মঙ্গলবার, মে, ২১, ২০১৩: জ্যৈষ্ঠ ৭, ১৪২০ বঙ্গাব্দ: ১০ রজব , ১৪৩৪ হিজরি, ০৭ বছর, সংখ্যা ৩৩৮ |
| গুগল ওয়েব অনুসন্ধান | অনুসন্ধান |
|
|
সংসদেই নির্বাচনকালীন সরকারের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেবে বিএনপিহাসান মোল্লা ![]() আসন্ন বাজেট অধিবেশনেই নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেবে বিএনপি। আদালতের রায়কে সম্মান জানানোর পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজনীয়তা সংসদে তুলে ধরবে দলটি। এরপরও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিষয়ে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ ছাড় দেয়ার বিষয়টি জানাবে তারা। তবে প্রধানমন্ত্রীকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারপ্রধান মেনে নেবেন না তারা। আর সংসদে তাদের এই দাবি যদি আমলে নেয়া না হয়, তাহলে তারা আবার রাজপথে ফিরে যাবেন। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বিলুপ্ত করার পর থেকেই প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এ ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে আসছে। এ বিষয়ে সরকারের বক্তব্য, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি অগণতান্ত্রিক হওয়ায় এবং ১/১১-এর অভিজ্ঞতার কারণেই এ ব্যবস্থা পুনর্বহালের কোনো সুযোগ নেই। দুই দলের এই অনড় অবস্থানের কারণে দেশে সংঘাতময় রাজনৈতিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। বিরোধী দলের ঘন ঘন হরতাল-অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালনকালে জ্বালাও-পোড়াও ও প্রাণহানির কারণে দিন দিন রাজনৈতিক পরিস্থিতি অবনতির দিকে যেতে থাকে। এ অবস্থায় দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মহল থেকে বড় দুই দলকে সংলাপে বসার তাগিদ দেয়া হয়। জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনসহ বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্র ও দাতা সংস্থার পক্ষ থেকে রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে বড় দুই দলকে সংলাপে বসার আহ্বান জানানো হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধী দলকে সংলাপে বসার আহ্বান জানান। জবাবে বিরোধী দল জানায়, সংলাপের আলোচ্যসূচি হতে হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি; এবং আওয়ামী লীগকে সংলাপের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিতে হবে। পরে বিরোধীদলীয় নেতা তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনর্বহালের জন্য ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন। এ সময় দাবি মেনে নিয়ে আলোচনায় বসতে প্রধানমন্ত্রীকে চায়ের দাওয়াতও দেন তিনি। পরে হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচিতে সমর্থন এবং নেতাকর্মীসহ ঢাকাবাসীকে তাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান খালেদা জিয়া। এর ফলে রাজনৈতিক সঙ্কট আরো ঘনীভূত হয় এবং সংলাপ নিয়ে যে সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছিল, সেই পথও রুদ্ধ হয়ে যায়। এরপর জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো বাংলাদেশ সফর করেন। তারানকোর সফরকালে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতারা সংলাপ প্রশ্নে খানিকটা নরম হলেও পরবর্তীকালে ক্ষমতাসীনরা আবার বেঁকে বসে। রোববার আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম পরিষ্কার জানিয়ে দেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান কে হবেন, তা আলোচনা করতেই সংলাপ হতে পারে। এ নিয়ে আলোচনার জন্যই বিরোধী দলকে সংসদে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিরোধী দলের কোনো প্রস্তাব থাকলে সংসদে এসে বলতে হবে। এর জবাবে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু যায়যায়দিনকে জানান, এমন কথা ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে একাধিকবার বলা হয়েছে। সরকার অস্থিরতায় ভুগছে বলেই একেক সময় একেক কথা বলছে। এ ব্যাপারে পরিষ্কার বক্তব্য হচ্ছে, আলোচনার ব্যাপারে তাদের সর্বশেষ এবং আসল বক্তব্য কোনটি, তা ঠিক করতে হবে। এরপরই আলোচনা হতে পারে। বিএনপি সূত্র জানায়, আসন্ন বাজেট অধিবেশনে যোগ দেবে বিএনপি। সেখানে নির্বাচনকালীন সরকার পদ্ধতি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেবে তারা। সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করার স্বার্থে অনেক ইস্যুতে ছাড় দেয়ার কথা জানাবে বিএনপি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারপ্রধানের বিষয়টি ছাড়া অন্যসব বিষয়ে ছাড় দেয়ারও সিদ্ধান্ত রয়েছে দলটির। এ ব্যাপারে দলের সিনিয়র একজন নেতা জানান, মানুষ মনে করে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রয়োজন আছে। বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন এবং সব দলের অংশগ্রহণের জন্য এটা দরকার। এমনকি আদালত যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করেছেন, সেখানেও বলা হয়েছে, অন্তত আরো দুই মেয়াদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকতে পারে; সংসদ এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আদালতের সংক্ষিপ্ত রায়ে এ কথাটি ছিল, এখনো আছে। রায়ের সংক্ষিপ্ত আদেশের সঙ্গে দুই মেয়াদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথাটি উল্লেখ করা ছিল। আর এখন পূর্ণাঙ্গ রায়ে আছে আলাদাভাবে। কিন্তু দুই মেয়াদে নির্বাচনের কথাটি তখনো যেমন ছিল, পরামর্শমূলক, পূর্ণাঙ্গ রায়েও তা-ই আছে। এটা বাধ্যতামূলক আগেও ছিল না, এখনো নেই। তাই পূর্ণাঙ্গ রায় আর সংক্ষিপ্ত আদেশের মধ্যে গুণগত কোনো পার্থক্য নেই। পূর্ণাঙ্গ রায়ে শুধু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা বলা হয়েছে, নির্দলীয় কিনা, তা বলা নেই। এতে কিছু যায়-আসে না। কারণ, সংসদ যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আদালতের পরামর্শে দুই মেয়াদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা বলা আছে, এখন সংসদ অনায়াসেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে, আগামী দুই মেয়াদে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। তিনি আরো জানান, এ রকম সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে আদালতের রায়ে কোনো বাধা নেই। সংসদ যদি মনে করে, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হবেন একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, যেটা ত্রয়োদশ সংশোধনীতে ছিল, তাতেও আদালতের রায়ে কোনো বাধা নেই। কারণ, সংসদ কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা আদালত কখনোই বলে দেন না বা বলেন না। আদালত এসব ব্যাপারে শুধু পরামর্শ দেন। কিন্তু সংসদের কোনো আইন যদি সংবিধানের মূল কাঠামোর বিরুদ্ধে যায়, সাংঘর্ষিক হয়, তাহলেই কেবল আদালত তা বাতিল করতে পারেন। বিএনপির পক্ষ থেকে আরো বলা হবে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিরুদ্ধে অনেকের অনেক আপত্তি ছিল এবং আছে। কিন্তু গত প্রায় দুই দশকে আদালত তা বাতিল করেননি। কারণ, মানুষের একান্ত চাহিদা ও বাস্তবতার বিবেচনাকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। কোনো আইন সংবিধানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও বাস্তবতার আলোকে তাকে অনেক সময় স্বীকৃতি দেয়া হয়। আবার বাস্তবতার প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে সেই আইন আদালতে বাতিলও হয়। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যাপারটিও সেরকম। বাংলাদেশের বাস্তবতায় এর প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যায় না। সেজন্য নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা অর্জন না হওয়া পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হওয়া উচিত। বিএনপির এই নেতা জানান, এরপরও যদি আদালতের রায়ের কারণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনেই নির্বাচনের বিষয়টি সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পায়, তাহলে এর প্রধান কে হবেন, তা নিয়েও আলোচনা করবে বিএনপি। তবে প্রধানকে অবশ্যই নির্দলীয় করার প্রস্তাব দেবে বিএনপি। শুধু প্রস্তাবনাই থাকবে না, এই দাবি না মানলে রাজপথেই সমস্যার সমাধানের দিকে এগোবে বিরোধী দল। এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন |
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সর্বাধিক মতামত
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নবিরোধী দলের সঙ্গে বসতে চান স্পিকার ড. শিরিন শারমীন চৌধুরী। তার এই উদ্যোগ সফল হবে বলে কি মনে করেন?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল |