শনিবার, মে, ২৫, ২০১৩: জ্যৈষ্ঠ ১১, ১৪২০ বঙ্গাব্দ: ১৪ রজব , ১৪৩৪ হিজরি, ০৭ বছর, সংখ্যা ৩৪২ |
| গুগল ওয়েব অনুসন্ধান | অনুসন্ধান |
|
|
বিসিএস প্রশ্ন ফাঁসের
গুজব ছড়িয়ে কোটি
টাকার বাণিজ্যবিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার ৩৪তম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের নাম করে রাতভর লঙ্কাকা- করেছে প্রভাবশালী একটি চক্র। সেই সঙ্গে সাধারণ পরীক্ষার্থীদের প্রতারিত করে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। অন্যদিকে প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের এই দেনদরবার ও বাণিজ্য হলেও নূ্যনতম পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন।জানা যায়, ৩৪তম বিসিএস পরীক্ষার আগের দিন গত বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে প্রশ্ন ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজসহ রাজধানীর সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন কলেজের বিসিএস পরীক্ষার্থীর মধ্যে। এরপর সন্ধ্যার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ও নীলক্ষেত এলাকার ফটোকপির দোকানে বিভিন্ন গ্রুপে পরীক্ষার্থীদের ওই সব প্রশ্নের ফটোকপি করতে দেখা যায়। প্রতিটি প্রশ্নের সেটের জন্য ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা নেয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, পাবলিক লাইব্রেরি, ডাচ, বসুনিয়া চত্বর, পলাশীসহ বিভিন্ন স্থানে বৃহস্পতিবার সারা রাতই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীদের ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। অনেককে আবার রাত ২টায় পাওয়া হাতের লেখা প্রশ্নপত্রের কপি বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইটের আলোতে পড়তে দেখা যায়। এছাড়াও জসিমউদ্দীন হলের মাঠে সারা রাতই পরীক্ষার্থীদের জটলা দেখা গেছে। এদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করতে দেখা গেছে বিভিন্ন হলের ছাত্রলীগ নেতাদের। অনুসন্ধানে জানা যায়, ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি হলের নেতাদের নিয়ন্ত্রণে প্রশ্নপত্র বাণিজ্য পরিচালিত হয়। এক সেট প্রশ্নের জন্য ছাত্রলীগের ওই নেতাদের কাছে নির্দিষ্ট টাকার একটি বড় অংশ পরিশোধ করার পর অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ফটোকপি দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার রাতে সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, এফ রহমান ও জহুরুল হক হলের কয়েকটি রুমে পরীক্ষার্থীদের রেখে রাতভর ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের উত্তর পড়ানো হয়। বাইরে প্রশাসনের কাছে ধরা খাওয়ার ভয়ে হলের মধ্যেই এ কাজ করা হয় বলে জানা গেছে। এরমধ্যে এসএম হলের কয়েকটি রুমে রাত ১২টার পরই তালা মেরে সর্বসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। অনেককে আবার নিরাপত্তার স্বার্থে অন্য হলে স্থানান্তর করে রাতভর হাতে লেখা প্রশ্নপত্রের উত্তর পড়ানো হয়েছে। কয়েকজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ২৫ হাজার টাকার চুক্তিতে তারা রাতভর সেইসব রুমে পড়ালেখা করেছেন। এভাবে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার পরীক্ষার্থীর কাছে প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়েছে। এ জন্য একজন পরীক্ষার্থীকে অগ্রিম ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, রাতে জহুরুল হক হলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী প্রশ্নপত্র ক্রয়ের জন্য এলে প্রক্টরিয়াল টিমের জেরার মুখে পড়েন। এভাবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত তিন দফা হাতে লেখা প্রশ্ন ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীতে। আর এসব বিক্রি হয়েছে দেদার। তবে শুক্রবার অনুষ্ঠিত ফাঁস হওয়া এসব প্রশ্ন কমন পরেনি। কিন্তু ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা এ টাকা প্রভাবশালী নেতাদের কাছ থেকে আর ফেরত পাবেন না বলে জানা গেছে। এদিকে ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের এক শীর্ষ নেত্রী ইডেন কলেজে ফাঁসকৃত প্রশ্নপত্র সরবরাহ করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঢাবি ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের কাছে থাকা এ প্রশ্নপত্র বৃহস্পতিবার রাত ৩টা, শুক্রবার সকাল ৬টা ও সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিন দফা ভিন্ন ভিন্ন হাতে লেখা প্রশ্নপত্র এ প্রতিবেদকের হাতে আসে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, জহুরুল হক, এসএমএফ রহমান ও বঙ্গবন্ধু হলের চারজন অরাজনৈতিক শিক্ষার্থীর হাত ধরে ক্যাম্পাসে প্রশ্নপত্র আসে। তারা ক্যাম্পাসে প্রশ্ন ফাঁসের হোতা হিসেবে পরিচিত। এর আগেও তাদের বিরুদ্ধে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা, খাদ্য কর্মকর্তা, সহকারী শিক্ষা অফিসার, প্রাইমারিসহ নানা চাকরির প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ রয়েছে। এদের হাত ধরেই পরবর্তীতে ছাত্রলীগ নেতাদের হাতে যায় এসব প্রশ্নপত্র। এর আগে ৩৩তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় ক্যাম্পাসের কয়েকজন শীর্ষ ছাত্রলীগ নেতার পাশাপাশি ওই অরাজনৈতিক চারজনের নাম উঠে আসে। তবে প্রতিবারই তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। সাধারণ শিক্ষার্থীরা বারবার প্রতারণার শিকার হলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. এ এম আমজাদ বলেন, তারা রাতভর চেষ্টা করেছেন ফাঁসকৃত প্রশ্নপত্র উদ্ধারের। যা পেয়েছেন এগুলো প্রশ্ন নয়, সাজেশন্স। সাজেশন্স থেকে কিছু প্রশ্ন কমন পড়তেই পারে। শাহবাগ থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, তারা প্রশ্ন ফাঁসের খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গেই বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়েছেন। কোনো কিছুই উদ্ধার করতে পারেননি। পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান এ টি আহমেদুল হক চৌধুরী বলেন, প্রশ্ন ফাঁসের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। গুজব ছড়ানো হয়েছে। এর আগেও এ রকম ঘটনা ঘটেছে। যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেয়া উচিত। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) ৩৪তম পরীক্ষা গতকাল সকাল ১০টায় সারাদেশে একযোগে অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় সোয়া ২ লাখ চাকরি প্রার্থী এতে অংশ নেন। ১০০ নাম্বারের ওই প্রিলিমিনারি পরীক্ষা বেলা ১১টায় শেষ হয়। এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন |
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সর্বাধিক মতামত
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্ননারীরাই বাংলাদেশের সমাজকে বদলে দিয়েছে_ নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এই বক্তব্য আপনি
সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল |