সোমবার, মে, ২০, ২০১৩: জ্যৈষ্ঠ ৬, ১৪২০ বঙ্গাব্দ: ৯ রজব , ১৪৩৪ হিজরি, ০৭ বছর, সংখ্যা ৩৩৭ |
| গুগল ওয়েব অনুসন্ধান | অনুসন্ধান |
|
অদম্য মেধাবীওরা বন্ধুর পথের যাত্রীস্বদেশ ডেস্ক ![]() ইমরান হোসেন খাদিজা আক্তার মাজেদুল ইসলাম নুর আলম হাদীউজ্জামান মজনু মিয়ানানা প্রতিকূলতাকে জয় করে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মেধার স্বাক্ষর রেখেছে এরা। খেয়ে না খেয়ে স্কুলে গেছে। কখনো কখনো নিজে কাজ করে পড়ার খরচ জুগিয়েছে। কেননা, তাদের কারো বাবা দিনমজুর, কারো বাবা ভ্যানচালক কিংবা কারো বাবা ফুটপাতে ব্যবসা করেন। সংসারে নুন আনতে পানতা ফুরানোর অবস্থা। তবু হাল না ছেড়ে অদম্য ইচ্ছা আর সাহসকে পুঁজি করে তারা সাফল্যের প্রথম ধাপ পেরিয়েছে। এখন বিত্তবানদের একটুখানি সহায়তাই এদের পাথেয়। তাদের সহায়তা এদের একদিন অনেক দূর নিয়ে যাবে, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। এরকম কয়েকজনকে নিয়ে খবর পাঠিয়েছেন আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা :ইমরান হোসেন : যশোর পৌর এলাকার পালবাড়ি ঘোষপাড়ার রাশিদুল গাজী ও জেসমিন বেগমের ছেলে ইমরান হোসেন। রিকশাচালক বাবা ও গৃহপরিচারিকা মায়ের ছেলে ইমরান জানে না তার উচ্চশিক্ষা গ্রহণ হবে কি-না; জানে না জীবনযুদ্ধে জয়ী হতে পারবে কি-না? তাই তো জিপিএ-৫ পেয়েও মুখে হাসি নেই তার। জিপিএ-৫ পাওয়ার আনন্দ তাই ঢেকে গেছে শঙ্কার কালো মেঘে। যশোরের নতুন খয়েরতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ইমরান। ইমরান হোসেন জানায়, বাবা-মা, ভাই-বোন নিয়ে তাদের ৫ সদস্যের পরিবার। রিকশাচালক বাবার আয়ে তাদের সংসার চলে না। তাই মাকে নিতে হয়েছে গৃহপরিচারিকার কাজ। বড় ভাই শরিফুল ইসলাম ভালো রেজাল্ট করে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করেছে। কিন্তু অর্থাভাবে আর তার লেখাপড়া এগোয়নি। ছোট বোন তানিয়া খাতুন অষ্টম শ্রেণীতে পড়াশোনা করছে। ইমরান আরো জানায়, এসএসসি পরীক্ষার আগে অন্যের পুরাতন নোট ও গাইড ধার করে পড়তে হয়েছে তাকে। যদিও অর্থাভাবে পরীক্ষা দিতে পারবে কি-না, তা নিয়ে সংশয় ছিল। পরে অন্যের সহযোগিতায় মিলেছে ফরম পূরণের টাকা। মিলন রহমান যশোর হাদীউজ্জামান, মাজেদুল ইসলাম ও নূর আলম : কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার গুনাইগাছ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবীছাত্র হাদীউজ্জামন ও মাজেদুল ইসলাম এবং কালুডাংগা উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবীছাত্র নূর আলম দারিদ্র্যকে জয় করে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। হাদীউজ্জামানের বাবা মাহফুজার রহমান উলিপুর বাজারে ফুটপাতে গেঞ্জির দোকান করেন। ছেলের পড়ার খরচ জোগাতে না পেরে দারস্থ হোন বড় ভাই মাহবুবুর রহমানের। তিনি হাদীউজ্জামানকে গুনাইগাছ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ করে দেন। তবু অন্যান্য খরচ চালানোর জন্য হাদীউজ্জামানকে বিভিন্ন সময়ে অন্যের ছেলেমেয়েদের প্রাইভেট পড়াতে হতো। প্রায় দিন কাটত অর্ধাহারে। তবু হাল ছাড়েনি। অবশেষে সব বাধা অতিক্রম করে সাফল্য ছিনিয়ে এনেছে সে। এজন্য সে বড় কাকা, দাদু পনির উদ্দিন এবং স্কুলের শিক্ষকদের কাছে কৃতজ্ঞ। উলিপুর পৌর সদরের রামদাস ধনীরাম গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ আলী ও গৃহিণী মাহমুদা বেগমের ছেলে মাজেদুল ইসলাম মুরাদ। তার কোনো গৃহশিক্ষক ছিল না কিংবা কখনো প্রাইভেট পড়ারও সামর্থ্য হয়নি। প্রতিদিন স্কুলে গিয়ে শিক্ষক এবং অন্য ছাত্রদের কাছ থেকে পড়া শিখে নিতো। ভালো ফলাফলের জন্য শিক্ষক-শিক্ষিক এবং বাবা মায়ের অবদান সবচেয়ে বেশি বলে সে জানায়। নূর আলমের বয়স যখন ৩ বছর তখন মা নূরভানুকে তালাক দিয়ে বাবা মহসীন আলী বিয়ে করেন অন্য এক মহিলাকে। নূরভানু সন্তানসহ চলে আসেন উলিপুর উপজেলার পশ্চিম কালুডাংগা গ্রামে তার ভাই রিকশাচালক ছাবেদ আলীর বাড়িতে। নূরভানু কাজ নেন অন্যের বাড়িতে। অভাব অনটনের মধ্যে ছেলেকে ভর্তি করান স্থানীয় ব্র্যাক স্কুলে। ব্র্যাক স্কুল থেকে পঞ্চম শ্রেণী পাস করার পর লেখাপড়া নিয়ে আবারো দুশ্চিন্তায় পড়েন তার মা। দরিদ্র মেধাবী জেনে বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ করে দেন কালুুুডাংগা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম। তবে খাতা-কলম, সহায়ক পাঠ্যপুস্তক কিনতে বিভিন্ন সময়ে তাকে মাঠে দিনমজুর ও মামার রিকশা চালাতে হতো। প্রায় দিন কাটত অর্ধাহারে, তবু রাত জেগে পড়াশোনা করত। স্কুলের শিক্ষদের সহযোগিতা তাকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। ভালো পোশাক ছিল না তার। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে পুরাতন পোশাক চেয়ে পড়ত। মমিনুল ইসলাম উলিপুর খাদিজা আক্তার : কুমিল্লার তিতাস উপজেলার জগতপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চল কেশবপুর গ্রামের খাদিজা আক্তার এবার এসএসসি পরীক্ষায় কেশবপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। সে কেশবপুর গ্রামের রিকশাচালক ফয়েজ উদ্দিন ও গৃহিণী মরিয়ম বেগমের মেয়ে। কেশবপুর গ্রামে দোচালা ছোট্ট একটি টিনের ঘরে সাত সদস্যের পরিবারে খাদিজা আক্তারের বসবাস। শত বাধা তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তি না পাওয়ায় খাদিজার বাবা তাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর গার্মেন্টে চাকরি নিতে বলেছিলেন। কিন্তু খাদিজার অদম্য ইচ্ছার কাছে কোনো প্রতিকূলতাই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। সে টিউশনি করে নিজের পড়ার খরচ চালিয়েছে আর এসএসসিতে এত ভালো ফল করেছে। অর্থের অভাবে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ অনিশ্চিত হয়ে পড়লে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন ওই বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতার ছেলে চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. আসাদুল কবির। তার এ সাফল্যের জন্য সে আসাদুল কবির, প্রধান শিক্ষক আলী গোফরান খান ও সহকারী শিক্ষক বিল্লাল হোসেনের কাছে বেশি কৃতজ্ঞ। নাজমুল করিম ফারুক তিতাস মজনু মিয়া : জয়পুরহাটের কালাই পৌরসভার অাঁওড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে মজনু মিয়া। তার বাব সামছুল হক পেশায় ভ্যানচালক। আর মা রশিদা বিবি অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেন। এক ভাই এক বোনের মধ্যে মজনু ছোট। মজনুর বাবা আগে দিনমজুরি করে সংসার চালাতেন। সবদিন কাজ না পাওয়ায় মাঝে মধ্যেই স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে থাকতে হতো। তাই আশা ব্যাংক থেকে সাপ্তাহিক কিস্তিতে ১০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে একটি ভ্যানগাড়ি কেনেন। ঋণের টাকা শোধ না হতেই মেয়ে সামসুন নাহারের বিয়ের সম্বন্ধ আসে। মেয়ের বিয়েতে যৌতুকসহ অন্যান্য খরচের জন্য এনজিও জাকস থেকে আরো ১০ হাজার এবং গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ২৫ হাজার টাকা নতুন করে ঋণ নেন। তিন ব্যাংকের কিস্তির টাকা জোগাড় করতে গিয়ে হাঁফিয়ে ওঠেন সামছুল। অগত্যা হাল ধরে মজনু। স্কুলে যাওয়ার আগে ২ ঘণ্টা আর বিকালে স্কুল থেকে ফিরে ২-৩ ঘণ্টা নিয়মিত ভ্যান চালাত সে। তবু থেমে না গিয়ে সব বাধা পেরিয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফল করেছে সে। সে সবার সহযোগিতা চায়। আতাউর রহমান কালাই
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন |
স্বদেশ -এর আরো সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সর্বাধিক মতামত
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নঢাকায় আগামী এক মাস সব রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্ত আপনি সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল |