পূর্ববর্তী সংবাদ
মতামত :
¦
¦
নির্বাচনকে সামনে রেখে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে নজর দিচ্ছে সরকারআবু সাইম নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন এলাকার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের দিকে বিশেষ নজর বাড়াচ্ছে সরকার। মেয়াদের শেষ সময়ে এসে অবহেলিত ও অনুন্নত বিভিন্ন অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমানে গতি আনতে উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সম্প্রতি উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এবার দেশের দক্ষিণাঞ্চলের প্রান্তিক পর্যায়ের অবকাঠানো উন্নয়নে সাড়ে ৬০০ কোটি টাকার বিষেশ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। শিগগিরই এটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে। অনুমোদন পেলে ২০১৮ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের কাজ শেষ করবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।
৬৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ের 'বরিশাল বিভাগে পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন শীর্ষক' প্রকল্পে বরিশাল বিভাগের বরগুনা, বরিশাল, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর জেলার ৪০টি উপজেলার পিছিয়েপড়া গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সার্বিক অবকাঠামো উন্নয়ন ঘটানো হবে।
জানা গেছে, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলার সমন্বয়ে গঠিত বরিশাল বিভাগ একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এলাকা। এলাকাটি তুলনামূলকভাবে দরিদ্রপ্রবণ এবং সমুদ্র উপকূলীয় জেলা হিসেবে বিবেচিত। এখানে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা আবশ্যক হলেও এলাকাটি বহু নদ-নদী অধ্যুষিত হওয়ায় কারিগরিভাবে তা কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল। তাই গ্রামীণ অবকাঠামোর অপ্রতুলতা এবং ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদির কারণে এ এলাকা স্বল্পোন্নত। এছাড়া প্রতিবছর বন্যা, ঝড়, জলোচ্ছ্বাসসহ বিভিন্ন দুর্যোগে বিদ্যমান অবকাঠামোগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। তাই এ এলাকা সার্বিক উন্নয়নে প্রকল্পটি নেয়া হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় মূল কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ৫৪৪ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ, ৪৭৬৭ মিটার ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, গ্রামীণ রাস্তা উন্নয়নে ১৯ লাখ ঘন মিটার মাটি ভরাট কাজ, নির্মিত ও সংস্কারকৃত ৪৩৮ কিলোমিটার রাস্তা-সড়কের দু'পাশের বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যা, ২০টি গ্রোথ সেন্টার ও গুরুত্বপূর্ণ হাটবাজার উন্নয়ন এবং ২৬টি ঘাট উন্নয়ন।
এ এলাকায় সড়কসহ এসব অবকাঠামো সুবিধা নিশ্চিত হলে দরিদ্র জনগণের জন্য বাজারে পণ্য সরবরাহ সহজ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। প্রান্তিক এসব জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য-শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি, মাতৃমৃত্যু হ্রাস, অপুষ্টি হ্রাস, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হবে। সরকারের সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জন ও আসছে টেকশই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) সহায়ক হবে।
একই সঙ্গে এটি বাস্তবায়িত হলে প্রকল্প এলাকায় সড়ক উন্নয়নের মাধ্যমে কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণের সুবিধা এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নসহ সার্বিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করা, অবকাঠামোগত বাধা অপসারণ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণে খরচ কমানো, কৃষি ও অকৃষি খাতে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে পল্লী দরিদ্র জনগণের দারিদ্র্য হ্রাসকরণ, ঘূর্ণিঝড়ের সময় আশ্রয়কেন্দ্রে দ্রুত আশ্রয় গ্রহণের সুযোগ পাবে এবং উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে মহিলাদের অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
আলোচ্য প্রকল্পটি বরিশাল বিভাগের ৪০টি উপজেলায় বাস্তবায়িত হবে। এখানে সরকারি ও উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নে উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। অনেক উপজেলা সড়ক, ইউনিয়ন সড়ক, গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নের বাইরে রয়েছে। ফলে এলাকার জনগণ জাতীয় প্রবৃদ্ধি অর্জনে ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারছে না। মোট ৭০০ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে জুলাই ২০১১ হতে জুন ২০১৬ পর্যন্ত মেয়াদে প্রকল্প প্রস্তাব করা হলে ২০১২ সালের জানুয়ারিতে পিইসি সভায় উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনায় (ডিপিপি) ৬৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে জুলাই ২০১২ হতে জুন ২০১৭ মেয়াদে বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়।
এর আগে উত্তরা-পশ্চিমাঞ্চলের ৭ জেলার অনগ্রসর ৫৩ উপজেলার সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যায় ও আওতা বাড়ানো হয়। ৪২৫ কোটি টাকার প্রকল্পে ৩ বছরে ২০৭ কোটি টাকা ব্যয় হলেও নির্বাচন ঘিরে প্রকল্পটির ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ করে ৭৫০ কোটি ৯৪ লাখ টাকা করা হয়। অতিরিক্ত ৩২৬ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে প্রকল্পটির প্রথম সংশোধনী জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির গত বৈঠকে অনুমোদন দেয়া হয়।
দেশের উত্তরা-পশ্চিমাঞ্চলের অনগ্রসর উপজেলাগুলোর (পাবনা, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, নওগাঁ, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও বগুড়া জেলা) গ্রামীণ সড়ক, সেতু/কালভার্ট ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়ন (১ম সংশোধিত) প্রকল্পে উলি্লখিত জেলার ৫৩টি উপজেলার উপজেলা সড়ক, ইউনিয়ন সড়ক ও গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার করা হচ্ছে। মুল প্রকল্প জুন-২০১০ থেকে জুন-২০১৩ এর মধ্যে শেষ হবার কথা থাকলেও সংশোধনীতে ২০১৫ মেয়াদে বাস্তবায়ন লক্ষ্য ধরা হয়েছে। বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
 
পূর্ববর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নবিএনপি সংসদ অধিবেশনে যোগ দিলে দেশের চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট কাটবে বলে কি মনে করেন?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2010 The Jaijaidin