মঙ্গলবার, জুন, ১৮, ২০১৩: আষাড় ০৪, ১৪২০ বঙ্গাব্দ: ৮ শাবান, ১৪৩৪ হিজরি, ০৮ বছর, সংখ্যা ১৩ |
| গুগল ওয়েব অনুসন্ধান | অনুসন্ধান |
|
অনিশ্চিত গন্তব্যে রাজনীতি
সংঘাত সংঘর্ষের আশঙ্কাবিএনপি সিটি নির্বাচনে অপ্রত্যাশিত সাফল্য পেয়ে তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে আন্দোলনে নামার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে, এই ইস্যুতে আওয়ামী লীগ আগের চেয়ে আরো বেশি অনড় অবস্থান নিয়েছে। এ অবস্থায় রাজনীতির গন্তব্য নিয়ে জনগণ উৎকণ্ঠিত হয়ে পড়েছেযাযাদি রিপোর্ট চার সিটি করপোরেশনে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে রাজনীতিতে শান্তির সুবাতাস বইবে_ এমন আশায় দেশের মানুষ এতদিন প্রতীক্ষায় থাকলেও আবার তাদের হতাশ হতে হচ্ছে। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি সিটি নির্বাচনে অপ্রত্যাশিত সাফল্য পেয়ে তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে আন্দোলনে নামার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে, এই ইস্যুতে আওয়ামী লীগ আগের চেয়ে আরো বেশি অনড় অবস্থান নিয়েছে। এ অবস্থায় রাজনীতির গন্তব্য নিয়ে জনগণ উৎকণ্ঠিত হয়ে পড়েছে। রাজনীতি বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এই ইস্যুতে দু'পক্ষের মধ্যে দ্রুত সমঝোতা না হলে আগামী দিনগুলোতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর রূপ নেবে। দেশের গণতন্ত্র ঝুঁকির মুখে পড়বে_ এমন আশঙ্কাও করছেন অনেকেই।বিএনপি সূত্রমতে, চার সিটিতে বিএনপিপ্রার্থী বিজয়ী হওয়ার পর দলীয় সরকার পক্ষের প্রতিনিধিরা বিএনপির উচ্চ পর্যায়ে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে আলোচনা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু হাই কমান্ড থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায় পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অংশ তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনের যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নেয়ায় তারা এ ব্যাপারে আলোচনা করারই সাহস পাননি। সূত্রটি আরো জানায়, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের জানিয়েছেন, চার সিটিতে বিজয়ী হওয়ায় সরকার জনমত বুঝতে পেরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করবে না। তাই এ দাবি আন্দোলনের মাধ্যমেই আদায় করতে হবে। আসন্ন গাজীপুর সিটি নির্বাচন এবং পবিত্র রমজানের পর এই দাবির আন্দোলন জোরদার করতে সংশিষ্টদের নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা জানান, আওয়ামী লীগ সিটি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে করে একটি টোপ ফেলেছে, যাতে এই টোপ গিলে তাদের অধীনে বিএনপি জাতীয় নির্বাচনে যায়। কিন্তু তা হচ্ছে না। জাতীয় নির্বাচনে তারা তাদের পুরনো চেহারায় দেখা যাবে_ এটা সবাই জানে। সুতরাং সিটি নির্বাচনের ভরাডুবি থেকে শিক্ষা নিলে তারা অবশ্যই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দেবে। আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, ক্ষমতাসীনরা কোনো অবস্থাতেই অসাংবিধানিক কোনো সরকার মেনে নেবে না। তারা দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এজন্যই জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রতিটি নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে সম্পন্ন করে দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন যে সম্ভব, তা প্রমাণ করার চেষ্টা করছে, যাতে বিরোধী দলের আন্দোলনে জনগণ সম্পৃক্ত না হয়। এদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে বিরোধী দলকে হুশিয়ার করে বলেছেন, অসাংবিধানিক দাবি করলে নির্বাচন নাও হতে পারে। এর জবাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের বক্তব্য গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত। তার বক্তব্য উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনর্বহালের ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম জানান, অরাজনৈতিক ও অনির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে নির্বাচন করতে আগ্রহী নয় আওয়ামী লীগ। তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি আর ফিরে আসবে না_ এটা পরিষ্কার বলা যায়। একই বিষয়ে বিএনপির অপর স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস জানান, শিগগিরই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন আরো জোরদার হবে। আওয়ামী লীগকে বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই। সিটি নির্বাচনে কারচুপি করার চেষ্টা করেছে। জাতীয় নির্বাচনে কারচুপির সুযোগ দেয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। দুই দলের বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে রাজনৈতিক সংকট আরো তীব্র হবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। নির্বাচন পর্যবেক্ষক ড. আহসান কলিমুল্লাহ জানান, অসাংবিধানিক কোনো শক্তিকে নতুন কোনো সুযোগ দেয়া যেমন ঠিক নয়, তেমনি বড় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আস্থার সংকটও আছে। তাই বলা যায়, দুই দলের অনড় অবস্থানের কারণে সংকট বাড়বে। তবে আর কারচুপির মাধ্যমে কারো ক্ষমতায় আসা সম্ভব নয়_ এটা অনেকটা প্রমাণিত। রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি মনে করে, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে জামায়াতের আরো কয়েকজন নেতার বিচারের রায় ঘোষণার পর আগামী জুলাই-আগস্টের দিকে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং তার বড় ছেলে ও দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। তাতে সাজা হলে আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে তারা আইনগত বাধার মুখে পড়বেন। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের অর্থ দুর্নীতির মামলা ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে। দুটি মামলারই বিচার নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ জজ আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ অবস্থায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির বিষয়টি সুরাহা করে নিতে চায় বিএনপি। আর তাই রাজপথের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা এখনই জরুরি বলে মনে করেন তারা। অন্যদিকে, শিগগির জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমসহ বেশ কয়েকজন নেতার বিচারের রায় ঘোষণা করা হবে_ সরকারের এমন আগাম বার্তায় রাজপথে সহিংসতা চালানোর প্রস্তুতি রয়েছে জামায়াত-শিবিরের। বিএনপি এই সুযোগও কাজ লাগাতে চাইছে। এদিকে, রাজপথে বিরোধী দলের উত্তাপ ছড়ানোর প্রস্তুতিতে তা মোকাবেলায়ও হার্ডলাইনে যাচ্ছে সরকার। আর রাজপথে রাজনৈতিক কর্মসূচি মোকাবেলায় মাঠে থাকবে আওয়ামী লীগ। এ নিয়ে ১৪ দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে কয়েক দফা বৈঠকও হয়েছে। আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা আমির হোসেন আমু মনে করেন, দেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে বিএনপি নতুন ষড়যন্ত্র শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। তা রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বিএনপি-জামায়াতের অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টাকে সবাই মিলে প্রতিহত করতে হবে। আরেক সিনিয়র নেতা তোফায়েল আহমেদ বলেন, বিএনপি-জামায়াত দেশকে অস্থিতিশীল করে অশুভ শক্তির হাতে তুলে দিতে চান। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার থেকে বাঁচাতে চান। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন হচ্ছে না। চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষ আস্থা হারাচ্ছে। আপাতত মনে হচ্ছে, দেশ সংঘর্ষের দিকে যাচ্ছে। এ থেকে বের হতে প্রধান দুই দলের নেত্রীকে মীমাংসায় বসতে হবে। দেশের মানুষ আশা করছে, তারা মীমাংসার দিকে যাবেন। সংঘর্ষের মাধ্যমে কোনো কিছুর সমাধান হবে না। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই জনগণের স্বার্থেই রাজনৈতিক দলগুলোকে এর সমাধানে পেঁৗছা জরুরি। বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক জানান, দলবদ্ধভাবে লোকজন যখন অপরাধমূলক কাজে লিপ্ত হয়, তখন সহিংস সমাজ গড়ে ওঠে, জনগণের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়, যা কোনো দেশের জন্যই মঙ্গলজনক নয়। এ ধরনের পরিস্থিতির কারণে পাকিস্তান বা আফগানিস্তানে যে অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে, বাংলাদেশও সেই পথে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত সেটা হলে পুরো বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদি হুমকির মুখে পড়বে। রাজনীতি বা আদর্শের কারণে বা অন্য যে কোনো কারণে হোক রাজনৈতিক দলগুলোর এ ধরনের প্রবৃত্তি থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। জনগণের এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে ইতিবাচক পথে হাঁটতে হবে।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন |
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সর্বাধিক মতামত
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নতত্ত্বাবধায়ক সরকার চাইলে নির্বাচনই হবে না_ প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে আপনি কি অশনিসঙ্কেত
মনে করেন?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল |