মতামত :
¦
¦
সাড়ে ৪ বছর পর রাজনীতিতে ফের সক্রিয় তারেক রহমান'রাতের অন্ধকারে সমাবেশে আক্রমণ মানুষ হত্যা_ এ কোন গণতন্ত্র?'যাযাদি ডেস্ক লন্ডনে সভায় বক্তৃতা করছেন তারেক রহমান -ফোকাস বাংলাদীর্ঘ সাড়ে চার বছর পর আবারো রাজনীতিতে সক্রিয় হলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী সময়ে নির্যাতনের শিকার হয়ে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিতে লন্ডন যান তিনি। দীর্ঘ নীরবতার পর সোমবার লন্ডনে এক সভায় অংশ নিয়ে রাজনীতিতে আবারো সক্রিয় হওয়ার আভাস দিলেন তিনি। কিছুদিন আগে সৌদি আরবে ওমরা করতে গিয়ে সেখানেও দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা। খবর বাংলানিউজ ও নতুন বার্তা ডটকম
জানা যায়, সোমবার সেখানকার সময় দুপুরে পূর্ব লন্ডনের ডকল্যান্ড ক্রাউন প্লাজা হোটেলে তারেক রহমানের উপস্থিতিতে সক্রিয় : পৃষ্ঠা ২ কলাম ২
দলের একটি সভায় হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বক্তব্য শুরু করার পরপরই বিবদমান গ্রুপগুলোর কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কায় পুলিশ ও হোটেল কর্তৃপক্ষ সভা বন্ধ করে দেয়। পরে ভিন্ন ভেন্যুতে প- হয়ে যাওয়া সভাটি সমাপ্ত করেন তারেক রহমান। বাংলাদেশ সময় রাত ১১টার দিকে সভা শুরু হয়ে তা চলে রাত আনুমানিক ২টা পর্যন্ত।
এ সময় গত ৫ মে দিবাগত রাতে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশে র‌্যাব-পুলিশের অ্যাকশনের প্রতি ইঙ্গিত করে তারেক রহমান সরকারের কাছে প্রশ্ন রাখেন, 'রাতের অন্ধকারে বাতি নিভিয়ে সমাবেশে আক্রমণ, মানুষ হত্যা- এ কোন গণতন্ত্র?' তিনি ওই সমাবেশে অগণিত মানুষ হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান সরকারকে এই হত্যাকা-ের দায় নিতে হবে।
দলের যুক্তরাজ্য শাখার বিভিন্ন আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাদকসহ নেতৃস্থানীয় কর্মীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুস। নিউহ্যাম বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাইয়ুম এবং যুগ্ম-সম্পাদক ফেরদৌস আলমের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিভিন্ন শাখা কমিটির নেতাসহ প্রায় দেড়শতাধিক নেতা বক্তব্য রাখেন।
স্থানীয় নেতাদের আবেগ, অভিযোগ এবং পরামর্শপূর্ণ এসব বক্তব্য দীর্ঘক্ষণ ধরে মন দিয়ে শোনেন তারেক রহমান।
সমাপনী বক্তব্যে দেশ ও জাতির বর্তমান দুঃসময়ে ব্যক্তিগত ভেদাভেদ ভুলে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তারেক বলেন, দেশ আজ স্মরণকালের সবচেয়ে বড় ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। জনগণ আজ নিরাপত্তাহীন, মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে প্রতি মূহূর্তে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা স্তব্ধ করে দিতে বাকশালী কায়দায় সংবাদমাধ্যম বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। বর্তমান সরকারের দলীয়করণ, দুর্নীতি এবং স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে সরব হলেই সাংবাদিকদের ওপর নেমে আসছে হত্যার খড়গ।
এ সময় সমাবেশে উপস্থিত দৈনিক আমার দেশের একজন সাংবাদিককে দেখিয়ে তিনি বলেন, নিজের প্রাণ বাঁচাতে এই সাংবাদিক আজ দেশ ছেড়ে পালিয়ে এসেছেন। ওই সাংবাদিকের কাছ থেকে সংখ্যা জেনে নিয়ে তারেক বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ জন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে।
দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির এই শীর্ষস্থানীয় নেতা অভিযোগ করে বলেন, সাংবাদিক সাগর-রুনি সরকারের একটি বড় ধরনের দুর্নীতি প্রকাশ করতে যাচ্ছিলেন বলেই তাদের হত্যা করা হয়। সাগর-রুনির হত্যাকা-কে ধামাচাপা দিতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এখন চলছে বিভিন্ন নাটক।
ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে বর্তমান সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেছে অভিযোগ করে তারেক রহমান বলেন, একটি শীর্ষ পত্রিকার কয়েক হাজার পাঠকের ওপর করা জরিপে প্রমাণ হয়েছে, দেশের ৯০ ভাগ মানুষ তত্ত্বাবধায়ক সিস্টেম চান। কিন্তু সরকার জনমতের প্রতি কোনোরকম তোয়াক্কা না করেই একতরফা নির্বাচনের দিকে হাঁটছে বলেই মনে হচ্ছে।
তিনি বলেন, জনগণের প্রয়োজনেই বিএনপির জন্ম হয়েছিল। সুতরাং জনগণের প্রয়োজনেই দলকে সুসংগঠিত করে বর্তমান ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের দাবানল ছড়িয়ে দিতে হবে সারাদেশে। নিজেদের অভ্যন্তরীণ সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে ব্রিটেনে দলকে আরো শক্তিশালী করতে হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, কেন্দ্রীয় বিএনপি আশা করছে, অচিরেই যুক্তরাজ্য বিএনপির এমন একটি কমিটি তারা দলকে উপহার দেবেন, যে কমিটিতে নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে ঘটবে ত্যাগী, দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্বের সমাবেশ। আশা করেন তারা সবাই সে রকম একটি কমিটির পক্ষে মত দেবেন।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দলকে তুলে ধরতে যুক্তরাজ্য বিএনপির একটি দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্বসম্পন্ন কমিটি এখন সময়ের দাবি এবং অচিরেই উপরোক্ত গুণাবলীসম্পন্ন একটি কমিটি আসবে বলে তিনি আশাবাদী।
তাকে দেশে ফিরে দলের হাল ধরার নেতাকর্মীদের আহ্বানের জবাব দিতে গিয়ে তারেক জানান, তিনি এখনো পুরোপুরি সুস্থ নন। বেশি সময় দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারেন না, শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে যায়।
নেতাকর্মীরা লন্ডনের বাইরের শহরগুলোয়ও তাকে নিয়ে সমাবেশ করার আগ্রহ দেখালে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য বিএনপির নতুন কমিটি গঠিত হওয়ার পর ইনশাল্লাহ ব্রিটেনের অন্য শহরগুলোয় গিয়েও তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার চেষ্টা করবেন।
তারেক রহমান প্রায় আধাঘণ্টার মতো বক্তব্য রাখেন। তারেক ছাড়াও সমাবেশে উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- দলের সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মহিদুর রহমান, বাতিলকৃত আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক এমএ মালেক, যুগ্ম-আহ্বায়ক ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এমএ সালাম, এনামুল হক লিটন, সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক মলি্লক হোসাইন আহমেদ হাসনু, নাসিম চৌধুরী, কয়সর আহমেদ, জমিলুল হক, ফয়সল আহমেদ, এম লুৎফুর মোশাহিদ হোসেইন, এম জাহেদ আলী প্রমুখ।
এর আগে ক্রাউন প্লাজা রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সভা কর্মীদের হাতাহাতি এবং উত্তেজনার কারণে প- হয়ে যায়। অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ নিয়ে বিরোধী গ্রুপের কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি ও উত্তেজনা শুরু হলে ক্রাউন প্লাজা কর্তৃপক্ষ পুলিশ ডাকলে পুলিশ এসে সমাবেশ বন্ধ করে দিয়ে স্থান ত্যাগ করার নির্দেশ দেয় সবাইকে।
সভায় সূচনা বক্তব্য রাখতে গিয়ে তারেক রহমান বিগত দিনে রাজনৈতিক কারণে মৃত্যু ও নির্যাতন ভোগকারী দলীয় নেতাকর্মীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্য বিএনপির একটি শক্তিশালী কমিটি সময়ের দাবি উল্লেখ করে তারেক বলেন, ত্যাগী, যোগ্য ও দক্ষ নেতাদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের পরামর্শের জন্যই দলের বিভিন্ন শাখার নেতাদের এখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
এরপর দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তারেক রাজনৈতিক বক্তব্য শুরু করার মুহূর্তেই বিরোধী কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়। উত্তেজনা সংঘর্ষের দিকে ধাবিত হলে পুলিশ এসে সভায় হস্তক্ষেপ করে। পরবর্তীতে তাৎক্ষণিক নিউহ্যামের পামট্রি রেস্তোরাঁয় অসমাপ্ত সভা পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়ে নেতকর্মীদের সেখানে চলে যেতে পরামর্শ দেয়া হয়।
উল্লেখ্য, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় লন্ডনে নির্বাসনে আসার পর দলের বিভিন্ন শাখা কমিটির নেতাদের নিয়ে তারেক রহমানের প্রকাশ্য সভা কার্যত এটাই প্রথম। গত দু-এক দিন ধরে এই সভা নিয়ে বিভিন্ন গুজব-গুঞ্জন চলছিল লন্ডনের কমিউনিটিতে। দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতৃত্বহীনভাবে চলছিল।
কয়েক সপ্তাহ আগে উমরাহ পালনের উদ্দেশে সৌদি আরবে গিয়ে রাজনৈতিক সমাবেশে যোগদান করায়, লন্ডনেও তারেক শিগগিরই প্রকাশ্য রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু করবেন, এমনটি শোনা যাচ্ছিল। হঠাৎ করেই রাজনীতিতে পুরোপুরি সক্রিয় হচ্ছেন তারেক, এমন আলোচনা লন্ডনের কমিউনিটিতে ডালপালা বিস্তার করে গত কয়েক দিন ধরে।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নবিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুম নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অগ্রহণযোগ্য_ মানবাধিকার নেত্রী সুলতানা কামালের এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি কি একমত?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2010 The Jaijaidin