মতামত :
¦
¦
মহাসেনের রূপ বদলের ৩ কারণ : সামনে ৬ নিম্নচাপঅনিন্দ্য চৌধুরী চট্টগ্রাম ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের তা-বের সঙ্গে ভারী বর্ষণে অনেক এলাকার ধানক্ষেত ল-ভ- ও পানিতে ডুবে যায়। এসব আধাপাকা ধান এখন পচনের আশঙ্কা করছেন কৃষক। ছবিটি শুক্রবার বরিশালের গৌরনদী থেকে তোলা -ফোকাস বাংলাঘূর্ণিঝড় 'মহাসেন'র গতিপ্রকৃতি, আঘাত হানার স্থান নিয়ে শুরু থেকেই বিভ্রান্তি ছিল। আচরণগত কারণে খোদ আবহাওয়া বিভাগ থেকে এটিকে বলা হয়েছিল 'আন প্রেডিকটেবল'। শুরুতে ১৯৯১ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় কিংবা ২০০৭ সালের সুপার সাইক্লোন সিডরের চেয়েও শক্তিশালী ভাবা হলেও বাস্তবে এর ধারে-কাছেও ছিল না 'মহাসেন'। তবে আবহাওয়াবিদরা বলছেন, 'মহাসেন' চলে গেলেও মে ও জুন মাসে দেশে আরো ছয়টি নিম্নচাপের আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে উপকূলে উঠে আসার পর ঘূর্ণিঝড় মহাসেন আবহাওয়া সংস্থাগুলোর পূর্বাভাসকে মিথ্যা করে দিয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূলের পরিবর্তে সোজা ত্রিপুরার দিকে চলে যাওয়াকে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে নানা দৃষ্টিকোণে।
বঙ্গোপসাগরের সাম্প্রতিক ঝড়গুলোর মধ্যে এই প্রথম কোনো ঘূর্ণিঝড় উত্তর দিকে এসে তারপর সরাসরি পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়েছে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মহাসেনের এই আচরণকে কিছুটা ব্যতিক্রম বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মহাসেনের তা-ব থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূল রক্ষা পাওয়ার পেছনে তিনটি কারণ চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। সেগুলো হলো_ প্রথমত, উৎপত্তিস্থল থেকে শ্রীলংকা উপকূলের পাশ দিয়ে অগ্রসর হওয়ার কারণে ঘূর্ণিঝড়টি কিছুটা হলেও স্থলভাগের সংস্পর্শে ছিল। তখন ওই ভূ-খ-ে কিঞ্চিৎ আঘাত হানায় সেখান থেকে দুর্বল হয়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড়। এ কারণে বাংলাদেশে পুরোপুরিভাবে স্থলভাগে উঠার পর প্রথাগত ডান দিকে বাঁক নিয়ে পূর্বদিকের চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে আঘাত হানার শক্তি ছিল না 'মহাসেন'র।
দ্বিতীয়ত, উচ্চচাপ ও নিম্নচাপের বিপরীতমুখী টান। আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটগুলোর তথ্যানুযায়ী, আঘাত হানার দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সকালে মহাসেনের পশ্চিমে ভারতের উড়িষ্যা ও পূর্বে থাইল্যান্ডের ব্যাংকক এলাকায় বাতাসের একটি উচ্চচাপ বলয় ছিল। অপরদিকে মহাসেনের উত্তর-পূর্বে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে নিম্নচাপ বিরাজ করছিল। বাতাস স্বাভাবিক ধর্ম অনুযায়ী উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলে প্রবাহিত হয়। আর সেই কারণেই ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের পশ্চিম ও পূর্বদিকে উচ্চচাপ বলয় বিরাজ করায় সামনের নিম্নচাপ বলয়ের দিকে তা প্রবাহিত হয় এবং ডান দিকে টার্ন নেয়নি। একই কারণে ১০০ কিলোমিটার গতিতে উপকূলে আঘাতের কথা থাকলেও ঘণ্টায় মাত্র ৫০ কিলোমিটার গতিতে আঘাত করে মহাসেন।
তৃতীয়ত, দীর্ঘ সময় ধরে সাগরে অবস্থান। শুরু থেকে ঘূর্ণিঝড়টির গতি এতটাই শ্লথ ছিল যে প্রায় ১২ ঘণ্টা সাগরে স্থির ছিল। আর এই স্থিরতার কারণে এটি দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে ঘূর্ণিঝড়টি পটুয়াখালীর খেপুপাড়া হয়ে উপকূলে আঘাত করতে করতে দুর্বল হয়ে যাওয়ায় তা ডান দিকে টার্ন নিতে পারেনি। ফলে সীতাকু-ের পাশ দিয়ে সোজা উপরে ত্রিপুরার দিকে চলে গেছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, ঘূর্ণিঝড়টি পটুয়াখালীর খেপুপাড়া ও কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলের মাঝামাঝি এলাকা দিয়ে বাংলাদেশের স্থলভাগ অতিক্রমের পূর্বাভাস ছিল। সেটাই হয়েছে। তবে নানা কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের দিকে টার্ন নিতে যতটুকু শক্তি দরকার তা আগেই হারিয়ে ফেলেছিল মহাসেন। এ কারণে বিশাল এই উপকূল তা-বলীলা থেকে রক্ষা পেয়েছে।
সামুদ্রিক আবহাওয়া বিজ্ঞানী প্রফেসর সাইদুর রহমান বলেন, মহাসেন উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে পটুয়াখালী খেপুপাড়া উপকূল পর্যন্ত এসেছিল। এরপর সরাসরি পূর্বদিকে সীতাকু- পর্যন্ত গিয়ে দুর্বল হয়ে যায়। সাধারণত মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড়গুলো প্রথমে উত্তর-পশ্চিম ও পরবর্তীতে উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে উপকূলে আঘাত হানে। এটি ছিল ব্যতিক্রম।
আবহাওয়াবিদদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৯১ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় এবং ২০০৭ সালে সুপার সাইক্লোন সিডর বাংলাদেশ উপকূলে আঘাতের পর থেকে গত ৬ বছরে ১৪টি ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়েছে। ফানেল আকৃতির বঙ্গোপসাগর যেকোনো মুহূর্তে গতিপথ পরিবর্তন হয়ে যায়। ২০০৭ সালের সিডর এক সময় চট্টগ্রাম উপকূলের দিকে আসার পথে উপকূলের কাছাকাছি এসে হঠাৎ দিক পরিবর্তন করে খুলনার দিকে আঘাত করে। একইভাবে ২০০৮ সালের ২৮ এপ্রিল উত্তর বঙ্গোপসাগরে গঠিত ঘূর্ণিঝড় 'নার্গিস' চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উপকূলে আঘাত হানার ধারণা করা হলেও তা পরে মিয়ানমার উপকূলে আঘাত করে এবং ক্ষতিসাধন করে। ২০০৯ সালের ২৫ মে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় 'আইলা' চট্টগ্রাম উপকূলে আঘাতের কথা থাকলেও উপকূলের কাছাকাছি এসে তা দুর্বল হয়ে মিয়ানমার উপকূল দিকে অতিক্রম করে।
এছাড়া ২০০৮ সালের ২৮ এপ্রিল নার্গিসের পর একই বছরের ২৬ অক্টোবর 'রেশমী', ১৫ নভেম্বর 'খাইমুক', ২৬ নভেম্বর 'নিসা' সৃষ্টি হলেও তা ভারতের তামিলনাড়ু উপকূল দিয়ে যায়। তবে ২০০৯ সালের ১৪ এপ্রিল সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড় 'বিজলি' ১৭ এপ্রিল চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূলে দুর্বল হয়ে আঘাত করে।
 

Warning: simplexml_load_file() [function.simplexml-load-file]: data_files/483/news_hit.xml:107: parser error : expected '>' in /home/jjdin/public_html/news_hit_update.php on line 4

Warning: simplexml_load_file() [function.simplexml-load-file]: <news_hit_6733>>15</news_hit_67334> in /home/jjdin/public_html/news_hit_update.php on line 4

Warning: simplexml_load_file() [function.simplexml-load-file]: ^ in /home/jjdin/public_html/news_hit_update.php on line 4

Fatal error: Call to undefined method stdClass::asXML() in /home/jjdin/public_html/news_hit_update.php on line 15