মতামত :
¦
¦
নির্বাচনোত্তর পাক_আমেরিকা সম্পর্কজ্জ নওয়াজ নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান সরকারের আমেরিকার ওপর তিনটি ইতিবাচক প্রভাব থাকছে। প্রথমত, পাকিস্তান মুসলিম লীগ_এন পার্লামেন্টে বড় ব্যবধানের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। আর এতে শঙ্কা কমেছে আমেরিকার। কেননা এতে অনাস্থা ভোটে সরকার পতনের সুযোগ কমে গেল। দ্বিতীয়ত, সৌদি রাজপরিবারের সমর্থন আছে নওয়াজের ওপর। তৃতীয়ত, নওয়াজ 'মুক্ত অর্থনীতিতে' বিশ্বাসী। এটি আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি ও আমেরিকার আফগানিস্তান ত্যাগ পরবর্তী দক্ষিণ এশিয়ায় প্রবেশে সহায়ক হবে...যাযাদি ডেস্ক ইতিহাস গড়ে পাকিস্তানের রাষ্ট্রক্ষমতা কাঁধে নিচ্ছেন পাকিস্তান মুসলিম লীগ_এন প্রধান নওয়াজ শরিফ। এর আগেও দুবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তিনি। কিন্তু কোনোবারই মেয়াদ পূরণ হয়নি তার। এবারো কি নওয়াজ পারবেন মেয়াদ পূরণ করতে? এর উত্তর পাওয়া যাবে সেনাবাহিনীর ওপর তার কর্তৃত্ব ও গৃহীত পররাষ্ট্রনীতির ওপর। আর পাকিস্তানের জন্য পররাষ্ট্রনীতিতে প্রতিবেশী ভারত যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ আমেরিকা। তাই পাকিস্তানের নির্বাচনের ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই পাক-আমেরিকার সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে কূটনৈতিক মহলে।
আমেরিকার ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সাবেক পাকিস্তান বিষয়ক ডিরেক্টর শামিলা চৌধুরী পাক_আমেরিকা সম্পর্ক, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক ইস্যু বিশ্লেষক। তিনি পাকিস্তান নির্বাচন সম্পর্কে বলেন, ১১ মে পাকিস্তানিরা কথা বলেছে। নির্বাচনের ফল দেখে মনে হচ্ছে, তারা স্থিতাবস্থাকেই বেশি পছন্দ করেছে। এ কারণেই পাঞ্জাবভিত্তিক দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ_এন এর পুনরুত্থান এবং নওয়াজের তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রিত্ব লাভ। পাকিস্তানে আমেরিকার প্রধান স্বার্থ_ দেশটির রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা যেন আফগানিস্তান যুদ্ধ বা আল_কায়েদার বিরুদ্ধে যুদ্ধকে বাধাগ্রস্ত না করে তা নিশ্চিত করা।
নওয়াজ নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান সরকারের আমেরিকার ওপর তিনটি ইতিবাচক প্রভাব থাকছে। প্রথমত, পাকিস্তান মুসলিম লীগ_এন পার্লামেন্টে বড় ব্যবধানের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। আর এতে শঙ্কা কমেছে আমেরিকার। কেননা এতে অনাস্থা ভোটে সরকার পতনের সুযোগ কমে গেল। দ্বিতীয়ত, সৌদি রাজপরিবারের সমর্থন আছে নওয়াজের ওপর। তার শাসনকাল ও নির্বাসনের সময় এ সম্পর্ক পাকাপোক্ত হয়। পাকিস্তানের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা আনয়নে এ সম্পর্ক সাহায্য করবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। আর এতে পাকিস্তানের বিভিন্ন উন্নয়ন খাতে সহযোগিতা কমিয়ে অন্যত্র অর্থ ব্যয়ের সুযোগ পাবে আমেরিকা। তৃতীয়ত, নওয়াজ 'মুক্ত অর্থনীতিতে' বিশ্বাসী। এটি আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি ও আমেরিকার আফগানিস্তান ত্যাগ পরবর্তী দক্ষিণ এশিয়ায় প্রবেশে সহায়ক হবে। তবে সমস্বার্থ সবসময় অংশীদারিত্বে পরিণত হয় না। এখানে উভয়পক্ষের নীতিনির্ধারকদের কাজ করার প্রয়োজন। তবে সম্পর্ক উন্নয়নের সহায়ক পরিবেশ রয়েছে বলে মনে করেন শামিলা।
ওবামা প্রশাসনের সাবেক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পি জে ক্রাউলি উল্লেখ করেন, ১৯৯৯ সালের ৪ জুলাই তৎকালীন পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ আমেরিকান প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সঙ্গে কারগিল সঙ্কট প্রসঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সে সময় আমেরিকার চাপেই পাকিস্তান পিছিয়ে আসে। এর ৩ মাস পর সেনাবাহিনী প্রধান পারভেজ মোশাররফের চাপে নওয়াজ নির্বাসনে যেতে বাধ্য হন। এরপর গত শনিবারের নির্বাচনে ১৪ বছর পর আবার ক্ষমতায় ফিরে আসেন নওয়াজ। তার মতে, আগামী কয়েক বছরে পাক_আমেরিকা সম্পর্কের প্রকৃতি নির্ধারণ করবে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তরের ওপর। প্রথম প্রশ্নটি হলো_ 'কেমন সম্পর্ক হবে প্রধানমন্ত্রী_সেনাবাহিনীর?' বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল আশফাক পারভেজ কিয়ানির অধীনে সেনাবাহিনী রাজনীতি থেকে সরে এসেছে। এ বছরের পরেই তিনি অবসরে যাচ্ছেন। তার উত্তরসূরি নির্বাচন ও নতুন জেনারেলের সঙ্গে নওয়াজের সম্পর্কই বলে দেবে কেমন হতে যাচ্ছে নওয়াজের শাসনকাল। দ্বিতীয় প্রশ্নটি হলো_ 'কেমন হবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক?' নওয়াজের আগের শাসনামলে, তিনি ভারতের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা তৈরির জন্য বাণিজ্য বৃদ্ধির চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে ভারতের সর্বদাই বৈরী সম্পর্ক বিরাজমান। তাই নওয়াজকে সম্ভবত ক্ষমতার ভারসাম্যের প্রতি নজর দিতে হবে। নওয়াজ আমেরিকান নেতাদের সঙ্গেও আন্তরিক। আর আমেরিকাও তার কাছ থেকে এমন উত্তরই চাইবে, যা তারা ২০০১ সালে মোশাররফের কাছে চেয়েছিলেন। সেটি হলো_ 'তুমি আমাদের পক্ষে না বিপক্ষে?' চরমপন্থীদের নিয়ে নওয়াজ কী করছেন, তার ওপরও কড়া নজর থাকবে আমেরিকার। আফগানিস্তান নিয়ে তার চিন্তাধারাও গুরুত্ব দেবে তারা। এ সব প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে, পাক-আমেরিকা সম্পর্ক।
আমেরিকার 'কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস'র ড্যানিয়েল মারকির মতে, নওয়াজের বিজয় ওয়াশিংটনের জন্য একটি নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। মধ্যডানপন্থী এ নেতার ওয়াশিংটনের নাইন-ইলেভেন পরবর্তী দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানগুলোর প্রতি খুব কমই সমর্থন আছে। অন্যদিকে, পিএমএল_এন যদি কর, বিদ্যুৎ বা অবকাঠামোর সংস্কারের মাধ্যমে চাকরি, মুনাফা ও সরকারি আয়ে সাফল্য পায়, তবে তা জাতীয় স্থিতিশীলতার জন্য সহায়ক হবে। রাতারাতি পাকিস্তানে সুশাসন আসবে না। বিশ্বে র‌্যাঙ্কিয়ে প্রায়ই 'ব্যর্থ রাষ্ট্র'র তালিকার প্রথম দিকে থাকা প্রায় ২০ কোটি মানুষের দেশটির সামান্যতম উন্নয়নেও আমেরিকার উচিত হবে তাকে স্বাগত জানানো। ভারতের সঙ্গে নওয়াজের সম্পর্ক ইসলামাবাদ_নয়াদিলি্লর মধ্যকার বাণিজ্য বৃদ্ধি নওয়াজের সাফল্যের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেবে। আর দক্ষিণ এশিয়ার দুই পরমাণু ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্ক আমেরিকার দুশ্চিন্তা কমাবে। এতে ওয়াশিংটনের দূরত্ব কমবে ইসলামাবাদের সঙ্গে। এ কারণেই নওয়াজের অর্থনীতি সংস্কার ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন নীতিতে উল্লাস করা উচিত আমেরিকার বলে মনে করেন মারকি।
আমেরিকার টাফট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট হায়দার মালিকের মতে, অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা ও আঞ্চলিক অংশগ্রহণে বাধা থাকা সত্ত্বেও নওয়াজের সুযোগ আছে পাকিস্তানকে একটি নিরাপদ, বহুমতের সহাবস্থান ও সফল বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত করার। কিন্তু পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি নতুন করে লেখার আগে তাকে শুরুতে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা হ্রাস করে ফাটল ধরা দেশকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। বেশিরভাগ পাকিস্তানিই স্বীকার করেন, তাদের প্রধান দুটি হুমকি হলো_ সন্ত্রাস ও নিমজ্জিত অর্থনীতি। সেদিক থেকে নিয়মনীতি কমিয়ে অবকাঠামো তৈরি ও বৈদেশিক বিনিয়োগ উৎসাহ দেয়ার সুনাম আছে নওয়াজের। তবে কূটনৈতিক নিরাপত্তা তৈরি না করে, পাকিস্তানি তালেবান ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ওপর শক্তি প্রয়োগ করলে ব্যর্থ হতে পারেন তিনি। তথ্যসূত্র : বিবিসি
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নবিএনপি সংসদ অধিবেশনে যোগ দিলে দেশের চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট কাটবে বলে কি মনে করেন?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2010 The Jaijaidin