রোববার, মে, ২৬, ২০১৩: জ্যৈষ্ঠ ১২, ১৪২০ বঙ্গাব্দ: ১৫ রজব , ১৪৩৪ হিজরি, ০৭ বছর, সংখ্যা ৩৪৩ |
| গুগল ওয়েব অনুসন্ধান | অনুসন্ধান |
|
সিমকার্ডের শুল্ক কমায় ৯০০ কোটি টাকা রাজস্ব হারাবে সরকারযাযাদি রিপোর্ট ![]() মোবাইল অপারেটরদের দাবির মুখে বাজেটের আগেই সিমকার্ড এবং থ্রি-জির ওপর মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট ৫০ শতাংশ কমিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনিবআর)। সিমকার্ডে বিদ্যমান মূসক সিমপ্রতি ৬০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৩০০ টাকা এবং থ্রি-জির নিলাম মূল্যের ওপর ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে অপারেটররা লাভবান হলেও অন্ততপক্ষে ৯০০ কোটি টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হবে সরকারের রাজস্ব আদায়ে নিয়োজিত এ সংস্থাটি। আর তা সংস্থাটির ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন সংস্থার কর্তাব্যক্তিরা।জানা গেছে, গত অর্থবছরে (২০১১-১২) মোবাইলের সিমকার্ডের ভ্যাট বাবদ প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা আদায় করেছে এনবিআর। চলতি অর্থবছরের আদায় প্রায় কাছাকাছি হবে বলে আশাবাদী সংস্থাটি। তবে ভ্যাট কমায় আগামী অর্থবছরে এ খাতে ভ্যাট আদায় অর্ধেকে নেমে আশার আশঙ্কা করছে তারা। পাশাপাশি সংস্থাটি আশা করছে, থ্রি-জি লাইসেন্সের ওপর ভ্যাট বাবদ ৫০০ কোটি টাকা আদায় হবে। বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি অথরিটি (বিটিআরসি) প্রতি মেগাহার্টজ তরঙ্গ বরাদ্দের ভিত্তিমূল্য ২ কোটি ডলার নির্ধারণ করেছে। বিটিআরসি মোবাইল অপারেটরদের জন্য মোট ২১০০ ব্র্যান্ডের ৫০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ বরাদ্দ রেখেছে, যার মূল্য ১০০ কোটি ডলার। এছাড়া রাষ্ট্রীয় মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটকের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে ১০ মেগাহার্টজ। এ বিষয়ে এনবিআরের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, অপারেটরদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সিমকার্ড এবং থ্রি-জির ভ্যাট অর্ধেকে নামিয়েছে। এতে অপারেটররা লাভবান হবে। কিন্তু এনবিআর বিশাল অঙ্কের রাজস্ব হারাবে। সিমকার্ড বিক্রির ক্ষেত্রে ভ্যাট কমবে কমপক্ষে ৪০০ কোটি টাকা। আর থ্রি-জির নিলাম থেকে কমবে আরো ৫০০ কোটি টাকা। এর ফলে আগামী অর্থবছরের ভ্যাটের লক্ষ্যমাত্রা অজর্নে সমস্যায় পড়তে হতে পারে সংস্থাটি। জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মোবাইল অপারেটররা অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বিটিআরসির কাছে সিমকার্ড এবং থ্রি-জির ভ্যাট কমানোর দাবি জানিয়ে আসছিল। তাদের এসব দাবির পরিপ্রেক্ষিতে থ্রি-জি নিলামের তারিখ ২৪ জুন থেকে পিছিয়ে ৩১ জুলাই নির্ধারণ করে বিটিআরসি। চলতি অর্থবছরের বাজেটের আগেই ভ্যাট কমানোর দাবি করে অপারেটররা। তবে তা বাস্তবায়িত হয়নি। ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় অপারেটররা সিমকার্ডের মূসক কমানোর প্রস্তাব করে। এদিকে, গত ২৫ মার্চ বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) সিমকার্ড বিক্রি এবং থ্রি-জি লাইসেন্স থেকে প্রাপ্ত রাজস্বের ওপর কর কমানোর জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে সুপারিশ করে। আর অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা পেয়েই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়। বোর্ড গত সপ্তাহে অপারেটরদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকের পর সিমের কর এবং থ্রি-জি লাইসেন্সের ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেয়। একই দিন এ সংক্রান্ত একটি এসআরও জারি করে এনবিআর। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো মোবাইল ফোনের সিমকার্ডের ওপর থেকে কর কমল। সর্বপ্রথম সিমকার্ডের ওপর ৯০০ টাকা ভ্যাট প্রস্তাব করা হয়। তবে ২০১০-১১ অর্থবছরে এই ট্যাক্স ছিল ৮০০ টাকা। ২০১১-১২ অর্থবছরের বাজেটে সিমকার্ডের ট্যাক্সের হার ২০০ টাকা কমিয়ে ৬০০ টাকা করা হয়। এ হার বর্তমান অর্থবছরেও অপরিবর্তিত রয়েছে। আর আগামী অর্থবছরের বাজেটের আগেই তা কমিয়ে ৩০০ টাকা করা হয়েছে। ৩ বছরে ৫০০ টাকা কমেছে সিমপ্রতি ভ্যাটের পরিমাণ। উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশে গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি, এয়ারটেল, সিটিসেল এবং রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিটক ফোন অপারেটর সেবা দিচ্ছে। বিটিআরসির হিসাবমতে, গত ফেব্রুয়ারির শেষে দেশের সক্রিয় মোবাইল ফোন গ্রাহক সংখ্যা ৯ কোটি ৮৫ লাখ ৯৩ হাজার। এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বরের শেষে গ্রাহক সংখ্যা ছিল ৯ কোটি ৮৪ লাখ ৬৬ হাজার। মোবাইল অপারেটররা অভিযোগ করছে, সিমের মূল্য সংযোজন করের জন্য টেলিযোগাযোগ খাতে অগ্রগতি হচ্ছে না। গ্রাহক সংখ্যা বাড়ানোর জন্য অপারেটরদের ভ্যাটসহ গড়ে সিমপ্রতি ১ হাজার টাকার বেশি গুনতে হয়। বড় অপারেটরগুলো তা দিতে পারলেও, কম গ্রাহক সংখ্যার অপারেটররা এ নিয়ে বিপাকে পড়ছে। মোবাইল ফোনসেবা এবং সিম সংযোজনের ওপর মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট আরোপ রয়েছে। এরমধ্যে সিমের কর দেয় অপরারেটররা। আর গ্রাহকরা তাদের বিলের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট দেন। এদিকে, আগামী অর্থবছরে এনবিআরকে মোট ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯০ কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে ভ্যাটে বর্তমান লক্ষ্যমাত্রা ৪০ হাজার ৪০০ কোটি টাকার ওপর ২৬ দশমিক ২৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে নতুন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫১ হাজার কোটি টাকা, যা বতর্মানের চেয়ে ১০ হাজার ৬০০ কোটি টাকা বেশি। আর বর্তমান লক্ষ্যমাত্রা ৩৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকার চেয়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে আয়কর খাতে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৮ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩৭ শতাংশ। শুল্ক খাতে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। মাত্র ১৯০ কোটি টাকা বাড়িয়ে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার ৭৯০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের শেষ দিকে এসে প্রতিকূল পরিবেশের কারণে রাজস্ব আদায়ে ভাটা দেখা দিয়েছে। মাসওয়ারি রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ করতে পারছে না। সে হিসাবে বছর শেষে এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে না পারার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে আগামী অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সংশয় প্রকাশ করছেন এনবিআর সংশ্লিষ্টরা।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন |
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সর্বাধিক মতামত
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্ননারীরাই বাংলাদেশের সমাজকে বদলে দিয়েছে_ নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এই বক্তব্য আপনি
সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল |