মঙ্গলবার, মে, ২১, ২০১৩: জ্যৈষ্ঠ ৭, ১৪২০ বঙ্গাব্দ: ১০ রজব , ১৪৩৪ হিজরি, ০৭ বছর, সংখ্যা ৩৩৮ |
| গুগল ওয়েব অনুসন্ধান | অনুসন্ধান |
|
|
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণে
আগের নীতিমালা বাতিলনতুন নীতিমালা প্রণয়নের জন্য ৬ সদস্যের কমিটি গঠন সরকারীকরণের জন্য ২৭ স্কুল ও ৭ কলেজ চূড়ান্তযাযাদি রিপোর্ট ![]() বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণে নীতিমালা প্রণয়নের জন্য ৬ সদস্যের কমিটি গঠন করে দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সোমবার দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ সংক্রান্ত এক বৈঠকে এ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া বৈঠকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণে আগের নীতিমালা বাতিল করা হয়েছে।বৈঠকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (কলেজ) স্বপন কুমার সরকারকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এএস মাহমুদ, মাউশির পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক সজল কান্তি ম-ল, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক ড. শ্রীকান্ত চন্দ্র এবং বিদ্যালয় পরিদর্শক সাহেদ খবিরুল চৌধুরী। কমিটির সদস্য সচিব হয়েছেন মাউশির পরিচালক (কলেজ) অধ্যাপক আতাউর রহমান। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ সংক্রান্ত একটি নীতিমালা মাউশি প্রণয়ন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছিল। কিন্তু বৈঠকে তা বাতিল করে দিয়ে বলা হয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের জন্য এই নীতিমালা যথেষ্ট নয়; এটি একটি দুর্বল নীতিমালা। সূত্র জানায়, বৈঠকেই দুর্বল নীতিমালা কিভাবে প্রণয়ন হলো, তার কারণ মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, 'নীতিমালাটি আমি দেখিনি।' এসব কারণে প্রণীত নীতিমালা বাদ দিয়ে হালনাগাদ একটি নীতিমালা তৈরির নির্দেশ দেয়া হয়। একই সঙ্গে নতুন করে নীতিমালা প্রণয়নে কমিটিও গঠন করা হয়। কমিটিকে শিগগিরই নীতিমালা প্রণয়ন করে মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে বলা হয়েছে। এর আগে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে ২৬টি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণের জন্য নির্বাচিত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এসব প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণের জন্য গত ৪ বছরে কয়েকজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য সুপারিশ করেছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে ১৬ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয় জাতীয়করণের জন্য এসব প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচিত করে। একইভাবে ৭টি বেসরকারি কলেজকেও জাতীয়করণের জন্য নির্বাচিত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এসব প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জাতীয়করণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত করা প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য তার দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠানের নথিতে জাতীয়করণের জন্য প্রধানমন্ত্রী স্বাক্ষর করেননি। এর আগে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের জন্য খসড়া নীতিমালা প্রস্তুত করার জন্য মাউশিকে নির্দেশ দিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) খসড়া এই নীতিমালাটি প্রণয়ন করে, যা সোমবারের বৈঠকে বাতিল হয়ে যায়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেন। পরবর্তীকালে প্রাথমিক বিদ্যালয় অধিগ্রহণ আইন-১৯৭৪ জাতীয় সংসদে গৃহীত হয়। কিন্তু মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে জাতীয়করণ করার কোনো নীতিমালা বা আইন নেই। এ অবস্থায় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণের জন্য নীতিমালা করা হয়েছে। খসড়া নীতিমালায় যা বলা হয়েছিল জাতীয়করণের জন্য ৫ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি থাকবে। জেলা প্রশাসক এই কমিটির প্রধান থাকবেন। কমিটির অন্য সদস্যরা হবেন জেলা পর্যায়ে অবস্থিত সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের একজন প্রতিনিধি, সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের একজন প্রতিনিধি, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। নীতিমালায় বলা হয়, প্রতি বছর জাতীয়করণের জন্য নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের তালিকা করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। জেলা কমিটি সেই তালিকা থেকে যাচাই-বাছাই করে জাতীয়করণের জন্য উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। সব বিষয় চূড়ান্ত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নেবে। সরকারের আর্থিক সংশ্লেষ বিবেচনা করে একই সঙ্গে প্রতি বছর কয়টি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজকে জাতীয়করণ করা হবে, তা নির্ধারণ করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নীতিমালায় আরো বলা হয়েছে, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে বেসরকারিভাবে প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সরকারিভাবে করা যেতে পারে। এর ফলে সরকারের আর্থিক সংশ্লেষ হ্রাস পাবে। নীতিমালায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তির নামে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ করা যাবে না। তবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্য, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা, ভাষা শহীদ, জাতীয় পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং জাতীয় চার নেতার নামে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে। স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিলেন বা আছেন_ এমন কোনো ব্যক্তির নামে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের আওতায় আসবে না। অনগ্রসর এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণে প্রাধান্য দেয়া হবে। জাতীয়করণের আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৫ বছরের জেএসসি/এসএসসি/এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিবেচনায় আনতে হবে। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ১ একর অখ- জমি থাকতে হবে। যেসব উপজেলা ও জেলায় সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ নেই, শুধু সেসব এলাকার প্রাচীন এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণের আওতায় আনতে হবে। ২৭ বিদ্যালয় চূড়ান্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জাতীয়করণের জন্য চূড়ান্ত করা ২৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার দীননাথ ইন্সটিটিউশন, ঢাকার উত্তরা থানার উত্তরখান ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়, সাভারের শাক্তা উচ্চ বিদ্যালয়, নীলফামারীর ডোমার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, চট্টগ্রামের রাউজান আরআরএসি মডেল হাইস্কুল, সাতক্ষীরার কলারোয়া গার্লস পাইলট হাইস্কুল, ঢাকার গুলশানের কালাচাঁদপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ফরিদপুরের নগরকান্দার এমএন একাডেমী বিদ্যালয়, একই জেলার ভাঙ্গা মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, সিলেটের বালাগঞ্জের রামসুন্দর উচ্চ বিদ্যালয়, একই উপজেলার হাজী মফিজ আলী উচ্চ বিদ্যালয়, ডিএন উচ্চ বিদ্যালয়, তৈয়রুন্নেসা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মঙ্গলচ-ী নিশিকান্ত উচ্চ বিদ্যালয়, মাগুরা সদরের এজি একাডেমী, রাজশাহী সদরের শহীদ নাজমুল হক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, রাজশাহী বি বি হিন্দু একাডেমী, যশোরের কেশবপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, কেশবপুর পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নওয়াপাড়া শংকরপাশা হাইস্কুল, বরিশালের বাবুগঞ্জের শহীদ ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীর (বীরশ্রেষ্ঠ) মাধ্যমিক বিদ্যালয়, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া ইউনিয়ন ইন্সটিটিউশন, কোটালীপাড়া পাবলিক ইন্সটিটিউশন, ঢাকার সবুজবাগের বাসাবো উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, নারায়ণগঞ্জের বন্দর কলাগাছি ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়, নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমীন একাডেমী এবং জাঙ্গাল বাদশা মিয়া আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম জাতীয়করণের জন্য চূড়ান্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ৭টি কলেজ চূড়ান্ত জাতীয়করণের জন্য ৭টি কলেজের মধ্যে সাতক্ষীরার শ্যামনগর মুহসীন ডিগ্রি কলেজ, খুলনার কয়ড়া মহিলা কলেজ, একই জেলার দাকোপ এলবিকে ডিগ্রি মহিলা কলেজ, হাজী মুহম্মদ মুহসীন কলেজ, রূপসা বঙ্গবন্দু কলেজ, নেত্রকোনার মদন উপজেলার হাজী আব্দুল আজিজ খান ডিগ্রি মহাবিদ্যালয় এবং টাঙ্গাইলের ইব্রাহিম খাঁ কলেজের নাম জাতীয়করণের জন্য চূড়ান্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ( লেখাটি পড়া হয়েছে ২৬ বার )
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন |
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সর্বাধিক মতামত
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নবিরোধী দলের সঙ্গে বসতে চান স্পিকার ড. শিরিন শারমীন চৌধুরী। তার এই উদ্যোগ সফল হবে বলে কি মনে করেন?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল |