মতামত :
¦
¦
দিশাহারা হেফাজতঅনিন্দ্য চৌধুরী চট্টগ্রাম ঢাকা অবরোধ এবং মতিঝিলের সহিংসতার পর দিশাহারা হেফাজতে ইসলাম এখন আইনি পথ খুঁজছে। মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরী গ্রেপ্তার হওয়ার দুই সপ্তাহ পরও সংগঠনের পক্ষ থেকে কার্যত তাকে আইনি সহায়তা দেয়া সম্ভব হয়নি। এ পরিস্থিতিতে হাইকোর্টে আইনি সহায়তায় বিশেষ টিম গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন আমির আহমদ শফী। বৃহস্পতিবার হেফাজতপন্থী কয়েকজন আইনজীবী হাটহাজারী মাদ্রাসায় তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এদিকে, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বাবুনগরীকে উদ্ধৃত করে দেয়া তথ্যকে ভিত্তিহীন আখ্যায়িত করে আমির শাহ আহমদ শফী বুধবার রাতে বিবৃতি দেয়ার পরপর তা রহস্যজনক কারণে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। সিনিয়র নেতারা বলছেন, সরকারের দমন-পীড়নের কারণে মুখোমুখি অবস্থানে না গিয়ে এই মুহূর্তে কৌশলগতভাবে আইনি লড়াইকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে।
রিমান্ডে থাকা হেফাজতে ইসলামের মহাসচিবকে উদ্ধৃত করে ৫ মের মতিঝিলের সমাবেশ পরবর্তী নানা তথ্য আসছে গণমাধ্যমে। সমাবেশের দিন বিকাল থেকে সমাবেশের নিয়ন্ত্রণ হেফাজতের সঙ্গে থাকা ১৮ দলের শরিক নেতাদের হাতে চলে যাওয়া, এসব দলের ১৮ জন নেতার নাম প্রকাশ, সহিংসতা ও কোরআন পোড়ানোর ঘটনায় বিএনপি-জামায়াতকে দায়ী করা, সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনের জন্য বিএনপির দুই শীর্ষ নেতার খাদ্য ও পানীয় দিয়ে সাহায্য- ইত্যাদি বিষয় এসেছে আদালতে দেয়া হেফাজতের মহাসচিবের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে। বুধবার প্রথম বিবৃতির মাধ্যমে এর প্রতিবাদ জানান হেফাজতের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী। ৬ মে পুলিশ প্রহরায় চট্টগ্রাম পাঠিয়ে দেয়ার পর একরকম নীরবে সময় পার করছিলেন আল্লামা শফী।
আল্লামা আহমদ শফী বিবৃতিতে বলেন, 'হেফাজতে ইসলামের কোনো নেতাকর্মীই সেদিন আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিলেন না। আমাকে অবহিত করা ছাড়া কোনো কর্মসূচি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের ক্ষমতাও কাউকে দেয়া হয়নি।' তিনি স্পষ্ট সংশয় প্রকাশ করে বলেন, রিমান্ডে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর কাছ থেকে জোর করেই এমন বিভ্রান্তিমূলক স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে। তিনি সরকারের প্রতি দমন-পীড়ন ও জবরদস্তিমূলক তৎপরতা বন্ধ করে উলামায়ে কেরামের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং হামলা-মামলা বন্ধ করে হেফাজতে ইসলামের উত্থাপিত ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়নের উদাত্ত আহ্বান জানান।
যদিও হেফাজতের বক্তব্য-বিবৃতি নিয়ে গণমাধ্যমে কয়েক দিন বিভ্রান্তি চলছিল। সংগঠনের আমিরের নাম ও প্যাড ব্যবহার করে নানাভাবে পত্রপত্রিকায় বিবৃতি দেয়া হচ্ছিল, যার কোনোটিই প্রকৃতভাবে আমিরের বক্তব্য নয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা জানান, আগের মতোই শাহ আহমদ শফীকে ব্যবহার করে একটি মহল ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে। ৯৫ বছর বয়সী আহমদ শফী বাস্তবে এসব বিষয়ে কতটুকু জানেন বা তার কতটুকু সমর্থন আছে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
এদিকে, মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরীর বক্তব্যের জবাবে আমির আহমদ শফীর স্বাক্ষর করা বিবৃতি দেয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে বুধবার তা আবার প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। এতে সৃষ্টি হয়েছে রহস্য। হেফাজতের ভেতরে নানা মত ও পথের বিস্তারের বিষয়টি চলে আসছে সামনে।
এ প্রসঙ্গে শাহ আহমদ শফীর প্রেস সচিব মুনির আহমদ যায়যায়দিনকে বলেন, আমিরের স্বাক্ষর সংবলিত বিবৃতি পত্রিকা অফিসে পেঁৗছে দেয়ার পর তিনি আবার তা প্রত্যাহার করে নেন। বাবুনগরী যেহেতু আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবাবন্দিতে এসব বক্তব্য দিয়েছেন বলে বলা হচ্ছে, তাই আইনজীবীর মাধ্যমে আইনগতভাবে বিবৃতি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ কারণে আমির মহোদয়ের ব্যক্তিগত বিবৃতি প্রত্যাহার করা হয়েছে।
মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরী গ্রেপ্তার হওয়ার পর সংগঠনের দাপ্তরিক কাজ সামলাচ্ছিলেন সাহিত্য সম্পাদক আশরাফ আলী নিজামপুরী। বিবৃতি দেয়ার পর তা প্রত্যাহার করার কারণ কী- এমন প্রশ্নে কিছুটা বিব্রত নিজামপুরী যায়যায়দিনকে বলেন, 'প্রেস সচিব মুনির আহমদ কাজটি করেছেন। তার সঙ্গে কথা বলেন।'
হেফাজতের আরেক শীর্ষ নেতা আবদুর রহমান চৌধুরী বলেন, হেফাজতের আমিরের উপদেষ্টা কমিটি বাবুনগরীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আরো যাচাই-বাছাই করছে। দু-এক দিনের মধ্যে আবার ব্যাখ্যা দিয়ে সংগঠনের অবস্থান পরিষ্কার করা হবে। তিনি বলেন, সামনে কওমি মাদ্রাসা বোর্ডের পরীক্ষা। আপাতত মাঠের কোনো কর্মসূচি নেই। আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম চালাচ্ছে হেফাজতে ইসলাম।
এদিকে, আইনি কার্যক্রম বেগবান করার অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার হেফাজতে ইসলামের অস্থায়ী প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামের হাটহাজারী মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় সংগঠনের আমির আহমদ শফীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন সম্প্রতি গঠিত হেফাজত আইনজীবী ফোরামের নেতারা। এ সময় সিলেটের সাবেক সংসদ সদস্য শাহীনুর পাশার নেতৃত্বে একটি দলও তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। হেফাজত আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব নেজাম উদ্দিন নিজাম যায়যায়দিনকে বলেন, আমির আটক থাকা মহাসচিব বাবুনগরীর জামিন ও গ্রেপ্তার হওয়া নেতাকর্মীদের মুক্ত করতে আইনি কার্যক্রম জোরালো করার পরামর্শ নেন। বর্তমানে বিএনপিপন্থী আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বাবুনগরীকে আইনি সহায়তা দিচ্ছেন। হাইকোর্টে মামলা পরিচালনার জন্য শিগগিরই একটি টিম গঠন করা হবে। এছাড়া সিলেটে হেফাজত আইনজীবী ফোরামের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নসংলাপে তৃতীয় পক্ষে মধ্যস্থতার দরকার নেই_ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডবিস্নউ মজিনার এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি কি একমত?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2010 The Jaijaidin