ ৬২ হাজার ৪০ টাকা।
জোবায়েদ মলি্লক বুলবুল
সিরাজগঞ্জ : চলনবিল অঞ্চলে ইরি-বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে। বাম্পার ফলন হলেও বাজারে দাম কম থাকায় কৃষকরা খুশি হতে পারছেন না। উৎপাদন খরচের চেয়ে বাজারদর কম হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি নেই। জেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ, রায়গঞ্জ, শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, পাবনা জেলার ফরিদপুর, চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম, সিংড়া, গুরুদাসপুর ও নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলায় ১ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে এবার ইরি-বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে ২৮-৩২ মণ ধান উৎপাদন হয়েছে। সেই সঙ্গে হাইব্রিডসহ কয়েকটি প্রজাতির ধানের ফলন আরো বেশি বলে জানা গেছে। বৈশাখের শুরু থেকেই বিভিন্ন জাতের ইরি-বোরো ধান কাটা মাড়াই শুরু হয়েছে। কিন্তু কৃষক ধান নিয়ে হাটে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না। চলনবিলের প্রসিদ্ধ ধানের হাট চাচকৈড়, গুল্টা, বোয়ালিয়া, রংবাঘা, বিনসাড়া, মির্জাপুর, কাছিকাটা, ছাইকোলা, সলংগা, নিমগাছী, চান্দাইকোনা, শরৎনগরসহ বিভিন্ন হাটবাজারে মিনিকেট, বিআর-২৯, বিআর-২৮, বাসমতি ধান ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া হাইব্রিড জাতের ধান ৪৪০ থেকে ৪৬০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু প্রতিমণ ধান উৎপাদন করতে কৃষকদের ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা খরচ হয়েছে। এতে কৃষকদের প্রতিমণ ধানে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। এ ছাড়া মহাজনরা ইচ্ছামাফিক ধানের দর কমিয়ে দেন বলেও জানা যায়। তাড়াশ উপজেলার গুল্টা গ্রামের কৃষক মমিন উদ্দিন জানান, বর্তমানে হাটবাজারে যে দরে ধান বিক্রি হচ্ছে তাতে কৃষকদের ১৫০ থেকে ২০০ টাকা লোকসান গুনতে হবে। সার, বীজ, কীটনাশক ও শ্রমিক বাবদ যা খরচ হয়েছে, বর্তমান বাজারমূল্যে এক বিঘা জমির ধান বিক্রি করেও সে খরচ উঠবে না। তাই কৃষকরা চলনবিল অঞ্চলের গ্রামে গ্রামে সরাসরিভাবে ন্যায্যমূল্যে ধান ক্রয় করার আহ্বান জানান।
বাদল ভৌমিক
দিনাজপুর : দিনাজপুরের কৃষকরা বোরা ধানের বাম্পার ফলন হওয়া সত্ত্বেও খুশি হতে পারছেন না। বাজারে ধান বিক্রি করতে গিয়ে লোকসান গুনে তাদের হাসিখুশি মুখ মলিন হয়ে যাচ্ছে। দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আনোয়ারুল আলম জানান, এই মৌসুমে দিনাজপুরে ১ লাখ ৭৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চারা রোপণ করা হয়েছে। আবাদও ভালো হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, এবার দিনাজপুর জেলায় প্রায় ৭ লাখ টনের বেশি ধান উৎপাদন হবে।
সূত্র জানিয়েছে, সরকারের শস্য অভিযান শুরু না হওয়ায় একটি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ইতোমধ্যে দিনাজপুর উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে নেমে পড়েছে। তারা কৃষকদের কাছ থেকে কম মূল্যে ধান ক্রয় করছেন। ফলে বাম্পার ফলনেও উৎপাদন খরচ ওঠছে না। বিরল উপজেলার মাধববাটি এলাকার কৃষক গোলাম মোস্তফা জানান, এবার বোরো আবাদ করতে ডিজেল এবং বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন উপাদানের খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও অনেক বেড়েছে। সেই সঙ্গে এবার বৃষ্টি কম হওয়ায় সেচের খরচও অন্যবারের তুলনায় বেশি পড়েছে।
কৃষক আশিকুর রহমান জানান, এবারে ভালো ফলন পেয়ে তিনি বেশ খুশি। কিন্তু বাজারে ধানের যে মূল্য তাতে হতাশ হতে হচ্ছেন। এবার তিনি ৫০০ টাকা মণ দরে ধান বিক্রি করেছেন। বাজারের মূল্য অনুযায়ী এবারে উৎপাদন খরচ উঠবে না। কারণ এবার বোরো ধান আবাদ করতে অনেক বেশি খরচ হয়েছে।
দিনাজপুর খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ মৌসুমে দিনাজপুরের ২৬টি এলএসডি ও ১টি সিএসডি গোডাউনে ৯৪ হাজার ৭০০ টন চাল এবং ৫ হাজার ৩০০ টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। দিনাজপুর কৃষক সমিতির সভাপতি আলতাফ হোসেন জানান, এবার তেল এবং বিদ্যুতের ঊর্ধ্বমূল্যের কারণে কৃষকদের উৎপাদন খরচ প্রতিমণ ৬৫০-৭০০ টাকা পড়েছে। ৪৫০-৫৫০ টাকা দরে ধান বিক্রি করলে তাদের উৎপাদন খরচই উঠবে না। এ জন্য সংগ্রহ অভিযানের মূল্য ৮৫০ টাকা করার দাবি জানিয়ে আসছে কৃষক সমিতি। সেই সঙ্গে কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে সেন্টার খোলার দাবি জানিয়েছে।
মমিনুল ইসলাম
 
পূর্ববর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
স্বদেশ -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্ননারীরাই বাংলাদেশের সমাজকে বদলে দিয়েছে_ নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এই বক্তব্য আপনি সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2010 The Jaijaidin