মতামত :
¦
¦
ক্রান্তিকাল পার করছে বিএনপিনেতাদের বেশির ভাগ হয় অসুস্থ, নয়তো জেলেযাযাদি রিপোর্ট ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। অধিকাংশ শীর্ষনেতা গ্রেপ্তার, অসুস্থতা ও অনুপস্থিতিতে কা-ারিবিহীন হয়ে পড়েছে দলটি। ফলে বিরোধী দলের চলমান আন্দোলনে হঠাৎ করে নেমে এসেছে রাজনৈতিক 'সুনামি'। এ সুনামিতে সব কিছু ওলট-পালট হয়ে গতিহারা হয়ে পড়েছে দলটির তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত।
সূত্র জানায়, বিভিন্ন মামলায় কারাগারে রয়েছেন দলটির প্রায় দুই ডজন শীর্ষনেতা। এছাড়া জেলে আছেন দলটির বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতাকর্মী। আর যারা বাইরে আছেন তাদের মধ্যে বেশির ভাগ শীর্ষনেতাই শারীরিকভাবে অসুস্থ। এসব নেতার অবর্তমানে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না বিএনপি। কোনোভাবেই কোনো ইস্যুতে শক্ত আন্দোলন গড়ে তুলতে পারছে না। কথায় কথায় হরতাল ডাকলেও, তা শুধু ডাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে। হরতালে পুলিশ ও সাংবাদিকরা ছাড়া আর কেউ মাঠে থাকে না।
তৃণমূল নেতাদের অভিযোগ, দলের ক্রান্তিকালে বিভিন্ন সময় অনেক নেতা অসুস্থ হয়ে পড়েন। আবার অনেকে নিরাপদে থাকার জন্য স্বেচ্ছায় কারাবরণ করেন। আর যারা বাইরে থাকার পরও মামলা বা অসুস্থ হন না, তারা সরকারের সঙ্গে গোপন অাঁতাত করে তাদের পরামর্শে চলেন।
সাধারণ নেতাকর্মীদের মতে, নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা কিংবা অসুস্থতার কারণে দলটির এই পরিণতি নয়। দীর্ঘদিন ধরে অপেশাদার রাজনীতিকদের অধিক মূল্যায়ন করায় আজকের এই বাস্তবতা। অর্থের বিনিময়ে কিংবা অন্য বিশেষ কোনো সুবিধা পাওয়ার আশায় দলটিতে পদ প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ী, আইনজীবী, আমলা ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। এদের অনেকের মাঠে থেকে নেতৃত্ব দেয়ার মতো যোগ্যতা নেই। আবার এদের পদ প্রদান করতে গিয়ে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে অনেক ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা।
সূত্র মতে, দলের শীর্ষ নেতারা মাঠে না থাকায় বিরোধীদলীয় নেতার দেয়া ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ধোপে টেকেনি। সমাবেশ, হরতালসহ বিভিন্ন কর্মসূচি দেয়ার পরও তেমন কিছু করে উঠতে পারছে না দলটি। এ অবস্থায় বিরোধী দলের কোনো কর্মসূচি বা দাবিতে কর্ণপাত করছে না সরকার। ৫ মে মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের অবরোধ কর্মসূচিতে পুলিশের হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে পরের দিন সংবাদ সম্মেলন করে প্রেস নোটের দাবি জানায় বিএনপি। পক্ষান্তরে বায়তুল মোকাররমে কোরআন মাজিদ পোড়ানোর অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা দেবশীষ বিশ্বাসকে অভিযুক্ত করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার। এরপর দেবাশীষ তার বিরুদ্ধে মামলা করলে গা ঢাকা দেন বিএনপির এ প্রবীণ নেতা।
অন্যদিকে ৯ মে অজ্ঞাত কারণে রাত পৌনে ১১টার দিকে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল ও মতিঝিল থানা পুলিশ বিএনপির ভাইস- চেয়ারম্যান ও ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকার বাসা ঘেরাও করে তল্লাশি করে। কিন্তু তাকে বাসায় খুঁজে পাওয়া যায়নি। এরপর থেকে খোকাও লাপাত্তা।
এদিকে গলার রক্তনালীতে বস্নক ধরা পড়ায় জামিন পাওয়ার পর গত ১৩ মে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার জন্য দেশ ছেড়েছেন দলের শীর্ষনেতা ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এছাড়াও ১৫ মে দুপুরে সংবাদ সম্মেলন শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় নয়া পল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরকতউল্লাহ বুলুকে অজ্ঞাত কারণে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় ডিবি পুলিশ। শুধু তাই নয়- গ্রেপ্তার আতঙ্কে কার্যালয় থেকে বের হচ্ছেন না বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু। এর আগে ওই সংবাদ সম্মেলনে হরতালের কর্মসূচি দেয়া হয়। কিন্তু কা-ারীশূন্য বিএনপির দুরবস্থা এখন এতটাই যে, বিকালেই সেই হরতাল প্রত্যাহার করা হয়।
বিএনপির আইনজীবীরা বলেছেন, এই সরকার আসার পর বিভিন্ন সময়ে বিরোধী দলের নেতাদের নামে অসংখ্য মিথ্যা মামলা দিয়েছে। সেগুলো কোনোটা বিচারাধীন আছে, আবার কোনোটা তদন্তাধীন। এসব মামলায় বর্তমানে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, আবদুস সালাম পিন্টু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান, মো. শাহজাহান, সালাহউদ্দিন আহমদ, রুহুল কবির রিজভী, যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টু, সহ-তথ্য সম্পাদক হাবিবুর রশীদ হাবিবসহ কেন্দ্রীয় কমিটির অন্তত ২৮ জন নেতাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে।
এসবের বাইরে দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের অনেকেই শারীরিক অসুস্থতার কারণে দলীয় কার্যক্রমে অংশ নিতে পারছেন না। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে চিকিৎসাধীন। ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে আছেন। স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে এম শামসুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ । ড. আর এ গণিও বার্ধক্যজনিত কারণে প্রায় নিষ্ক্রিয়। দলের আপদকালীন যার ওপর বিএনপি ভরসা করে সেই তরিকুল ইসলামও অসুস্থতার কারণে বর্তমানে যশোর রয়েছেন। নজরুল ইসলাম খান দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে গত ৬ মার্চ পুলিশের গুলিতে আহত হন। তিনি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। বেগম সারোয়ারি রহমানও সিঙ্গাপুরের ডাক্তারদের পরামর্শে ঢাকায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। মির্জা আব্বাস বর্তমানে বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
উপদেষ্টা পরিষদের অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব উদ্দিন আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি সিঙ্গাপুর থেকে চিকিৎসা শেষে সমপ্রতি দেশে ফিরেছেন, ইকবাল হাসান মাহামুদ টুকু এবং আব্দুল মান্নানকে ডাক্তারের পরামর্শে চলতে হচ্ছে।
ভাইস চেয়ারম্যান বিচারপতি টিএইচ খান, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ। আব্দুল্লাহ আল নোমান এবং সাদেক হোসেন খোকাকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হচ্ছে। আব্দুস সালাম পিন্টু কারাগারে অসুস্থ রয়েছেন। সৈয়দা রাজিয়া ফয়েজ সৌদি আরবে চিকিৎসা শেষে সমপ্রতি দেশে ফিরেছেন।
এছাড়াও এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, শমসের মবিন চৌধুরী অসুস্থতা কাটিয়ে উঠেছেন বলে দপ্তরের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে।
যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান, মো. শাজাহান, সালাহউদ্দিন আহমেদ কারা হেফাজতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কাশিমপুর কারাগারে অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ অসুস্থ বলে তার স্বজনরা জানিয়েছেন।
এছাড়াও শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে চলছেন দলের প্রচার সম্পাদক জয়নুল আবদিন ফারুক। গত বছর হরতাল চলকালে পুলিশের লাঠিপেটায় তার পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায়। ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুস সালাম, যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুস সালাম আজাদও শারীরিকভাবে সুস্থ নন।
নেতাদের অসুস্থতা এবং কারাগারে আটক থাকায় দলীয় কার্যক্রম বিঘ্ন হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে দলের মুখপাত্র বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু বলেন, এটা সত্য যে দলের অধিকাংশ নেতাই কারাগারে আটক রয়েছেন এবং অনেকেই অসুস্থ। তারপরও দলীয় কার্যক্রমে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। কারণ বিএনপি চেয়ারপারসন নিজেই দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।
তিনি বলেন, স্থায়ী কমিটির ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, এমকে আনোয়ারসহ অনেকেই রয়েছেন তারাও পরামর্শ দিচ্ছেন। তাকে দলের মুখপাত্র হিসেবে দপ্তরের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সাংগঠনিক সম্পাদকরা তাদের দায়িত্ব পালন করছেন। সম্পাদক পদে যারা আছেন তারাও সক্রিয় রয়েছেন।
 

Warning: simplexml_load_file() [function.simplexml-load-file]: data_files/483/news_hit.xml:107: parser error : expected '>' in /home/jjdin/public_html/news_hit_update.php on line 4

Warning: simplexml_load_file() [function.simplexml-load-file]: <news_hit_6733>>15</news_hit_67334> in /home/jjdin/public_html/news_hit_update.php on line 4

Warning: simplexml_load_file() [function.simplexml-load-file]: ^ in /home/jjdin/public_html/news_hit_update.php on line 4

Fatal error: Call to undefined method stdClass::asXML() in /home/jjdin/public_html/news_hit_update.php on line 15