মঙ্গলবার, জুন, ১৮, ২০১৩: আষাড় ০৪, ১৪২০ বঙ্গাব্দ: ৮ শাবান, ১৪৩৪ হিজরি, ০৮ বছর, সংখ্যা ১৩ |
| গুগল ওয়েব অনুসন্ধান | অনুসন্ধান |
|
|
ফাঁসি তো দেবেনই, পরোয়া
করি না : সাকা চৌধুরীমানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারযাযাদি রিপোর্ট ![]() মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন কাদের সাকা চৌধুরী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১কে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, 'আমাকে ফাঁসিতো আপনারা দেবেনই কিন্তু আমি পরোয়া করি না।'সোমবার নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন সাকা চৌধুরী। তিনি আরো বলেন, 'আমার বিচার হচ্ছে উত্তরাধিকার সূত্রে। তাই আমার চাচা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে আমার বাবা ফজলুল কাদের চৌধুরীর সম্পর্কও আমি আমার সাক্ষ্যে আনতে চাই। কে বঙ্গবন্ধু আর কে ফজলুল কাদের চৌধুরী- সেটাও আনতে চাই।' বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হকের দুই সদস্যের ট্রাইব্যুনাল সাকা চৌধুরীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীর উপস্থিত ছিলেন না। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ রিমন আর সাকা চৌধুরীর পক্ষে ছিলেন তার দুই আইনজীবী অ্যাডভোকেট এএইচএম আহসানুল হক হেনা ও ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম। সাকা চৌধুরীর পক্ষে তিনি নিজেসহ ৫ জন সাক্ষী সাফাই সাক্ষ্য দেবেন বলে নির্ধারণ করে দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। সোমবার প্রথম সাফাই সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেয়া শুরু করেছেন সাকা চৌধুরী। সাক্ষ্যগ্রহণ অসমাপ্ত অবস্থায় মঙ্গলবার পর্যন্ত মুলতবি করেছেন ট্রাইব্যুনাল। সাক্ষ্য দেয়ার আগে সাকা চৌধুরীর সঙ্গে তার দুই আইনজীবী অ্যাডভোকেট এএইচএম আহসানুল হক হেনা ও ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলামকে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় এক ঘণ্টা সাক্ষাতের অনুমতিও দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। ইংরেজিতে দেয়া প্রায় সোয়া দুই ঘণ্টার সাক্ষ্যের মধ্যে সোয়া এক ঘণ্টাই নিজের বংশ পরিচয় তুলে ধরেন সাকা চৌধুরী। সাক্ষ্য শুরুর আগে নিয়ম অনুসারে আদালতে শপথ নিতেও অস্বীকৃতি জানান তিনি। এ সময় তিনি চিৎকার করে বলতে থাকেন, 'আমি একজন সংসদ সদস্য। আমি কেন এখানে শপথ নেব?।' পরে শপথ ছাড়াই সাক্ষ্য দিতে শুরু করেন সাকা চৌধুরী। বঙ্গবন্ধুর প্রশংসা করে সাকা চৌধুরী তার সাক্ষ্যে বলেন, স্বাধীনতার পর মাত্র তিন মাসের মধ্যেই বঙ্গবন্ধু ভারতীয় সৈন্যদের ফেরত পাঠিয়েছেন। এ সময় তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির উদাহরণ দেন। আসামির কাঠগড়া থেকে নেমে সাক্ষীর কাঠগড়ায় ওঠার আগে গণহত্যা-অগি্নসংযোগ-লুটপাটে অভিযুক্ত প্রসিকিউশনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, 'আমি ইংরেজিতে জবানবন্দি পেশ করি আর তোমরা তরজমা করতে থাকো।' এ সময় ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন সালাউদ্দিন কাদেরের স্ত্রী, দুই ছেলে, বড় ছেলের স্ত্রী, মেয়ে ও মেয়ের স্বামী। আদালত মুলতবি হওয়ার পর আদালত কক্ষে তাদের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি পান তিনি। প্রায় ৪৫ মিনিট বাবার সঙ্গে থেকে ছোট ছেলে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, তিনি আল্লাহর রহমতে সুস্থ আছেন। কী কথা হয়েছে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আমরাও শক্ত আছি, সেটাই তাকে জানালাম আর কী। এছাড়া অন্যান্য পারিবারিক আলাপ হয়েছে।' সকালে আদালতের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পরপরই সাফাই সাক্ষীর সংখ্যা বাড়ানোর আবেদনের ওপর শুনানি করেন সালাউদ্দিন কাদেরের আইনজীবী ফখরুল ইসলাম। তখন আসামির কাঠগড়ায় থাকা সালাউদ্দিন কাদের বলেন, 'আমার সাফাই সাক্ষীদের মধ্যে অনেকে দেশে-বিদেশে অবস্থান করছেন। বিচারপতিও রয়েছেন। তাদের সঙ্গে পরামর্শ করার জন্য, আদালতে হাজির হওয়ার জন্য পরোয়ানা জারির জন্য সময় প্রয়োজন। তাই আমাকে সময় দেয়া দরকার।' তবে এই আবেদনের বিরোধিতা করেন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম। পরে তাকে এজলাস কক্ষের আসামির কাঠগড়া থেকে সাক্ষীর কাঠগড়ায় আসার জন্য বলেন জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। সাক্ষীর কাঠগড়ায় উঠে সাকা চৌধুরী তার সামনে কম্পিউটার মনিটর রাখার আবেদন করলে তার বিরোধিতা করেন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম ও সুলতান মাহমুদ। এ সময় সালাউদ্দিন কাদের বলেন, 'আপনারা পড়লেই হবে না আমাকেও পড়তে হবে।' সাক্ষ্য দেয়া শুরুর আগে হাতে থাকা কিছু নথি দেখিয়ে ট্রাইব্যুনালকে তিনি বলেন, 'আমার হাতে থাকা নথিপত্রগুলোতে ডিফেন্স সাক্ষী হিসেবে আমাকে সহযোগিতা করবে। মনে করবেন না যেন জবানবন্দি পেশ করার জন্য এটি কোনো নোট এনেছি। জবানবন্দির মাঝে প্রয়োজনে আমি সাপোর্ট হিসেবে দাখিল করবো।' এর বিরোধিতা করে প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম বলেন, আর কোনো সাক্ষীকে এই সুযোগ না দেয়া হলেও তাকে দেয়া হচ্ছে। সালাউদ্দিন কাদের তখন বলে উঠেন, 'আমি যে জবানবন্দি দেব, তার সপক্ষে রেফারেন্স হিসেবে কি কোনো ডকুমেন্ট দিতে পারব না।' হাতে থাকা 'বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী' দেখিয়ে তিনি বলেন, 'বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী দিতে চাই, এটাও কি কবিরা গুনাহ হবে। এটাও কি দিতে পারব না?' জবানবন্দিতে বিএনপি নেতা বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রের প্রথম অনুচ্ছেদেই বলা হয়েছে যে দ্বিজাতি তত্ত্ব হলো বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সংঘাতের প্রাথমিক কারণ। কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ২৮৮ পৃষ্ঠার 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' গ্রন্থে এই দ্বিজাতি তত্ত্বকেই প্রতিষ্ঠা ও বাস্তবায়নের জন্য দীর্ঘ ত্যাগ, বাধা-বিপত্তি ও উত্থান-পতনের কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে, যার প্রতি আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রে কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। "এর মাধ্যমে দ্বিজাতি তত্ত্ব উঠিয়ে দিয়ে 'একজাতি' প্রতিষ্ঠা করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে, যা এদেশের সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী।" 'আমি বিশ্বাস করি না যে এ ধরনের প্রস্তাব বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি ও আদর্শের সাক্ষর বহন করে; বরং এটি বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার এবং তার রাজনৈতিক প্রশাসনের রাজনীতি,' বলেন তিনি। গত ১৩ জুন ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। ২০১২ সালের ১৪ মে থেকে শেষ পর্যন্ত ৪১ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়। এরপর সাফাই সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের জন্য ১৭ জুন দিন ধার্য করা হয়। সাফাই সাক্ষীর তালিকায় হাইকোর্টের বিচারপতি, শিক্ষাবিদ ও রাজনীতিবিদসহ ১ হাজার ১৫৩ জনের নাম ছিল। এই তালিকা থেকে পাঁচজনকে সাক্ষী হিসেবে উপস্থাপনের অনুমতি দেন ট্রাইব্যুনাল। এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন |
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সর্বাধিক মতামত
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নতত্ত্বাবধায়ক সরকার চাইলে নির্বাচনই হবে না_ প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে আপনি কি অশনিসঙ্কেত
মনে করেন?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল |