বুধবার, জুন, ১৯, ২০১৩: আষাড় ০৫, ১৪২০ বঙ্গাব্দ: ৯ শাবান, ১৪৩৪ হিজরি, ০৮ বছর, সংখ্যা ১৪ |
| গুগল ওয়েব অনুসন্ধান | অনুসন্ধান |
|
'তিনি আমার নাট্যগুরু'বরেণ্য নাট্যব্যক্তিত্ব আতিকুল হক চৌধুরী সোমবার রাতে রাজধানীর শমরিতা হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার হাত ধরে বেশ কয়েকজন গুণী অভিনয়শিল্পী টেলিভিশন পর্দায় পা রেখেছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম শর্মিলী আহমেদ। আতিকুল হক চৌধুরীর 'দম্পতি', 'মালঞ্চ', 'বড়দিদি'সহ অসংখ্য জনপ্রিয় নাটকে তিনি অভিনয় করেছেন।শর্মিলী আহমেদ ![]() আতিকুল হক চৌধুরীর মৃত্যুর খবরটি শোনার পরপরই আমি খুবই মর্মাহত হয়ে পড়েছি। তার অসংখ্য নাটকে আমি অভিনয় করেছি। সেই স্মৃতিগুলো এখন বারবার মনের গহব্বরে ভেসে উঠছে। তিনি অসাধারণ এক মানুষ ছিলেন। তার হাত ধরেই আমি ছোটপর্দায় পা রেখেছি। তার কাছ থেকেই অভিনয়ের নানা বিষয়ে হাতেখড়ি নিয়েছি। এক কথায়, তিনি আমার নাট্যগুরু। শুধু আমি নই, তার হাত ধরে বাংলাদেশের অধিকাংশ তারকাই ছোটপর্দায় এসেছেন। তিনি আমাদের অভিনয় জগতের বটবৃক্ষ ছিলেন। আতিকুল হক চৌধুরী প্রযোজিত বিটিভির প্রথম ধারাবাহিক নাটক 'দম্পতি'। এ ধারাবাহিকের মাধ্যমেই আমার নাটকে অভিষেক ঘটেছিল। এ নাটকে অভিনয়ের সময় তিনি একেবারে নাওয়া-খাওয়া বাদ দিয়ে আমাদের নিয়ে প্রতি সপ্তাহে পাঁচদিন করে রিহার্সেল করতেন। ওই সময় ধারাবাহিকটি বেশ প্রশংসিত হয়েছিল। আতিকুল হক চৌধুরীর অসংখ্য নাটকে আমার অভিনয়ের সুযোগ হয়েছে। তিনি একটি খ- নাটকের জন্য পাঁচদিন ও ধারাবাহিকের জন্য ২০ দিন করে রির্হাসেল করতেন। রিহার্সেলের ফাঁকে ফাঁকে তিনি আমাদের চা-নাস্তা খাওয়াতেন। আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে আড্ডা দিতাম এবং নাস্তা করতাম। আমাদের নাট্যজগতে তার মতো এত নিপুণ ও সুদক্ষ নির্মাতা-নাট্যকার খুব কম দেখেছি। তার সব নাটকই বক্তব্যনির্ভর ছিল। এ কারণে রেকর্ডিংয়ের সময় তিনি সশরীরে প্যানেলে বসে থাকতেন। নাটকের দৃশ্যে ও সংলাপে কোনো ভুল-ত্রুটি হচ্ছে কিনা, সেটি প্রত্যক্ষ করতেন। এমনকি, সংলাপে ভুল হলে তিনি তৎক্ষণাৎ সেটি রি-রাইট করতেন। বলতে গেলে আমার দীর্ঘ অভিনয়জীবনে আমি তার কোনো ভুল দেখিনি। তিনি অসম্ভব জ্ঞানী একজন মানুষ ছিলেন। একজন মানুষ একসঙ্গে এতকাজ কীভাবে করতেন, তা আমি ভেবেই পাই না। তিনি বিটিভির উপ-মহাপরিচালক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। এ সময় তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক হিসেবেও নিয়োজিত ছিলেন। এছাড়া বেতারেও নাটক প্রযোজনা করেছেন। তিনি প্রতিটি ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। সর্বশেষ আমি তাকে গত মার্চ মাসে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলাম। ওই সময় তিনি আমার হাত ধরে প্রায় আধা ঘণ্টা মিডিয়া ও সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছিলেন। তিনি অতীতের দিনগুলোর কথা মনে করে রীতিমতো স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েছিলেন। তিনি আমার কাছে আবুল হায়াত, বিপাশা হায়াত, শমী কায়সার প্রমুখকে দেখার ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেছিলেন। এছাড়া আমার শরীর-স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিয়েছিলেন। তাকে দেখে হাসাপাতাল থেকে ফেরার পর আমার শুধু তার কথাই মনে পড়ত। আমি একাধিকবার মুঠোফোনে কল করে তার খোঁজখবর নিয়েছি। তবে তাকে দেখতে বাসায় যাওয়ার ভীষণ ইচ্ছা ছিল। কিন্তু শুটিং ও ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে সেটি আর সম্ভব হয়নি। আতিকুল হক চৌধুরী জন্ম : ১৫ ডিসেম্বর ১৯৩১, মৃত্যু : ১৭ জুন ২০১৩
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন |
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সর্বাধিক মতামত
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নগ্রামীণ ব্যাংক ভেঙে ১৯ টুকরা
করার সরকারি সুপারিশ আদৌ গ্রহণযোগ্য ও বাস্তবসম্মত
বলে মনে করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল |