পূর্ববর্তী সংবাদ
মতামত :
¦
¦
লিগেও টাকার দায়িত্ব নিচ্ছে বিসিবিক্রীড়া প্রতিবেদক বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ২০১৩ মৌসুমের ঘরোয়া বর্ষপুঞ্জিতে প্রিমিয়ার লিগের দল বদলের সময় ছিল মার্চে। তবে ওই সময় বেশ কয়েকটি ক্লাব দল বদলের বাজারে ক্রিকেটারদের সঙ্গে শুধু চুক্তিই নয় অগ্রিম টাকাও পেঁৗছেও দিয়েছিল ক্রিকেটারদের হাতে। কিন্তু মঙ্গলবার ক্রিকেট বোর্ডের ঘোষণায় বাতিল করা হয় 'ক্লাব-ক্রিকেটারদের' আগের সেই চুক্তিপত্র। আর এই নতুন সিদ্ধান্তে ক্লাবগুলোর কোনো আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে না বলেই মনে করছে ক্রিকেট বোর্ড। কারণ ক্রিকেটারদের কাছ থেকে আগের সেই টাকা তুলে দেয়ার দায়িত্বও নিয়েছে বিসিবি। শুধু তাই নয়, বৃষ্টির মৌসুমে লিগ আয়োজনের ঘোষণায় ক্লাবগুলো যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তার জন্য বোর্ড থেকে আর্থিক সাহায্যের আশ্বাসও দেয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন ক্লাব কর্মকর্তারা।
কারণ দেশের ক্রিকেট এখন যে অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে, তার পেছনে ঢাকার ক্লাবগুলোর অবদান রয়েছে অনেকখানি। বিশেষ করে একটা সময় ক্রিকেটারদের উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন ছিল ঢাকার প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ। আগের মতো এখনো দেশের ক্রিকেটারদের জীবিকার অন্যতম উৎস হচ্ছে প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ। আর সে জন্য লিগের দাবি নিয়ে রাজপথেও নামতে পারেন ক্রিকেটাররা। তাইতো ঢাকার ক্লাবগুলোর অভাবের দিনে পাশে পাচ্ছে বিসিবিকে। ক্রিকেট বোর্ডের এখন সুদিন। তাছাড়া অর্থনৈতিকভাবে বেশ ফুলেফেপে উঠেছে বিসিবি। এখন খেলার জন্য বোর্ড কোটি কোটি টাকা ব্যয় করতে পিছপা হয় না। আর এই সুযোগে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান অনুদানের মোড়কে আর্থিক সুবিধা নিচ্ছে বিসিবির কাছ থেকে। ঢাকা প্রিমিয়ার বিভাগ ক্রিকেট লিগের দলগুলো গত মৌসুমেই বোর্ডের কাছ থেকে অনুদান হিসেবে ৩৫ লাখ টাকা করে পেয়েছিল। এবারো বিসিবির কাছ থেকে বড় অঙ্কের অনুদানের অপেক্ষায় রয়েছে ক্লাবগুলো। তাছাড়া বিসিবির নীতিনির্ধারক পর্যায়ে প্রিমিয়ার বিভাগের কর্মকর্তারা থাকায় অনুদান পেতে সহজও হয়। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান গত মঙ্গলবার ক্লাব প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে অনুদান দেয়ার বিষয়টি উল্লেখও করেছিলেন। অর্থাৎ এবার প্রিমিয়ার বিভাগের ১২টি ক্লাবই অনুদান পাচ্ছে। ক্লাব সূত্র জানিয়েছে, এই অনুদান ৩৫ লাখ টাকা থেকে ৫০ লাখে উন্নীত হচ্ছে।
ক্রিকেট বোর্ডের এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে, চলতি মৌসুমে প্রথম বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগ এবং তৃতীয় বিভাগের দলগুলোও অনুদানের জন্য একাট্টা হয়েছিল। ভবিষ্যতে ক্লাব ক্রিকেটে টাকা দিতে গিয়ে সঞ্চিত তহবিলেও হাত দিতে হতে পারে বিসিবিকে। কাজেই অনুদানের দাবি উঠতে পারে অন্য মহানগরী থেকেও। এসব জেনেও ক্লাবগুলোকে অনুদান দেয়ার পক্ষেই যুক্তি তুলে ধরেন বিসিবি অ্যাডহক কমিটির সদস্য এবং মিডিয়া ও সিসিডিএমের চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'ইংলিশ ক্রিকেট বোর্ড কাউন্টি দলগুলোকে প্রচুর অর্থ দিয়ে থাকে। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো এই সুবিধা পায় না। কারণ তাদের স্পন্সর রয়েছে, অর্থ সংগ্রহের অনেক পথ খোলা তাদের হাতে। কিন্তু ক্লাবগুলো কেবল খরচই করে। তাদের আয়ের উৎস তেমন একটা নেই। কোনো কাভারেজও তারা পায় না। তাই সেক্ষেত্রে প্রিমিয়ার বিভাগের পাশাপাশি প্রথম বিভাগ, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় বিভাগ দলগুলোকে আনুপাতিক হারে অনুদান দিতে পারলে ভালো হয়। অবশ্যই ক্রিকেট বোর্ডের সামর্থ্যের মধ্যে হতে হবে ওই অনুদান।'
জালাল ইউনুসের মতো আবাহনীর কর্মকর্তা এবং বিসিবি অ্যাডহক কমিটির সদস্য আহমেদ সাজ্জাদুল আলমও কাবগুলোকে অনুদান দেয়ার পক্ষে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'কারণ দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নেই কাজ করে থাকে ক্লাবগুলো। তাই ক্রিকেট বোর্ডের কাজ তারা পরোক্ষভাবে করে যাচ্ছে। আর সেজন্য একটা অনুদান পেতেই পারে। যেহেতু ঢাকার বাইরে খেলা হবে, ফলে ক্লাবের ব্যয়ও অনেক বেড়ে যাবে। এদিক থেকে ভাবলে, এই সুবিধা ঢাকার প্রিমিয়ার ক্লাবগুলোকে দেয়া যায়।'
এদিকে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের পেছনে অন্য যেকোনো টুর্নামেন্টের চেয়ে বোর্ডের ব্যয় বেশি। ১২টি ক্লাবকে অনুদান দেয়া ছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনায় অনেক খরচ গুণতে হয় বিসিবিকে। তাই এভাবে চলতে থাকলে ক্লাবগুলো স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পরিবর্তে ক্রিকেট বোর্ডের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে ক্রিকেট বোর্ডে তৈরি হতে পারে অর্থনৈতিক সঙ্কট।
 
পূর্ববর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্ননির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে সংলাপের আয়োজনে বিএনপির অনুরোধে সরকার সাড়া দেবে বলে কি মনে করেন?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2010 The Jaijaidin