বুধবার, মে, ২২, ২০১৩: জ্যৈষ্ঠ ৮, ১৪২০ বঙ্গাব্দ: ১১ রজব , ১৪৩৪ হিজরি, ০৭ বছর, সংখ্যা ৩৩৯ |
| গুগল ওয়েব অনুসন্ধান | অনুসন্ধান |
|
|
বাল্যবিবাহ বাড়াচ্ছে জনসংখ্যাএম মামুন হোসেন শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার হ্রাস, প্রাথমিক শিক্ষায় লিঙ্গভিত্তিক সমতা অর্জন, টিকা ও প্রতিষেধক গ্রহণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের অনেক উন্নয়নশীল দেশের চেয়ে এগিয়ে আছে। তবে বাংলাদেশে বাল্যবিবাহের হার এখনো অনেক বেশি। জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। গত ৩ বছর ধরে এ অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। বাল্যবিবাহের এ উচ্চহার শিশু ও মাতৃমৃত্যু বাড়াচ্ছে, জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে অবদান রাখছে এবং লিঙ্গবিষয়ক সহিংসতার কারণে সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম একটি কারণ হিসেবে বাল্যবিবাহকে চিহ্নিত করা হয়েছে।জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের হিসাব অনুযায়ী দেশের বর্তমান জনসংখ্যা ১৫ কোটি ২৪ লাখ। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৩। প্রতি নারীর প্রজননের হার ২ দশমিক ২। দেশে প্রতি ৩ কিশোরীর মধ্যে দু'জনের বিয়ে হয় ১৮ বছরের আগেই। প্রতি ১০ কিশোরীর মধ্যে ৩ কিশোরীর বিয়ে হয় ১৫ বছরের মধ্যে। দেশের ৩ জনের একজন কিশোরী সন্তানের মা হয়ে যায়। শতকরা ৯০ শতাংশ অভিভাবক কিশোর বয়সেই কন্যা সন্তানের বিয়ে দিয়ে দায়মুক্ত হতে চান। এভাবেই বাল্যবিবাহ দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির চাকাটিকে থমকে যেতে ব্যাহত করছে। সামাজিক গবেষণা থেকে দেখা গেছে, মূলত চারটি কারণে বাল্য বিয়ে হয়। এর মধ্যে পিতৃতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা, দারিদ্র্য-অশিক্ষা ও যৌতুকের চাপ। এ প্রসঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, নিম্নবিত্ত পরিবারে কন্যা সন্তান জন্মানোর লগ্ন থেকেই আমাদের পিতামাতা ও আত্মীয়স্বজনরা বিয়ে দেয়ার চিন্তা শুরু করে দেয়। যে পরিবারে কন্যা বেশি সেই পরিবারে বাবা-মায়ের চিন্তা বেশি। মেয়েদের কোনোমতে তাড়াতাড়ি বিয়ে দিতে পারলেই যেন দরিদ্র পিতামাতা হাঁপ ছেড়ে বাঁচেন। বাল্যবিবাহের হার কমে যাচ্ছে। বিয়ের গড় বয়স বাড়ছে। তিনি বলেন, হতদরিদ্র বাবা-মায়ের ঘর থেকে হতদরিদ্র স্বামীর ঘরে যায় হতভাগ্য কিশোরী মেয়েটি। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই মাতৃত্বের স্বাদ নেয়া ভঙ্গুর স্বাস্থ্যের কিশোরী মেয়েটি তাই জীবনযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কেউ কেউ মা হতে গিয়েই মারা যায়। তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ রোধে মেয়েদের শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মের ব্যবস্থা করতে হবে। দেশে আইনত মেয়েদের সর্বনিম্ন বিয়ের বয়স ১৮ বছর। এই বয়সের নিচে বিবাহকে বাল্যবিবাহ হিসেবে গণ্য করা হয়; যা আইনত দ-নীয় অপরাধ। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়ের সঙ্গে ২১ বছরের কম বয়সী ছেলের বিয়েকেই বাল্যবিয়ে হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। ১৯২৯ সালের বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে বলা হয়েছে, বাল্যকাল বা নাবালক বয়সে ছেলে মেয়েদের মধ্যে বিয়ে-বাল্যবিবাহ। বাল্যবিবাহ আইনের দৃষ্টিতে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। শিশু বিবাহকারী পুরুষ (বর), বিবাহ রেজিস্ট্রেশনকারী কাজী, পিতা-মাতা, অভিভাবকসহ বাল্যবিবাহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিসহ এই বিয়ের সঙ্গে যুক্ত সবাই শাস্তি পাবেন। তবে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে যথাযথ আইন থাকলেও এদেশের ৫০ শতাংশ নারীর বিয়ে হচ্ছে ১৬ বছরের নিচে। গত ১১ মে লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের পশ্চিম বড়ুয়া গ্রামে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর বাল্যবিবাহ বন্ধ করে স্থানীয় প্রসাশন। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হুদা এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আলম হোসেন রাত সাড়ে ১০টায় ওই ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে বিয়ের কার্যক্রম বন্ধ করেন। ওই রাতে আদিতমারী উপজেলার দুড়াকুটি (বিশবাড়ী) গ্রামের পরিমলচন্দ্র রায়ের সঙ্গে ওই কিশোরীর বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস তার নিজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানান, তার সঙ্গে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে লেখাপড়া করা সহপাঠীরা এখন নিজের সংসার সামলাচ্ছেন। তিনি বলেন, যাদের সঙ্গে আমি গোল্লাছুট, বউচি, কানামাছি কিংবা পুতুল খেলেছি, তারা নিজেরা এখন স্বামী, সন্তান নিয়ে সংসার করছে। এটা তার জন্য বর্ণনা করা কঠিন যে, সে কী প্রতিকূল পরিস্থিতি সামাল দিয়ে উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকায় এসে বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন। দেশ থেকে বাল্যবিবাহ বন্ধে সরকারি নীতিমালা প্রয়োগে আরো কঠোর হতে হবে বলে মনে করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী। তিনি বলেন, বাল্যবিবাহের ফলে জনসংখ্যা বাড়ে, মাতৃমৃত্যু হার বাড়ে এবং জন্ম নেয়া শিশু অপুষ্টিতে ভোগে। বাল্যবিবাহের স্বীকার মেয়েটির সামনে এগিয়ে যাওয়াটা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। লেখাপড়া করে নিজেকে বিকাশের কোনো সুযোগ সে পায় না। তিনি বলেন, প্রজনন স্বাস্থ্যের বিষয়ে দেশে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি হলেও প্রজনন অধিকার স্বীকৃত নয়। এতে করে বিয়ের পরপর কিশোরী মা হচ্ছে মেয়েরা। এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী শিক্ষাক্ষেত্রে ছেলে ও মেয়েদের সমতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক সমস্যা। তিনি বলেন, এটা বন্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আইনের কঠোর প্রয়োগ করতে হবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক বলেন, বাংলাদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ২০৫০ সালের মধ্যে ২০ কোটি জনসংখ্যায় স্থির থাকতে পারলেই সেটি আমাদের স্থায়ী জনসংখ্যা হিসেবে গণ্য হবে। বর্তমানে বাল্যবিবাহ অনেক কমেছে। এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন |
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সর্বাধিক মতামত
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নবিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুম নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অগ্রহণযোগ্য_ মানবাধিকার নেত্রী সুলতানা কামালের এই বক্তব্যের সঙ্গে
আপনি কি একমত?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল |