মতামত :
¦
¦
মাটির নিচে রেলওয়ের ৯২ কোটি টাকার সম্পদ নষ্টরতন বালো সারাদেশে রেলওয়ের সাড়ে ৩ লাখ সস্নিপার মাটির নিচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মরিচা পড়ে গাছপালায় ঢেকে গেছে ৯ হাজার ১৭৪ টন ওজনের ১৮ হাজার ৪০৮টি ট্যাক (রেললাইন)। রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে ১৪০ এবং পশ্চিমাঞ্চলে ৯৫ কিলোমিটারসহ মোট ২৩৫ কিলোমিটার লাইনে কোনো ট্রেন চলাচল করে না। অব্যবহৃত রেললাইনে এসব সস্নিপার এবং ট্যাক পড়ে থাকায় রেলওয়ের বিপুল পরিমাণ সম্পদ নষ্ট ও হারিয়ে যাচ্ছে।
রেলওয়ের এক ট্যাক পরিসংখ্যানে জানা গেছে, ৩ শ্রেণির সস্নিপারের মধ্যে গড়ে প্রতি সস্নিপার ৩ হাজার টাকা মূল্য হিসেবে সাড়ে ৩ লাখ সস্নিপারের মূল্য দাঁড়ায় ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। প্রতি টন ট্যাক গড়ে ১ লাখ টাকা হলে মোট ট্যাকের মূল্য দাঁড়ায় ৯১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। সব মিলে সরকারের প্রায় ৯১ কোটি ৮৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার সম্পদ অব্যবহৃত অবস্থায় মাটির নিচে পড়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র এবং যায়যায়দিনের অনুসন্ধানে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অব্যবহৃত রেললাইনের কোনো কোনো এলাকায় ট্যাকগুলো চুরি হয়ে যাচ্ছে। ট্যাকগুলোতে মরিচা পড়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। ভবিষৎতে বন্ধ হয়ে যাওয়া লাইন সংস্কার করা না হলে এসব সস্নিপার এবং ট্যাক কোনো কাজে লাগবে না। সংস্কার করা হলেও তখন নতুন করে নতুন সস্নিপার এবং ট্যাকের প্রয়োজন হবে বলে রেলের ট্যাক অফিসাররা জানান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগের প্রকৌশলীরা জানান, হবিগঞ্জ-বাল্লা, ফেনী-বেলুনিয়া, কালুখালী-ভাটিয়াপাড়া, ঈশ্বরদী-পাকশি, কুলাউড়া এবং শাহবাজপুরসহ বন্ধ হয়ে যাওয়া ২৩৫ কিলোমিটার রেললাইন সংস্কারে সরকারের কোনো উদ্যোগ নেই। তবে প্রকৌশল বিভাগের পরিচালক জানান, ফরিদপুরের পাচুরিয়া-ফরিদপুর-ভাঙ্গার ৫১ কিলোমিটার বন্ধ হয়ে যাওয়া রেললাইন সংস্কার করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে রেলওয়ের এক কর্মকর্তা জানান, এসব অব্যবহৃত রেললাইনে আদৌ ট্রেন চলাচলের কোনো সম্ভাবনা নেই। তাহলে বছরের পর বছর এভাবে মাটির নিচে পড়ে থাকলে সরকারের বিপুল পরিমাণ সম্পদ নষ্ট হয়ে যাবে। এই বিপুল পরিমাণ সম্পদ রক্ষা করতে হলে টেন্ডারের মাধ্যমে ট্যাক টন হিসেবে বিক্রি এবং সস্নিপারগুলো তুলে অন্য কোনো নতুন লাইনে কাজে লাগানো হলে সরকারের বিপুল পরিমাণের সম্পদ রক্ষা পেতে পারে। অন্যদিকে ট্যাক এবং সস্নিপার টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রির টাকা দিয়ে ৭-৮টি রেলইঞ্জিন ক্রয় করাও সম্ভব বলে রেল বিশেষজ্ঞদের অভিমত।
রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক জানান, স্বাধীনতার ৪০ বছর পর পৃথক রেল মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। রেল মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার এক বছরে রেলওয়ের অনেক প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। উন্নয়নও কম-বেশি হচ্ছে। নগরীর যানজট এবং যাত্রীসেবার মান বাড়াতে চীন থেকে ২০টি কমিউটার ট্রেন সংগ্রহ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে আনা দুটি কমিউটার ট্রেন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচল করছে। দুটি ট্রেন চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ওয়ার্কশপে রয়েছে। বাকি ১৬টি ট্রেন আগামী জুন মাসের মধ্যে বাংলাদেশ রেলবহরে যোগ হবে। পাশাপাশি ভারত থেকে ১০টি ইঞ্জিন সংগ্রহের চুক্তি অনুযায়ী, প্রথমপর্যায়ে দুটি ইঞ্জিন বাংলাদেশে পেঁৗছেছে। ৫ মার্চ ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে এই দুটি ইঞ্জিন উদ্বোধন করেন ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী। অচিরেই রেল বিভাগ দৃশ্যমান কাজ দেখাতে পারবে। পাশাপাশি বন্ধ হওয়া রেললাইন যথাযথভাবে কাজে লাগানোর প্রক্রিয়া সরকার শুরু করবে।
রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আবু তাহের জানান, পর্যায়ক্রমে তারা কাজ করছেন। বন্ধ লাইন চালু করার পরিকল্পনা সরকারের আছে। এ ছাড়া জনবল এবং অর্থসহ বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এসব প্রতিবন্ধকতা তারা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে পারবেন।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে ২ হাজার ৮৯১ কিলোমিটার রেলপথের মধ্যের মধ্যে ব্রডগেজ ৬৫৯ কিলোমিটার, ডুয়েলগেজ ৩৭৫ কিলোমিটার এবং মিটারগেজ ১ হাজার ৭৫৬ কিলোমিটার রেলপথ রয়েছে। এসব লাইনের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার লাইন জরুরি মেরামত করার কথা জানান কর্তৃপক্ষ। এসব লাইনের মধ্যে ১০০ কিলোমিটার লাইনই ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে বাড়ছে লাইনচ্যুতির ঘটনা। রেল পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত এক বছরে ১৬২টি লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার ভয়ে ধীরগতিতে চলছে রেল। কিছু কিছু ক্ষেত্রে মাত্র ৫০ কিলোমিটার রেলপথ অতিক্রম করতে সময় লাগছে ৪-৫ ঘণ্টা।
এ ছাড়া ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার রেললাইনের নিচে সস্নিপার ক্ষয় হয়ে গেছে। অনেক জায়গায় সস্নিপারের নিচে পাথর সরে মাটি আর বালু বের হয়ে গেছে। এসব ঝুঁকিপূর্ণ লাইনে চলছে ট্রেন। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা, ময়মনসিংহ, পঞ্চগড় ও দিনাজপুরসহ রেলওয়ের পূর্ব এবং পশ্চিম অঞ্চলের অধিকাংশ রেলপথ জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এসব রেলপথ। দুর্ঘটনার ভয়ে কিছু কিছু লাইন দিয়ে রেল চলাচল করতে হচ্ছে ধীরগতিতে।
রেলওয়ের সূত্র জানায়, বিগত সরকারের আমলে রেললাইনের সংস্কার, সিগন্যাল আধুুনিকীকরণ, আন্ডারপাস-ওভারপাস নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্পে বাজেটে বরাদ্দ করা দেয়া হয়েছে ঠিকই কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এ কারণে বিভিন্ন এলাকায় রেলস্টেশনের চেহারা সুন্দর হলেও রেলপথের অবস্থা দিন দিন শোচনীয় হয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে সংস্কারকাজ হলেও রেলপথ মেরামত এবং আধুনিকীকরণে কোনো বড় প্রকল্প এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হয়নি।
 
( লেখাটি পড়া হয়েছে ১৪৫ বার )
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নবিরোধী দলের সঙ্গে বসতে চান স্পিকার ড. শিরিন শারমীন চৌধুরী। তার এই উদ্যোগ সফল হবে বলে কি মনে করেন?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2010 The Jaijaidin