পূর্ববর্তী সংবাদ
মতামত :
¦
¦
আশুলিয়ায় আবার শ্রমিক বিক্ষোভ, কারখানায় ছুটিসব বন্ধ কারখানা খুলে দেয়ার দাবি জানায় শ্রমিকরাসাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি সরকার কারখানার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন আশ্বাসে বৃহস্পতিবার সকালে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের বন্ধ কারখানাগুলো খুলে দেন পোশাক মালিকরা। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসে আস্থা মেলেনি। গতকাল বৃহস্পতিবারও টানা চতুর্থ দিনের মতো শ্রমিক বিক্ষোভ দেখা দেয় আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে। ফলে শ্রমিক বিক্ষোভের মুখে প্রায় ১৫টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করতে হয় কর্তৃপক্ষকে।
এদিন বেতন ভাতা বৃদ্ধিসহ কয়েক দফা দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। কারখানায় চালায় ভাংচুর, করে কর্মবিরতি। অব্যহত এই শ্রমিক বিক্ষোভের মুখে নিরাপত্তার স্বার্থে শ্রম আইন ২০০৬ এর ১৩ (১) ধারায় শারমিন গ্রুপের তিনটি, ডেকোসহ বেশ কয়েকটি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন কারখানা কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থায় শ্রমিকরা ওই সব বন্ধ কারখানা খুলে দেয়ার দাবিতে আবারও বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে শ্রমিক, মালিক ও বিজিএমইএ'র নেতাদের সঙ্গে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একাধিক এমপি-মন্ত্রী আলোচনায় বসেন। বুধবার রাতে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ ভবনে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দিন খান আলমগীর বলেন, সব পোশাক কারখানা খোলা থাকবে পোশাক খাত রক্ষার স্বার্থে সরকার সব কিছুই করবে। সরকার কারখানার ভেতরে ও বাহিরে নিরাপত্তা দেবে। এমন আশ্বাস দিয়ে মালিক কর্র্তৃপক্ষকে সকল পোশাক কারখানা খোলা রাখার আহ্বান জানান। পোশাক মালিকরা সরকারের আশ্বাসে গতকাল শিল্পাঞ্চলের বন্ধ থাকা সব কয়টি পোশাক কারখানা খুলে দেন। কিন্তু বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, কারখানা খুলে দেয়ার দাবিতে আবারও বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। ভাংচুর করে আশপাশের কয়েকটি শিল্প কারখানা ভবনের গ্লাস ও আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল মহাসড়ক দিয়ে চলাচলরত বেশ কয়েকটি যানবাহন।
একাধিক পোশাক কারখানার মালিক জানান, সরকারের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত যতই আশ্বাস দেয়া হয়েছে তা একটিও রক্ষা করতে পারছে না। গ্যাস, বিদ্যুৎ তো দূরের কথা নিরাপত্তা টুকুও দিতে পারছে না। তারা শুধু একের পর একে আদেশ করে যাচ্ছেন।
গতকাল সকালে বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা প্রচ- বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে কর্মস্থলে যোগ দিয়ে উৎপাদন শুরু করে। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে শিল্পাঞ্চলের জামগড়া এলাকার ডিজাইনার জিন্স ও ওশানগেট নামের দুইটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, কারখানা খুলে দেয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকে। একপর্যায়ে বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা আশপাশের যেসব পোশাক কারখানায় উৎপাদন চলছিল সেসব পোশাক কারখানায় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে এবং শ্রমিকদের কারখানা থেকে বের করে দিতে বলে। বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকদের দাবির মুখে স্টার লিংক ক্রিয়েশন, স্টার লিংক স্টাইল, সেতারা গ্রুপ, আইডিএস গ্রুপ, রোজ, এনভয়সহ ওই এলাকার প্রায় ১৫টি পোশাক কারখানা ছুটি ঘোষণা করেন। এ সময় বিরুদ্ধ শ্রমিকরা আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাংচুর করে। পরে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে শ্রমিকদের ধাওয়া দেয়, শ্রমিকরাও পুলিশকে ধাওয়া করে। ধাওয়া-ধাওয়ির একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ করে শ্রমিকদের ছত্র ভঙ্গ করে দেয়। পুলিশের লাঠিচার্জে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি পুলিশের সাজোয়াযানের টহল অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে ডিইপিজেডসহ শিল্পাঞ্চলের অন্যান্য এলাকার পোশাক কারখানাগুলোতে উৎপাদন শুরু হয়েছে। সকাল থেকে শ্রমিকের উপস্থিতি ছিল সন্তোষজনক। তবে ভারী বর্ষণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় কয়েকটি কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ বদরুল আলম জানান, কারখানা খুলে দেয়ার দাবিতে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে তাদের লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয়। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি পুলিশের সাজোয়াযানের টহল অব্যাহত রয়েছে।
 
পূর্ববর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
শেষের পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নসংলাপে তৃতীয় পক্ষে মধ্যস্থতার দরকার নেই_ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডবিস্নউ মজিনার এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি কি একমত?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2010 The Jaijaidin