সোমবার, মে, ২০, ২০১৩: জ্যৈষ্ঠ ৬, ১৪২০ বঙ্গাব্দ: ৯ রজব , ১৪৩৪ হিজরি, ০৭ বছর, সংখ্যা ৩৩৭ |
| গুগল ওয়েব অনুসন্ধান | অনুসন্ধান |
|
সভা সমাবেশ
১ মাস নিষিদ্ধস্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মহীউদ্দীন খান আলমগীর রোববার সকালে মিরসরাইয়ে বলেছেন, সারাদেশে সভা সমাবেশ এক মাস নিষিদ্ধ থাকবে। আবার রাতে বিবিসিকে বলেছেন অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ থাকবেযাযাদি রিপোর্ট ![]() স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেছেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার স্বার্থে আগামী ১ মাস সারাদেশে কোনো রাজনৈতিক দলকে সাধারণত সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হবে না। রোববার দুপুরে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় নতুন স্থাপিত জোরারগঞ্জ থানা উদ্বোধনের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।তিনি আরো জানান, অনেকেই প্রতিশ্রুতি দেন শান্তিপূর্ণভাবে সভা-সমাবেশ করবেন। কিন্তু পরে দেখা যায়, সভা-সমাবেশের মাধ্যমে তারা জানমালের নিরাপত্তা বিঘি্নত করেন, দেশকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যান। সম্প্রতি হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে তা প্রমাণ হয়েছে। এসব কারণে রাজধানীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে আগামী ১ মাস সাধারণত সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। মন্ত্রী আরো বলেন, তবে কেউ যদি সদাচরণের প্রতিশ্রুতি দেন, তাহলে সভা-সমাবেশের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। তবে এর আগে অনেকেই প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভঙ্গ করেছেন। তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলাম তাদের এ ধরনের কর্মসূচিতে শাপলা চত্বরে ৬৩৫টি কোরআন শরিফ পুড়িয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পরে বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, অনির্দিষ্টকালের জন্য ঢাকায় সব রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। রাজনৈতিক দলগুলো শান্তিপূর্ণভাবে সভা-সমাবেশ করবে_ এমন নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত রাজধানীতে কোনো দলকেই সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হবে না। তিনি বলেন, সংবিধানে যুক্তিসঙ্গত বিধিনিষেধ সাপেক্ষে সভা-সমাবেশের অধিকার দেয়া আছে। এর অর্থ হলো_ সমাবেশ যারা করবেন, তারা জনগণের সম্পত্তি নষ্ট করবেন না, গাড়ি-বাস-ট্রেনে আগুন দেবেন না, কোরআন শরিফ পোড়াবেন না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা নিশ্চিত না হচ্ছেন, সমাবেশের নামে দুর্বৃত্তরা ওই ধরনের কাজগুলো করবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত এই যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধের আওতায় তারা সভা-সমাবেশের অনুমতি না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। 'এটা হবে অনির্দিষ্টকালের জন্য।' মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, রাজনৈতিক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে গত কিছু দিন যেসব ঘটনা ঘটেছে, তা নতুন। ঢাকায় যে মাত্রায় এগুলো ঘটেছে, তা আর কোথাও হয়নি। তাই ঢাকার ক্ষেত্রেই সভা-সমাবেশ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তার মানে কি ঢাকাকে নিরাপদ করার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে? এমন প্রশ্নের জবাবে আলমগীর বলেন, 'আমরা সব জায়গাকেই নিরাপদ রাখতে চাইছি।' তিনি বলেন 'বিরোধী দল জননিরাপত্তা বিঘি্নত করেছে, কোরআন শরিফ পর্যন্ত পুড়িয়েছে এবং ৪৮ ঘণ্টায় নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার অগণতান্ত্রিক-স্বৈরতান্ত্রিক হুমকি দিয়েছে।' তার কথায়, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা দেশের আইন মান্য করার চেতনা না দেখায়, ততক্ষণ পর্যন্ত এসব ব্যবস্থা নিতেই হবে। এ ছাড়া গতকাল দুপুরে ধানম-ির আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এ ব্যাপারে বলেন, 'সব সময় সাংবিধানিক অধিকার বাস্তবায়ন হয় না। 'মহাসেনে'র প্রভাবে মৃত্যুর হার বেশি না হলেও অনেক বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। সেখানে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দেশে একটি স্বাভাবিক পরিস্থিতি প্রয়োজন। এ জন্য ১ মাস সভা-সমাবেশ করতে না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এটি শুধু বিরোধী দলের ওপর নয়, সরকারি দলের ওপরও কার্যকর হবে।' তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান এ বিষয়ে বলেন, এভাবে বাধা বা নিষেধাজ্ঞা দেয়াটা অসাংবিধানিক। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা দেখিয়ে পুলিশ তা করতে পারে। বিশেষ ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার সুযোগও আইনে রয়েছে। কিন্তু সেটা সব সময় চলতে পারে না। সভা-সমাবেশ কিংবা বক্তৃতা দেয়ার অধিকার সবার আছে। এতে বাধা সৃষ্টি করা ঠিক নয়। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার বলেন, সরকার পরিকল্পিতভাবে বাকশালের দিকে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বলেছিল, বঙ্গবন্ধু ১৯৭৫ সালে যে বাকশাল গঠন করেছিলেন, তা সঠিক ছিল। সে লক্ষ্যে তারা কাজ করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগ সরকার ক্রমান্বয়ে সংবাদমাধ্যম এবং বিরোধী রাজনীতিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে চলেছে। সর্বশেষ ১ মাসের জন্য সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হলো। এসবের একমাত্র উদ্দেশ্য ভিন্নমত দমন করা। তারা পরিকল্পিতভাবেই বাকশালের দিকে ধাবিত হচ্ছে। আর এ ক্ষেত্রে যে-ই বাধা দিতে যাবে, তাকেই তারা 'টার্গেট' করবে। তবে সরকারের এ ধরনের আচরণের 'সমান প্রতিক্রিয়া' হবে এবং জনগণ একদিন এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়া মনে করেন, সরকারের এই সিদ্ধান্তে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনগুলো (আন্ডারগ্রাউন্ড) উৎসাহী হবে। প্রকাশ্যে রাজনীতির সুযোগ না থাকলে যারা গোপন রাজনীতি করে, তাদের জন্য এটি সহায়ক হবে আর তা ভবিষ্যতের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় হতে পারে। ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, এই সিদ্ধান্ত হলো, মাথা ব্যথার কারণে মাথা কেটে ফেলার মতো। কোনো গণতান্ত্রিক দেশে সভা-সমাবেশ বন্ধের সিদ্ধান্ত ভালো নয়। এর মাধ্যমে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনীতিকরা আরো উদ্বুব্ধ হবে। তারা সরকারকে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছেন। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, যারা তা-ব করে, তাদের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হোক। সরকার জামায়াত ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধ করুক। সরকার তা না করে জনগণের অধিকার হরণ করছে। তিনি মনে করেন, প্রশাসনিকভাবে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা যাবে না। এ জন্য জনগণকে সংগঠিত হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক নূরুর রহমান সেলিম বলেন, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে প্রয়োজনে সরকার এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতেই পারে। তবে এটি গণতান্ত্রিক প্রয়োজনে করতে পারে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত কেন নেয়া হলো, সেটা তারা জানেন না। এই সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে সরকারকে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট ব্যাখা দেয়া প্রয়োজন। ( লেখাটি পড়া হয়েছে ১৮৬ বার )
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন |
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সর্বাধিক মতামত
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নঢাকায় আগামী এক মাস সব রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্ত আপনি সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল |