পূর্ববর্তী সংবাদ
মতামত :
¦
¦
থাইল্যান্ডে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা পাচ্ছে বাংলাদেশযাযাদি রিপোর্ট থাইল্যান্ডের কাছ থেকে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা পাচ্ছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রী গোলাম মোহাম্মদ কাদের থাইল্যান্ড সফরে এ সুবিধার আশ্বাস পেয়েছেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ড সরকারের উদ্যোগে ২০১৬ সালের মধ্যে দু'দেশের বাণিজ্য দ্বিগুণ করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য নেয়া হয়েছে 'ফোকাস অ্যাকশন প্ল্যান।' দু'দেশের ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠন করা হচ্ছে জয়েন্ট ওয়াকিং গ্রুপ। ৫টি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ওপর থাইল্যান্ডের কাছ থেকে ডিউটি ও কোটামুক্ত বাণিজ্য সুবিধা চেয়েছে। থাইল্যান্ড এতে নীতিগত সম্মতি প্রদান করেছে। আগামী এক মাসের মধ্যে সম্ভাব্য পণ্যের তালিকাসহ বাংলাদেশ এ সংখ্যার একটি প্রস্তাব থাইল্যান্ডে পাঠাবে। থাইল্যান্ড সরকার তা বিবেচনার আশ্বাস প্রদান করেছে। দেশটির সরকার বিশেষ করে বাংলাদেশের সঙ্গে কৃষিপণ্য এবং খাদ্যসামগ্রীর উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
জানা গেছে, দীর্ঘ ২৩ বছর বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে তৃতীয় জয়েন্ট ট্রেড কমিটি (জেটিসি) এর মন্ত্রী পর্যায়ে সভা গত ১৫ মে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে। সর্বশেষ এ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ঢাকায় ১৯৮৯ সালে। বাণিজ্যমন্ত্রী গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের নেতৃত্বে বাণিজ্য সচিব মাহবুব আহমেদসহ ৮ জন বাংলাদেশের পক্ষে যোগদান করে। ব্যাংককস্থ বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর, বাংলাদেশ টেরিফ কমিশন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বোর্ড অব ইনভেস্টমেন্টর প্রতিনিধিগণ মিটিংএ অংশ নেয়। কমিটির কো-চেয়ারম্যান এবং থাইল্যান্ডের বাণিজ্যমন্ত্রী বনসং টেরিয়াপিরম থাইল্যান্ড সরকারের পক্ষে নেতৃত্ব দেন।
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী উয়িংলাক শিওনাওয়াত্রা গত বছরের ২১-২২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সফর করেন। ওই সময় দু'দেশের দ্বিপাক্ষিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো জোরদার এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে একমত হন। ঢাকা সফরকালে দু'দেশের প্রধানমন্ত্রী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়িয়ে আগামী ২০১৬ সালের মধ্যে বাণিজ্য দ্বিগুণ এবং বাণিজ্য ঘাটতি সহনীয় পর্যায়ে কমিয়ে আনতে সম্মত হন। এজন্য উভয় দেশ ফোকাস অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করতে একমত হন।
জানা গেছে, দু'দেশের সরকার প্রধানে আগ্রহের প্রেক্ষিতে আগামী ২০১৬ সালের মধ্যে দু'দেশের ব্যবসা বাণিজ্যের পরিধি দ্বিগুণ করা জন্য ফোকাস অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করা হয়েছে। এ ফোকাস অ্যাকশন প্ল্যানকে সামনে রেখে দু'দেশ কাজ করবে। প্ল্যানে রয়েছে দু'দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাণিজ্যিক সহযোগিতা বৃদ্ধি। এর আওতায় বাংলাদেশ থাইল্যান্ডের কাছ থেকে ডিউটি ফ্রি ও কোটা ফ্রি সুবিধা পাবে। থাইল্যান্ড বাংলাদেশে অবকাঠামো উন্নয়ন, বস্ত্র, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, ওষুধ, কৃষি, কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপন, বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে বিনিয়োগ করবে। বাণিজ্যমেলা এবং প্রদর্শনীর আয়োজন। এর মাধ্যমে রপ্তানি জাতীয় পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি করা হবে। উভয় দেশ সিঙ্গেল কান্ট্রি ফেয়ার করতে সম্মত হয়েছে। এতে উভয় দেশ তাদের পণ্য প্রদর্শনের সুযোগ পাবে এবং ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা সহজ হবে। দু'দেশের ব্যবসায়ীদের অভিজ্ঞতা অর্জন ও সুযোগ-সুবিধার ভিত্তিতে যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ থাইল্যান্ডের কাছ থেকে টেকনিক্যাল সহায়তা চাইবে। এতে করে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) এ বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারের জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের বিকল্প নেই। এ জন্য বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড জয়েন্ট কমিশন কাজ করবে। এছাড়া বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য জিটুজি তত্ত্বাবধানে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে জয়েন্ট ওয়াকিং গ্রুপ গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর ফলে দু'দেশের ব্যবসায়ীরা চিন্তামুক্ত থেকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ করতে পাববেন।
জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশ থেকে থাইল্যান্ডে পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৪ কোটি ৯১ লাখ মার্কিন ডলার। আমদানি হয়েছে ৩৬ কোটি ১১ লাখ ডলার। ছয় মাসে ঘাটতি রয়েছে ৩১ কোটি ১৯ লাখ ডলার। যা প্রায় গত বছরের সমান। ২০১১-১২ অর্থবছরে এ দেশ থেকে থাইল্যান্ডে পাঁচ কোটি ১৪ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে।
 
পূর্ববর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নবিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুম নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অগ্রহণযোগ্য_ মানবাধিকার নেত্রী সুলতানা কামালের এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি কি একমত?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2010 The Jaijaidin